নিরাপদ,স্মার্ট ও অপরাধমুক্ত ঢাকা গড়ে তুলতে
রাজধানীতে বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ করছে ডিএমপি
- আপডেট সময় : ০২:০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস) নামক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এই তথ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে ঢাকায় বসবাসরত বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যদের মৌলিক তথ্য নিবন্ধন, সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।
ডিএমপি জানায়, নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর রমনা থানা থেকে সফটওয়্যারভিত্তিক সিআইএমএস কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে ২০১৭ সালে এটি রাজধানীর সব থানায় সম্প্রসারণ করা হয় এবং ২০১৯ সালে নাগরিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে চালু করা হয় সিআইএমএস (CIMS) মোবাইল অ্যাপ।
বর্তমানে সিআইএমএস ডাটাবেজে প্রায় ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ২৩৮টি পরিবারের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এতে ৫০ লাখের বেশি নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। ডিএমপির মতে, ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীতে বসবাসরত সব নাগরিকের এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
ডিএমপি জানায়, সিআইএমএসে সংরক্ষিত সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে। পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তি শনাক্ত, সন্দেহভাজনদের পরিচয় যাচাই এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে সিআইএমএস ফরম পাওয়া যায়। নিবন্ধনের জন্য নাগরিকরা ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে পারবেন। ফরম জমা দেওয়ার আগে একটি ফটোকপি নিজের কাছে সংরক্ষণ রাখার পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি। এছাড়া, ঠিকানা পরিবর্তন হলে নতুন এলাকার সংশ্লিষ্ট থানায় পুনরায় নিবন্ধন করতে হবে।
ডিএমপির ভাষ্য, প্রতিটি থানা একাধিক বিটে বিভক্ত এবং প্রতিটি বিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট অফিসার রয়েছেন। প্রয়োজনে নাগরিকরা সরাসরি বিট অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশি সহায়তা নিতে পারবেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, সিআইএমএসে নিবন্ধনের মাধ্যমে বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়ার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন। এতে অপরাধী বা প্রতারকদের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ কমে যায় এবং বাড়িওয়ালারাও অযথা হয়রানির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পান। অন্যদিকে, ভাড়াটিয়ারা সংশ্লিষ্ট বিট অফিসারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে দ্রুত আইনি সহায়তা ও পরিচয় যাচাইয়ের সুবিধা লাভ করেন।
ডিএমপি আরও জানায়, সিআইএমএস ডাটাবেজ অপরাধ তদন্তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে পলাতক অপরাধী শনাক্ত, সন্দেহভাজনদের তথ্য যাচাই এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে, বিট পুলিশিং কার্যক্রম শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি জনগণ ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়ছে।
নিরাপদ, স্মার্ট ও অপরাধমুক্ত ঢাকা গড়ে তুলতে রাজধানীর সব বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যকে সিআইএমএসে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
ডিএমপির আহ্বান– নিজের তথ্য নিবন্ধন করুন, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন এবং নিরাপদ ঢাকা গড়তে সহযোগিতা করুন।























