বেতন বৈষম্যের অবসান চান সাংবাদিকরা, নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ চিফ রিপোর্টাররা!
- আপডেট সময় : ১১:১৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক।। সাংবাদিকদের নবম ওয়েজ বোর্ড দ্রুত বাস্তবায়ন, সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন-ভাতা, পেশাগত নিরাপত্তা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-কে আধুনিক ও স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের দাবিতে সরব হয়েছেন দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সংবাদ সংস্থা, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের চিফ রিপোর্টাররা।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত চিফ রিপোর্টারদের মতবিনিময় সভায় এসব দাবি উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি!
মুক্ত আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য ও নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়টি।দৈনিক আমার দেশ-এর চিফ রিপোর্টার এম আবদুল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালের পর সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো কার্যত স্থবির হয়ে আছে। সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংবাদিকদের জন্যও অবিলম্বে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ ও নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করতে হবে।তিনি ডিআরইউসহ সব সাংবাদিক সংগঠনকে এ দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে অবসরভাতা ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করারও দাবি জানান।রাইজিংবিডির নইমুদ্দিন বলেন, প্রিন্ট, অনলাইন ও টেলিভিশন,সব ধরনের সাংবাদিকের জন্য একই ওয়েজ বোর্ড কার্যকর করতে হবে, যাতে কোনো গণমাধ্যমকর্মী বৈষম্যের শিকার না হন।
দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশের দাবি!
আলোচনায় সাংবাদিকদের জন্য সাপ্তাহিক দুই দিন ছুটি কার্যকর, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং পেশাগত মর্যাদা রক্ষার বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।আজকের পত্রিকার শহীদুল ইসলাম খান বলেন, সাংবাদিকদের নিরবচ্ছিন্ন কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত চাপ কমাতে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ডিআরইউ চায় চিফ রিপোর্টাররা!
ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সমকালের মসিউর রহমান খান বলেন, সাংবাদিকদের সর্ববৃহৎ সংগঠনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পরিচালনা করতে হবে।বাসস (ইংরেজি)-এর রাজিব হোসেনও ডিআরইউর অরাজনৈতিক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।অন্যদিকে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর আবুল কাশেম বলেন, সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় ডিআরইউকে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে এবং সংগঠনের আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে সরকারি অনুদানসহ বিভিন্ন আয়ের উৎস সৃষ্টি করতে হবে।
এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতায় দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান!
সভায় অংশ নেওয়া চিফ রিপোর্টাররা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডেটা জার্নালিজম, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টিং এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন ছাড়া ভবিষ্যতের সাংবাদিকতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।বাসস-এর দিদারুল আলম নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন।মানবজমিন-এর লুৎফর রহমান বলেন, গুণগত সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।কালের কণ্ঠ-এর শরিফুল আলম সুমন প্রতি বছর এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজনের প্রস্তাব দেন।সময়ের আলো-এর মামুন হোসেন সদস্যদের জন্য ফেলোশিপ চালু এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
ডিআরইউতে আসছে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, হেলথ কর্নার ও আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স!
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল জানান, বর্তমান কমিটি শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রম নয়, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করছে।তিনি জানান, খুব শিগগিরই ডিআরইউ প্রাঙ্গণে আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স, সদস্যদের জন্য হেলথ কর্নার, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং সংগঠনের স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।ডিআরইউর তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল জানান, নতুন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে সদস্যদের পাশাপাশি তাদের সন্তানদের জন্য ইংরেজি ভাষা, চীনা ভাষা, অ্যাবাকাস, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু করা হবে।
সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে ডিআরইউ থাকবে অগ্রভাগে!
সভাপতির বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অধিকার আদায়ে ডিআরইউ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকরা নিম্ন বেতন, চাকরির অনিশ্চয়তা, হামলা-মামলা এবং নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা সংকটের মুখোমুখি। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে ডিআরইউ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।সভায় ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধাসহ কার্যনির্বাহী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা, পেশাগত নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার দাবিই আবারও জোরালোভাবে সামনে এলো চিফ রিপোর্টারদের এই মতবিনিময় সভায়।এখন দেখার বিষয়,ডিআরইউ ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ দাবি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কতটা গুরুত্ব পায় এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
























