০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশাল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং মহিলা টিটিসি’র উদ্যোগে নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত চীনে কাঁকড়া-কুঁচিয়া রপ্তানি-নমুনা সংগ্রহে ‘বৈষম্য’ ও অনিয়মের অভিযোগ, সংকটে শত শত ব্যবসায়ী। সুনামের ঢাল, নাকি প্রশ্নের মুখোমুখি চিকিৎসা? রাজেন্দ্রপুরে চলন্ত গাড়িতে ছাবল! গভীর রাতে ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগ। চেয়ারম্যান পদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ দুলাল বিক্রয় বৃদ্ধি থেকে গ্রাহকসেবা-বরিশালে ১২০ ব্যবসায়ীকে নিয়ে এমইপি গ্রুপের দিনব্যাপী সম্মেলন বাদী সাজিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন! বিল্লাল হত্যা-সন্ত্রাসী বাবু’সহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে স্বজনদের আগুনঝরা মানববন্ধন। একটি কলমের নীরবতা এবং কিছু না বলা হাহাকার-সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির অন্তিম যাত্রা! তালাক ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ, বরিশালে স্বামীর থানায় লিখিত অভিযোগ!

ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন, ভোলা-বরিশাল সেতু, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং ইপিজেডের দাবি দীর্ঘদিনের

বরিশাল বাসির প্রানের দাবি এই চার মেগা প্রকল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ৪১৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশাল ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক, ভোলা-বরিশাল সেতু, দক্ষিণাঞ্চলে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং বরিশালে রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রায় দুই বছর ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মানুষ। সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে নতুন কোনো বরাদ্দ বা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ইপিজেড প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথা জানা গেলেও বাকি তিনটি প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষ হতাশ। এ জন্য ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা একাধিকবার মানববন্ধন, স্মারকলিপি, গণসমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্পের বড় অংশ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে গেলেও বরিশাল বিভাগের অংশ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের মতো বর্তমান সময়েও দক্ষিণাঞ্চলের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়নি।তাদের আরও অভিযোগ, ভোলা-বরিশাল সেতু বা ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়কের মতো দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই। পায়রা বন্দর থাকা সত্ত্বেও বরিশাল প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত।

নগর চিন্তাবিদদের মতে, মোট জাতীয় বাজেটের মাত্র ০.৮৬ শতাংশ বরাদ্দ পাওয়ায় বরিশালের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান কাক্সিক্ষত গতিতে এগোচ্ছে না। দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্যে আরও জোরালো করেছে।

নগরীর বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বলেন, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন মহাসড়ক কোনো বিলাসিতা নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার। আমরা ভিক্ষা চাই না, আমাদের প্রাপ্য উন্নয়ন চাই।

গোলাম রাব্বানী বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক এখনো সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং ইপিজেড প্রতিষ্ঠা হলে শিল্পায়ন, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তন আসবে।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে। কিন্তু এবারের বাজেটে কোনো বরাদ্দ না থাকায় ব্যবসায়ী সমাজ হতাশ।

কৃষি, মৎস্য, পর্যটন, নৌপরিবহন ও সমুদ্র অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও বরিশাল এখনো অবকাঠামোগত বিনিয়োগে পিছিয়ে রয়েছে।

আগামী সংশোধিত বাজেট বা নতুন উন্নয়ন কর্মসূচিতে চারটি প্রকল্পের জন্য পৃথক বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন, ভোলা-বরিশাল সেতু, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং ইপিজেডের দাবি দীর্ঘদিনের

বরিশাল বাসির প্রানের দাবি এই চার মেগা প্রকল্প

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশাল ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক, ভোলা-বরিশাল সেতু, দক্ষিণাঞ্চলে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং বরিশালে রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রায় দুই বছর ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মানুষ। সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে নতুন কোনো বরাদ্দ বা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ইপিজেড প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথা জানা গেলেও বাকি তিনটি প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষ হতাশ। এ জন্য ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা একাধিকবার মানববন্ধন, স্মারকলিপি, গণসমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্পের বড় অংশ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে গেলেও বরিশাল বিভাগের অংশ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের মতো বর্তমান সময়েও দক্ষিণাঞ্চলের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়নি।তাদের আরও অভিযোগ, ভোলা-বরিশাল সেতু বা ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়কের মতো দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই। পায়রা বন্দর থাকা সত্ত্বেও বরিশাল প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত।

নগর চিন্তাবিদদের মতে, মোট জাতীয় বাজেটের মাত্র ০.৮৬ শতাংশ বরাদ্দ পাওয়ায় বরিশালের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান কাক্সিক্ষত গতিতে এগোচ্ছে না। দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্যে আরও জোরালো করেছে।

নগরীর বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বলেন, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন মহাসড়ক কোনো বিলাসিতা নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার। আমরা ভিক্ষা চাই না, আমাদের প্রাপ্য উন্নয়ন চাই।

গোলাম রাব্বানী বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক এখনো সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং ইপিজেড প্রতিষ্ঠা হলে শিল্পায়ন, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তন আসবে।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে। কিন্তু এবারের বাজেটে কোনো বরাদ্দ না থাকায় ব্যবসায়ী সমাজ হতাশ।

কৃষি, মৎস্য, পর্যটন, নৌপরিবহন ও সমুদ্র অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও বরিশাল এখনো অবকাঠামোগত বিনিয়োগে পিছিয়ে রয়েছে।

আগামী সংশোধিত বাজেট বা নতুন উন্নয়ন কর্মসূচিতে চারটি প্রকল্পের জন্য পৃথক বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।