১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল বিআরটিসিতে জুলফিকারকে ঘিরে অভিযোগের ঝড়, ‘সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কি এখনো ‘আওয়ামী লীগের ঘাঁটি?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।।ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন এলেও বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোতে এখনো পূর্বের প্রভাবশালী একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে,এমন অভিযোগ তুলেছেন একাধিক চালক, কন্ডাকটর ও সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের এক নেতার প্রভাব এবং ডিপোর কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে বিআরটিসিতে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিআরটিসির চেয়ারম্যানের শ্যালক ও বরিশাল কলেজের সাবেক ভিপি, মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের প্রভাবেই বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।একই সঙ্গে অপারেশন ম্যানেজার জুলফিকার, শ্রমিক লীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি এবং কয়েকজন চালক-কন্ডাকটরের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সূত্র জানায়, বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে বর্তমানে প্রায় ৫৩টি বাস বিভিন্ন রুটে যাত্রীসেবা দিয়ে থাকে। এসব বাস চালক ও কন্ডাকটরের নামে পরিচালিত হলেও, অভিযোগ রয়েছে প্রতিটি ট্রিপ পরিচালনার জন্য সরকারি রাজস্বের বাইরে অতিরিক্ত প্রতি ট্রিপে ১ হাজার টাকা আদায় করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এই অতিরিক্ত অর্থ অপারেশন ম্যানেজার জুলফিকার সংগ্রহ করেন এবং এর একটি অংশ প্রভাবশালী মহলে পৌঁছে দেওয়া হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ডিপোতে যোগদানের পর থেকেই অপারেশন ম্যানেজার জুলফিকার বদলির ভয় দেখিয়ে চালক-কন্ডাকটরদের কাছ থেকে নিয়মিত এই অর্থ আদায় করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ আদায়ের পেছনে চেয়ারম্যানের শ্যালক জাকির হোসেনের প্রভাবও কাজ করছে।

একাধিক সূত্র আরও দাবি করেছে, চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোল্লা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জাকির হোসেনের সঙ্গে ডিপো ম্যানেজার জুলফিকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস পরিচালনা, চালক-কন্ডাকটরের নাম ব্যবহার এবং আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক ও কন্ডাকটর বলেন,বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপো এখনো আগের প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণে। বিগত সরকারের সময় যাদের প্রভাব ছিল, তারাই এখনো সক্রিয়। নতুন করে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ডিপো ম্যানেজার জুলফিকার ও চেয়ারম্যানের শ্যালক জাকির। ফলে সাধারণ চালক-কন্ডাকটররা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে অপারেশন ম্যানেজার জুলফিকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, আপনারা তো এসব নিউজই খোঁজেন।তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে অভিযুক্ত জাকির হোসেন,বিআরটিসির চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোল্লা কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিআরটিসিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বরিশাল বিআরটিসিতে জুলফিকারকে ঘিরে অভিযোগের ঝড়, ‘সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কি এখনো ‘আওয়ামী লীগের ঘাঁটি?

আপডেট সময় : ০৯:২৯:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।।ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন এলেও বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোতে এখনো পূর্বের প্রভাবশালী একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে,এমন অভিযোগ তুলেছেন একাধিক চালক, কন্ডাকটর ও সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের এক নেতার প্রভাব এবং ডিপোর কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে বিআরটিসিতে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিআরটিসির চেয়ারম্যানের শ্যালক ও বরিশাল কলেজের সাবেক ভিপি, মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের প্রভাবেই বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।একই সঙ্গে অপারেশন ম্যানেজার জুলফিকার, শ্রমিক লীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি এবং কয়েকজন চালক-কন্ডাকটরের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সূত্র জানায়, বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে বর্তমানে প্রায় ৫৩টি বাস বিভিন্ন রুটে যাত্রীসেবা দিয়ে থাকে। এসব বাস চালক ও কন্ডাকটরের নামে পরিচালিত হলেও, অভিযোগ রয়েছে প্রতিটি ট্রিপ পরিচালনার জন্য সরকারি রাজস্বের বাইরে অতিরিক্ত প্রতি ট্রিপে ১ হাজার টাকা আদায় করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এই অতিরিক্ত অর্থ অপারেশন ম্যানেজার জুলফিকার সংগ্রহ করেন এবং এর একটি অংশ প্রভাবশালী মহলে পৌঁছে দেওয়া হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ডিপোতে যোগদানের পর থেকেই অপারেশন ম্যানেজার জুলফিকার বদলির ভয় দেখিয়ে চালক-কন্ডাকটরদের কাছ থেকে নিয়মিত এই অর্থ আদায় করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ আদায়ের পেছনে চেয়ারম্যানের শ্যালক জাকির হোসেনের প্রভাবও কাজ করছে।

একাধিক সূত্র আরও দাবি করেছে, চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোল্লা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জাকির হোসেনের সঙ্গে ডিপো ম্যানেজার জুলফিকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস পরিচালনা, চালক-কন্ডাকটরের নাম ব্যবহার এবং আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক ও কন্ডাকটর বলেন,বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপো এখনো আগের প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণে। বিগত সরকারের সময় যাদের প্রভাব ছিল, তারাই এখনো সক্রিয়। নতুন করে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ডিপো ম্যানেজার জুলফিকার ও চেয়ারম্যানের শ্যালক জাকির। ফলে সাধারণ চালক-কন্ডাকটররা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে অপারেশন ম্যানেজার জুলফিকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, আপনারা তো এসব নিউজই খোঁজেন।তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে অভিযুক্ত জাকির হোসেন,বিআরটিসির চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোল্লা কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিআরটিসিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।