০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাবের বার্তা!

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যবসায়িক চর্চাকে আরও এগিয়ে নিতে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬’। শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং সামাজিক উদ্যোক্তারা অংশ নেন।

 

এটি ছিল সামিটটির চতুর্থ সংস্করণ, যা আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ। এটি বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের একটি উদ্যোগ। সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল আকিজ বশির গ্রুপ। সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)। এছাড়া সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও বিজিএমইএ।

টেকসই উন্নয়নে দায়িত্বশীল ব্যবসার ওপর জোর!

 

সম্মেলনে মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাব’ এবং ‘কমপ্লায়েন্স থেকে দায়িত্বশীল আচরণে উত্তরণ’। বক্তারা বলেন, টেকসইতা এখন আর কেবল করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (CSR) বিষয় নয়; বরং এটি ব্যবসায়িক কৌশল, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি।দিনব্যাপী আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ৩টি কি-নোট সেশন, ২টি প্যানেল আলোচনা, ৩টি ইনসাইট সেশন, ২টি কেস স্টাডি, একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ এবং একটি পলিসি ডায়ালগ। এসব সেশনে টেকসই ব্যবসা, পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন, ইএসজি (ESG) রিপোর্টিং, দায়িত্বশীল সাপ্লাই চেইন, কার্বন মার্কেট এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

উদ্বোধনী বক্তব্য!

 

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন,টেকসইতা এখন আর বছরে একবার আলোচনা করে ফেলে রাখার বিষয় নয়। এটি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মূল দর্শন ও কার্যক্রমের অংশ হওয়া উচিত। বাংলাদেশ যখন ২০৩০ সালের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং এলডিসি উত্তরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দায়িত্বশীল ব্যবসাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ভিত্তি।তিনি আরও বলেন, এখনই সময় দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাব এবং কমপ্লায়েন্স থেকে দায়িত্বশীল আচরণে উত্তরণের।

 

কী-নোট সেশনে বৈশ্বিক ও জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি!

 

সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান ‘Sustainable Finance: Mobilizing Capital for Bangladesh’s Green Transition’ শীর্ষক বক্তব্যে বলেন, দেশের সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে পুঁজিবাজার ও পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।ভার্চুয়াল সেশনে অংশ নেন বিশ্বখ্যাত মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ফিলিপ কটলার এবং রেসইন্ট সাসটেইনেবিলিটি ইনস্টিটিউট, কানাডার প্রেসিডেন্ট ড. খালিদ হাসান। তারা ব্যবসা ও ব্র্যান্ড কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি করতে পারে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন।এছাড়া হিন্দুস্তান ইউনিলিভার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শ্রামন ঝা বলেন, বর্তমানে টেকসইতা ব্যবসার প্রান্তিক বিষয় নয়; বরং এটি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

 

দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ!

 

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন,এম মাসরুর রিয়াজ (পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ)ড. মেলিতা মেহজাবীন (আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়),মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী (লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ),সায়েফ নাসির (এসএমসি এন্টারপ্রাইজ),ইয়াসির আজমান (গ্রামীণফোন),সাব্বির হাসান নাসির (এসিআই লজিস্টিকস-স্বপ্ন),বিদ্যা অমৃত খান (বিজিএমইএ),মোহাম্মদ জাহিদুল্লাহ (ডিবিএল গ্রুপ),নুজহাত আনোয়ার (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ),কে এ এম মোরশেদ (ব্র্যাক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নুরুন্নবীসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীরা।

 

টেকসই ব্যবসা, ESG ও বিদেশি বিনিয়োগ!

 

ইনসাইট সেশনগুলোতে আলোচনা হয়, কীভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দায়বদ্ধতাকে পরিমাপযোগ্য মূল্য সৃষ্টিতে রূপান্তর করছে এবং তথ্যভিত্তিক ESG রিপোর্টিং বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠছে।প্যানেল আলোচনায় উঠে আসে,বোর্ডরুম থেকে বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রমে টেকসইতা অন্তর্ভুক্তির কৌশল,বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বৈশ্বিক দায়িত্বশীল ব্যবসার নতুন মানদণ্ড,কার্বন মার্কেটের সম্ভাবনা, দায়িত্বশীল সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা,টেকসই উন্নয়নে কার্যকর নীতিমালা ও অংশীদারিত্বের গুরুত্ব।

সমাপনী পলিসি ডায়ালগে বক্তারা একমত হন যে, দায়িত্বশীল ব্যবসা এখন আর কোনো বিকল্প নয়; ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য এটি অপরিহার্য শর্ত।

 

এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড!

 

দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস গালা’। পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতিতে পরিমাপযোগ্য ইতিবাচক অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ সময় সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা!

 

সামিটের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ছিল ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাসোসিয়েশন (IAA) বাংলাদেশ, এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন (AMF) এবং মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (MSB)। এছাড়া ব্যাকপেজ পিআর ছিল পিআর পার্টনার, টার্কিশ এয়ারলাইনস ছিল অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার এবং র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল ঢাকা ছিল হসপিটালিটি পার্টনার।

 

সামগ্রিকভাবে, সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬ দেশের বেসরকারি খাতে টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চা এবং জাতীয় এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখে। বক্তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন অংশীদারদের যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাবের বার্তা!

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬

আপডেট সময় : ০৫:০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যবসায়িক চর্চাকে আরও এগিয়ে নিতে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬’। শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং সামাজিক উদ্যোক্তারা অংশ নেন।

 

এটি ছিল সামিটটির চতুর্থ সংস্করণ, যা আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ। এটি বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের একটি উদ্যোগ। সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল আকিজ বশির গ্রুপ। সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)। এছাড়া সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও বিজিএমইএ।

টেকসই উন্নয়নে দায়িত্বশীল ব্যবসার ওপর জোর!

 

সম্মেলনে মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাব’ এবং ‘কমপ্লায়েন্স থেকে দায়িত্বশীল আচরণে উত্তরণ’। বক্তারা বলেন, টেকসইতা এখন আর কেবল করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (CSR) বিষয় নয়; বরং এটি ব্যবসায়িক কৌশল, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি।দিনব্যাপী আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ৩টি কি-নোট সেশন, ২টি প্যানেল আলোচনা, ৩টি ইনসাইট সেশন, ২টি কেস স্টাডি, একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ এবং একটি পলিসি ডায়ালগ। এসব সেশনে টেকসই ব্যবসা, পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন, ইএসজি (ESG) রিপোর্টিং, দায়িত্বশীল সাপ্লাই চেইন, কার্বন মার্কেট এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

উদ্বোধনী বক্তব্য!

 

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন,টেকসইতা এখন আর বছরে একবার আলোচনা করে ফেলে রাখার বিষয় নয়। এটি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মূল দর্শন ও কার্যক্রমের অংশ হওয়া উচিত। বাংলাদেশ যখন ২০৩০ সালের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং এলডিসি উত্তরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দায়িত্বশীল ব্যবসাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ভিত্তি।তিনি আরও বলেন, এখনই সময় দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাব এবং কমপ্লায়েন্স থেকে দায়িত্বশীল আচরণে উত্তরণের।

 

কী-নোট সেশনে বৈশ্বিক ও জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি!

 

সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান ‘Sustainable Finance: Mobilizing Capital for Bangladesh’s Green Transition’ শীর্ষক বক্তব্যে বলেন, দেশের সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে পুঁজিবাজার ও পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।ভার্চুয়াল সেশনে অংশ নেন বিশ্বখ্যাত মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ফিলিপ কটলার এবং রেসইন্ট সাসটেইনেবিলিটি ইনস্টিটিউট, কানাডার প্রেসিডেন্ট ড. খালিদ হাসান। তারা ব্যবসা ও ব্র্যান্ড কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি করতে পারে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন।এছাড়া হিন্দুস্তান ইউনিলিভার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শ্রামন ঝা বলেন, বর্তমানে টেকসইতা ব্যবসার প্রান্তিক বিষয় নয়; বরং এটি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

 

দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ!

 

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন,এম মাসরুর রিয়াজ (পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ)ড. মেলিতা মেহজাবীন (আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়),মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী (লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ),সায়েফ নাসির (এসএমসি এন্টারপ্রাইজ),ইয়াসির আজমান (গ্রামীণফোন),সাব্বির হাসান নাসির (এসিআই লজিস্টিকস-স্বপ্ন),বিদ্যা অমৃত খান (বিজিএমইএ),মোহাম্মদ জাহিদুল্লাহ (ডিবিএল গ্রুপ),নুজহাত আনোয়ার (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ),কে এ এম মোরশেদ (ব্র্যাক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নুরুন্নবীসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীরা।

 

টেকসই ব্যবসা, ESG ও বিদেশি বিনিয়োগ!

 

ইনসাইট সেশনগুলোতে আলোচনা হয়, কীভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দায়বদ্ধতাকে পরিমাপযোগ্য মূল্য সৃষ্টিতে রূপান্তর করছে এবং তথ্যভিত্তিক ESG রিপোর্টিং বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠছে।প্যানেল আলোচনায় উঠে আসে,বোর্ডরুম থেকে বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রমে টেকসইতা অন্তর্ভুক্তির কৌশল,বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বৈশ্বিক দায়িত্বশীল ব্যবসার নতুন মানদণ্ড,কার্বন মার্কেটের সম্ভাবনা, দায়িত্বশীল সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা,টেকসই উন্নয়নে কার্যকর নীতিমালা ও অংশীদারিত্বের গুরুত্ব।

সমাপনী পলিসি ডায়ালগে বক্তারা একমত হন যে, দায়িত্বশীল ব্যবসা এখন আর কোনো বিকল্প নয়; ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য এটি অপরিহার্য শর্ত।

 

এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড!

 

দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস গালা’। পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতিতে পরিমাপযোগ্য ইতিবাচক অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ সময় সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা!

 

সামিটের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ছিল ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাসোসিয়েশন (IAA) বাংলাদেশ, এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন (AMF) এবং মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (MSB)। এছাড়া ব্যাকপেজ পিআর ছিল পিআর পার্টনার, টার্কিশ এয়ারলাইনস ছিল অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার এবং র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল ঢাকা ছিল হসপিটালিটি পার্টনার।

 

সামগ্রিকভাবে, সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬ দেশের বেসরকারি খাতে টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চা এবং জাতীয় এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখে। বক্তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন অংশীদারদের যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।