বঙ্গোপসাগরে নৌকা ডুবে ৫৩০ রোহিঙ্গার মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০২:৫০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

বঙ্গোপসাগরের মিয়ানমার উপকূলে দুটি নৌকা ডুবে ৫৩০ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। গতকাল জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আইওএম এবং শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক যৌথ বিবৃতিতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাগরে নিখোঁজ হওয়া যাত্রীদের মধ্যে আর কেউ জীবিত আছে এমন কোনো আশা দেখছেন না উদ্ধারকারীরা। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, জুনের শেষদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নৌকা দুটি যাত্রা শুরু করে।
দুটি নৌকায় ৫০০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। তাদের বেশির ভাগই জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা। যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থীশিবির থেকে আসা রোহিঙ্গারাও ছিলেন। ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও সম্ভাব্য প্রাণহানির ঘটনায় সংস্থা দুটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর আশায় ছোট ছোট কাঠের নৌকায় চড়ে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করে থাকেন। মিয়ানমারে সহিংসতা এবং বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থীশিবিরের কঠিন জীবনযাপন তাদের এমন ঝুঁকি নিতে বাধ্য করছে।
ইউএনএইচসিআর ও আইওএম বলছে, সর্বশেষ ঘটনায় প্রায় ২৫০ আরোহী নিয়ে অন্য একটি নৌকা নিয়ে যাত্রার কিছুক্ষণ পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর প্রায় ২৮০ আরোহী নিয়ে আরেকটি নৌকা ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এসব নৌযাত্রা নিয়মিত মৌসুমের বাইরে হওয়ায় সে সময় সমুদ্রের পরিস্থিতি ছিল আরও বেশি প্রতিকূল ও ঝুঁকিপূর্ণ।
সংস্থা দুটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরও আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৩০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিক নিখোঁজ হয়েছে বা মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য এ পথ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সমুদ্রপথে পরিণত হয়েছে।





















