০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্থগিতাদেশের পরও নামজারি! আওয়ামী চক্র পুনর্বাসনের চেষ্টা আইসিটি বিভাগে- দেখার কেউ নেই তেলের দাম কবে কমবে? যা বললেন ট্রাম্প অটোরিকশার অবৈধ চার্জিংয়ে বিদ্যুতের বড় অপচয়, ঢাকায় শনাক্ত ৪৮ হাজার পয়েন্ট ভাইভা নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে খুবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ হাসিনার বক্তব্যে ভারতের সম্পৃক্ততা নেই: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা শ্বেতপত্রের সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী চাঁদা না দিলে জমি দখল? ঝিনাইদহে ব্যবসায়ী আনোয়ারুজ্জামান আজাদকে হুমকির অভিযোগ, তোলপাড়! ঘুষের টাকায় ‘রাজপ্রাসাদ’! বরিশালে প্রকৌশলী জামালের ‘মেঘের পলক’ ঘিরে তোলপাড়! ফেনীতে কৃষকদল নেতা আমিনুল হক ব/হি/ষ্কার

স্থগিতাদেশের পরও নামজারি!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডেমরা এসিল্যান্ড রাকিবুল ইসলামকে ঘিরে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার।। আদালতের স্থগিতাদেশ, ঊর্ধ্বতন রাজস্ব কর্মকর্তার আপিল এবং পরবর্তী বাতিল আদেশ,কোনোটিই যেন থামাতে পারেনি ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের কথিত নামজারি সিন্ডিকেটকে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে নামজারি প্রদান, প্রায় এক কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন এবং ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নামজারি মামলা নং ১২৬৯১/২৫-২৬। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে মো. মাহামুদুল হাসান মুরাদ দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট তফসিলভুক্ত সম্পত্তি নিয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চলমান থাকার বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ওই সম্পত্তির নামজারি দেওয়া হয়।অভিযোগকারীর দাবি, নামজারির সুবিধাভোগী জনৈক রাম আনন্দ মন্ডলকে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে নামজারি করে দেওয়া হয়েছে।প্রক্রিয়ায় প্রায় এক কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছেবাতিলের আদেশের পরও বাস্তবায়নে বিলম্ব কেন?অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি পরবর্তীতে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব), ঢাকা-এর আপিল আদালত পর্যন্ত গড়ায়। অভিযোগকারীর দাবি, ১৭ আগস্ট ২০২৬ শুনানি শেষে ১২৬৯১/২৫-২৬ নম্বর নামজারি বাতিলের আদেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু অভিযোগকারীর প্রশ্ন,ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশের পরও সেটি বাস্তবায়নে বিলম্ব কেন?
তার অভিযোগ, বাতিল আদেশ বাস্তবায়নের পরিবর্তে ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নানা ধরনের তালবাহানা করছেন। এতে শুধু নামজারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাই নয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সরকারি জমি কি যাচ্ছে ব্যক্তির নামে?
অভিযোগপত্রে আরও গুরুতর দাবি করা হয়েছে, ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে একাধিক সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করে দেওয়ার চেষ্টা বা প্রক্রিয়া হয়েছে।

যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এটি কেবল একটি নামজারি মামলার অনিয়ম নয়; বরং সরকারি সম্পত্তির মালিকানা ও ভূমি প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করে।এখন প্রশ্ন উঠছে,আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় নামজারি কীভাবে হলো? ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বাতিল আদেশের পরও বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ কী? আর সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি দেওয়ার অভিযোগের পেছনে কারা রয়েছেন?

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ডেমরা রাজস্ব সার্কেল মো. রাকিবুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না,এখন সেটিই দেখার বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্থগিতাদেশের পরও নামজারি!

আপডেট সময় : ০২:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেমরা এসিল্যান্ড রাকিবুল ইসলামকে ঘিরে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার।। আদালতের স্থগিতাদেশ, ঊর্ধ্বতন রাজস্ব কর্মকর্তার আপিল এবং পরবর্তী বাতিল আদেশ,কোনোটিই যেন থামাতে পারেনি ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের কথিত নামজারি সিন্ডিকেটকে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে নামজারি প্রদান, প্রায় এক কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন এবং ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নামজারি মামলা নং ১২৬৯১/২৫-২৬। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে মো. মাহামুদুল হাসান মুরাদ দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট তফসিলভুক্ত সম্পত্তি নিয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চলমান থাকার বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ওই সম্পত্তির নামজারি দেওয়া হয়।অভিযোগকারীর দাবি, নামজারির সুবিধাভোগী জনৈক রাম আনন্দ মন্ডলকে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে নামজারি করে দেওয়া হয়েছে।প্রক্রিয়ায় প্রায় এক কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছেবাতিলের আদেশের পরও বাস্তবায়নে বিলম্ব কেন?অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি পরবর্তীতে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব), ঢাকা-এর আপিল আদালত পর্যন্ত গড়ায়। অভিযোগকারীর দাবি, ১৭ আগস্ট ২০২৬ শুনানি শেষে ১২৬৯১/২৫-২৬ নম্বর নামজারি বাতিলের আদেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু অভিযোগকারীর প্রশ্ন,ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশের পরও সেটি বাস্তবায়নে বিলম্ব কেন?
তার অভিযোগ, বাতিল আদেশ বাস্তবায়নের পরিবর্তে ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নানা ধরনের তালবাহানা করছেন। এতে শুধু নামজারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাই নয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সরকারি জমি কি যাচ্ছে ব্যক্তির নামে?
অভিযোগপত্রে আরও গুরুতর দাবি করা হয়েছে, ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে একাধিক সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করে দেওয়ার চেষ্টা বা প্রক্রিয়া হয়েছে।

যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এটি কেবল একটি নামজারি মামলার অনিয়ম নয়; বরং সরকারি সম্পত্তির মালিকানা ও ভূমি প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করে।এখন প্রশ্ন উঠছে,আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় নামজারি কীভাবে হলো? ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বাতিল আদেশের পরও বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ কী? আর সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি দেওয়ার অভিযোগের পেছনে কারা রয়েছেন?

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ডেমরা রাজস্ব সার্কেল মো. রাকিবুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না,এখন সেটিই দেখার বিষয়।