১১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবিতকে মৃত দেখিয়ে ভাতা বাতিলের অভিযোগ! জাহিদ মোল্লাকে ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক।। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাৎ সুবিধাভোগীদের অজান্তে মোবাইল নম্বর পরিবর্তন, ভাতার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা মৃত দেখিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ আছে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সাধারণ মানুষ সরকারের বরাদ্দকৃত বিভিন্ন অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত আবার অর্থ গ্রহণ করতে গিয়ে শিকার হচ্ছেন নানা হয়রানির। এদের অধিকাংশই থেকে যাচ্ছে পর্দার আড়ালে অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তা কখনো কার্যকর হয় না সম্প্রতি অভিযোগ এসেছে ফরিদপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার জাহিদ মোল্লার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি অর্থ আত্মসাৎ অবৈধ সম্পদ অর্জন সহ অভিযোগের পাহাড়! তার ক্ষমতার কাছে অসহায় সাধারণ মানুষ।

প্রকাশ্য বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থেকেও তিনি কখনো কোনো শাস্তির আওতায় পড়েন না আবার শাস্তির বদলে উল্টো পেয়েছেন পদোন্নতি সবাই তাকে বিশাল ক্ষমতাধর হিসেবেই গণ্য করে কিন্তু কেন ?

 

কে এই ফিল্ড সুপারভাইজার জাহিদ মোল্লা ?
কি তার ক্ষমতার উৎস ?

ফরিদপুর সদরের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার ছেলে জাহিদ মোল্লা, বর্তমানে ফরিদপুর সদর সমাজসেবার ফিল্ড সুপারভাইজার ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম শাখায় কর্মরত আছেন।অভিযোগ আছে সমাজসেবা অধিদপ্তরে চাকরিতে যোগদান করেই ঘুষ দুর্নীতি নানা অনিয়ম অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং অসহায় নিম্ন শ্রেণীর মানুষকে হয়রানি ও তাদের অর্থ আত্মসাৎ করে ভাঙ্গা কুঁড়েঘর থেকে এখন কয়েকটি অট্টালিকার মালিক।

 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিক রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সখ্যতা তৈরি করে একের পর এক বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে শাস্তির বদলে উল্টো আরো পেয়েছেন পদোন্নতি।

 

ফরিদপুর নগরকান্দা উপজেলা ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ঘুষ না দিলে শত শত জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে বাতিল করেছেন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা।

 

অসহায়দের ভাতা পেতে দেওয়া লাগতো ঘুস না দিলে বিভিন্ন হয়রানির শিকার করতেন। আবার ঘুষ দিলেও মাসের পর হয়রানি করতেন। ঘুষের টাকা দিয়েও অনেকের কপালে জুটত না ভাতা।

অভিযোগের তালিকা এখানেই শেষ নয় বিভিন্ন কৌশলে ভাতাপ্রাপ্তদের বিকাশ নম্বর ভুল দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন অনেকের ভাতার অর্থ।

জাহিদ মোল্লা এসব অপকর্মের জন্য তৎকালীন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, সচিবের সমন্বয়ে তৈরি করেছিলেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয় অবৈধ অর্থের বিনিময় জীবিত ব্যক্তিদের মৃত সনদ সরবরাহ করার নির্দেশ দিতেন জাহিদ মোল্লা।ঘুষ দিলে নিজেদের পছন্দ মতো ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করেসমাজসেবা অফিসে আবেদন করাতেন।

২০২৪ সালে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে নগরকান্দা সমাজসেবা কার্যালয়ের অনিয়ম দুর্নীতির গল্প উন্মোচিত হলে কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার নাম আসে এর মধ্যে তৎকালীন নগরকান্দা সমাজসেবা অফিসার আবুল কালাম আজাদ, জাহিদ মোল্লা সহ একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম উঠে আসে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের ভাতা দেওয়ার কথা বলে ৯৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২০২৩ সালের ২৩ জুন নগরকান্দার সমাজসেবা অফিসার আবুল কালাম আজাদকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল ও এই ঘটনায় তার স্ত্রী-সন্তানরাও জেল খেটেছেন।

এই ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর ঘটনায় তৎকালীন ফিল্ড অফিসার জাহিদ মোল্লা প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন কিন্তু সে সময় জেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা ও একজন সংসদ সদস্য সুপারিশের জাহিদ মোল্লার নাম ধামাচাপা দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ফিল্ড অফিসার জাহিদ মোল্লাকে শাস্তির বদলে ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে ফরিদপুর সদরে সংযুক্ত করা হয়।

অভিযোগ পত্র ও একাধিক অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী জাহিদ মোল্লার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম, পল্লী মাতৃকেন্দ্র, প্রতিবন্ধী, শিক্ষা উপবৃত্তি ও ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রমের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ রয়েছে এবং অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়েরের পর তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পরে রাজনৈতিক ভোল পাল্টিয়ে হয়ে ওঠেন আরো ক্ষমতাধর সম্ভবত তার পরিবারের কোন একজন সদস্য অথবা কোন আত্মীয় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সেই প্রভাব খাটিয়ে তিনি আরো বেশি মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ।

বর্তমানে জাহিদ মোল্লা ফরিদপুর সদর সমাজসেবা ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত আছেন অভিযোগ আছে সমাজসেবার আওতায় ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে ইতিমধ্যে অনেক মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

এই ধরনের অপরাধ অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে ফরিদপুর সদরে অবৈধ অর্থে তিনটি বিশাল অট্টালিকা তৈরি বিপুল পরিমাণ জমি জমা করা করেছেন। একজন ফিল্ড সুপারভাইজার ১৪ তম গ্রেডের সর্বসাকুল্য তার বেতন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা, বৈধ অর্থ দিয়ে এত সম্পদ ক্রয়ের কোন সুযোগ নেই।

রয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের কেউ হয়রানি করার অভিযোগ এখন পর্যন্ত কোন গণমাধ্যমে তার কোন অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হতে দেননি।

একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক তার অনিয়ম দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে, ইতিমধ্যে জাহিদ মোল্লা তার স্ত্রী মৌসুমী বেগম, শশুর মঞ্জিল ভূইয়া, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম, ছেলে মহসিন মোল্লা প্রত্যয় ও জিহাদুল ইসলাম জিতুর সম্পদের তথ্য চেয়ে ব্যাংক বীমা সহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি প্রেরণ করেছে।

নগরকান্দা সমাজসেবা কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন জাহিদ মোল্লা বিশাল ক্ষমতাধর নগরকান্দায় শতশত মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না তার ক্ষমতার কাছে অনেকেই অসহায় তৎকালীন সময়ে একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হেনস্থা করার অভিযোগ রয়েছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন নগরকান্দায় কর্মকর্ত থাকা হলেন অবস্থায় তার বিরুদ্ধে অনেক অনিয়ম দুর্নীতির কথা শুনেছি তবে আমার এখানে কোন ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না যে কেউ কোন অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) নুরুল করিম ভুঁইয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন কারো বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ থাকলে সেটা খতিয়ে দেখা হবে।

এই বিষয়ে জানতে ফরিদপুর সদর ফিল্ড সুপারভাইজার জাহিদ মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি ১৭ বছর নির্যাতিত হয়েছি আমার বড় ভাই ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি উল্লেখ করে প্রতিবেদককে হুমকি প্রদান করেন এবং তিনি আরো বলেন আমি ঢাকায় এসে আমার বড় ভাই সহ আপনার সঙ্গে বসে কথা বলব ।

সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এড: সৈয়দ মোদারেস আলী ইছার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন জাহিদ মোল্লা নামে আমার কোন ভাই নেই তার সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট তথ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জীবিতকে মৃত দেখিয়ে ভাতা বাতিলের অভিযোগ! জাহিদ মোল্লাকে ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য।

আপডেট সময় : ০১:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক।। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাৎ সুবিধাভোগীদের অজান্তে মোবাইল নম্বর পরিবর্তন, ভাতার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা মৃত দেখিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ আছে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সাধারণ মানুষ সরকারের বরাদ্দকৃত বিভিন্ন অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত আবার অর্থ গ্রহণ করতে গিয়ে শিকার হচ্ছেন নানা হয়রানির। এদের অধিকাংশই থেকে যাচ্ছে পর্দার আড়ালে অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তা কখনো কার্যকর হয় না সম্প্রতি অভিযোগ এসেছে ফরিদপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার জাহিদ মোল্লার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি অর্থ আত্মসাৎ অবৈধ সম্পদ অর্জন সহ অভিযোগের পাহাড়! তার ক্ষমতার কাছে অসহায় সাধারণ মানুষ।

প্রকাশ্য বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থেকেও তিনি কখনো কোনো শাস্তির আওতায় পড়েন না আবার শাস্তির বদলে উল্টো পেয়েছেন পদোন্নতি সবাই তাকে বিশাল ক্ষমতাধর হিসেবেই গণ্য করে কিন্তু কেন ?

 

কে এই ফিল্ড সুপারভাইজার জাহিদ মোল্লা ?
কি তার ক্ষমতার উৎস ?

ফরিদপুর সদরের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার ছেলে জাহিদ মোল্লা, বর্তমানে ফরিদপুর সদর সমাজসেবার ফিল্ড সুপারভাইজার ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম শাখায় কর্মরত আছেন।অভিযোগ আছে সমাজসেবা অধিদপ্তরে চাকরিতে যোগদান করেই ঘুষ দুর্নীতি নানা অনিয়ম অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং অসহায় নিম্ন শ্রেণীর মানুষকে হয়রানি ও তাদের অর্থ আত্মসাৎ করে ভাঙ্গা কুঁড়েঘর থেকে এখন কয়েকটি অট্টালিকার মালিক।

 

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিক রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সখ্যতা তৈরি করে একের পর এক বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে শাস্তির বদলে উল্টো আরো পেয়েছেন পদোন্নতি।

 

ফরিদপুর নগরকান্দা উপজেলা ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ঘুষ না দিলে শত শত জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে বাতিল করেছেন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা।

 

অসহায়দের ভাতা পেতে দেওয়া লাগতো ঘুস না দিলে বিভিন্ন হয়রানির শিকার করতেন। আবার ঘুষ দিলেও মাসের পর হয়রানি করতেন। ঘুষের টাকা দিয়েও অনেকের কপালে জুটত না ভাতা।

অভিযোগের তালিকা এখানেই শেষ নয় বিভিন্ন কৌশলে ভাতাপ্রাপ্তদের বিকাশ নম্বর ভুল দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন অনেকের ভাতার অর্থ।

জাহিদ মোল্লা এসব অপকর্মের জন্য তৎকালীন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, সচিবের সমন্বয়ে তৈরি করেছিলেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয় অবৈধ অর্থের বিনিময় জীবিত ব্যক্তিদের মৃত সনদ সরবরাহ করার নির্দেশ দিতেন জাহিদ মোল্লা।ঘুষ দিলে নিজেদের পছন্দ মতো ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করেসমাজসেবা অফিসে আবেদন করাতেন।

২০২৪ সালে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে নগরকান্দা সমাজসেবা কার্যালয়ের অনিয়ম দুর্নীতির গল্প উন্মোচিত হলে কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার নাম আসে এর মধ্যে তৎকালীন নগরকান্দা সমাজসেবা অফিসার আবুল কালাম আজাদ, জাহিদ মোল্লা সহ একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম উঠে আসে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের ভাতা দেওয়ার কথা বলে ৯৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২০২৩ সালের ২৩ জুন নগরকান্দার সমাজসেবা অফিসার আবুল কালাম আজাদকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল ও এই ঘটনায় তার স্ত্রী-সন্তানরাও জেল খেটেছেন।

এই ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর ঘটনায় তৎকালীন ফিল্ড অফিসার জাহিদ মোল্লা প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন কিন্তু সে সময় জেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা ও একজন সংসদ সদস্য সুপারিশের জাহিদ মোল্লার নাম ধামাচাপা দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ফিল্ড অফিসার জাহিদ মোল্লাকে শাস্তির বদলে ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে ফরিদপুর সদরে সংযুক্ত করা হয়।

অভিযোগ পত্র ও একাধিক অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী জাহিদ মোল্লার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম, পল্লী মাতৃকেন্দ্র, প্রতিবন্ধী, শিক্ষা উপবৃত্তি ও ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রমের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ রয়েছে এবং অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়েরের পর তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পরে রাজনৈতিক ভোল পাল্টিয়ে হয়ে ওঠেন আরো ক্ষমতাধর সম্ভবত তার পরিবারের কোন একজন সদস্য অথবা কোন আত্মীয় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সেই প্রভাব খাটিয়ে তিনি আরো বেশি মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ।

বর্তমানে জাহিদ মোল্লা ফরিদপুর সদর সমাজসেবা ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত আছেন অভিযোগ আছে সমাজসেবার আওতায় ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে ইতিমধ্যে অনেক মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

এই ধরনের অপরাধ অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে ফরিদপুর সদরে অবৈধ অর্থে তিনটি বিশাল অট্টালিকা তৈরি বিপুল পরিমাণ জমি জমা করা করেছেন। একজন ফিল্ড সুপারভাইজার ১৪ তম গ্রেডের সর্বসাকুল্য তার বেতন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা, বৈধ অর্থ দিয়ে এত সম্পদ ক্রয়ের কোন সুযোগ নেই।

রয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের কেউ হয়রানি করার অভিযোগ এখন পর্যন্ত কোন গণমাধ্যমে তার কোন অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হতে দেননি।

একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক তার অনিয়ম দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে, ইতিমধ্যে জাহিদ মোল্লা তার স্ত্রী মৌসুমী বেগম, শশুর মঞ্জিল ভূইয়া, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম, ছেলে মহসিন মোল্লা প্রত্যয় ও জিহাদুল ইসলাম জিতুর সম্পদের তথ্য চেয়ে ব্যাংক বীমা সহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি প্রেরণ করেছে।

নগরকান্দা সমাজসেবা কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন জাহিদ মোল্লা বিশাল ক্ষমতাধর নগরকান্দায় শতশত মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না তার ক্ষমতার কাছে অনেকেই অসহায় তৎকালীন সময়ে একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হেনস্থা করার অভিযোগ রয়েছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন নগরকান্দায় কর্মকর্ত থাকা হলেন অবস্থায় তার বিরুদ্ধে অনেক অনিয়ম দুর্নীতির কথা শুনেছি তবে আমার এখানে কোন ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না যে কেউ কোন অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) নুরুল করিম ভুঁইয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন কারো বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ থাকলে সেটা খতিয়ে দেখা হবে।

এই বিষয়ে জানতে ফরিদপুর সদর ফিল্ড সুপারভাইজার জাহিদ মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি ১৭ বছর নির্যাতিত হয়েছি আমার বড় ভাই ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি উল্লেখ করে প্রতিবেদককে হুমকি প্রদান করেন এবং তিনি আরো বলেন আমি ঢাকায় এসে আমার বড় ভাই সহ আপনার সঙ্গে বসে কথা বলব ।

সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এড: সৈয়দ মোদারেস আলী ইছার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন জাহিদ মোল্লা নামে আমার কোন ভাই নেই তার সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট তথ্য।