০৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চোরের পক্ষে সাফাই গাইতে ‘সংবাদ সম্মেলন’!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।। চোরাই কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এবার যেন শুরু হয়েছে ‘সাফাই অভিযান’! বরিশালের রূপাতলী গ্যাস্টারবাইন সংলগ্ন নদীতে পরিত্যক্ত সাবমেরিন ক্যাবল উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের কয়েকদিনের মাথায় হঠাৎ করেই ‘পরিবেশ বিপর্যয় প্রতিরোধ আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন,আর এতেই উঠছে নানা প্রশ্ন।

 

 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের আগেই কার স্বার্থে এই সংবাদ সম্মেলন? কাদের দায় আড়াল করতেই বা এত তড়িঘড়ি করে সাফাই গাওয়ার আয়োজন?অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে এমন কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যা প্রকৃত ঘটনার আড়াল তৈরি এবং দায় এড়ানোর কৌশল হতে পারে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষয়টি যদি সত্যিই নিয়মতান্ত্রিক ও বৈধভাবে হয়ে থাকে, তাহলে রাতের আঁধারে ক্যাবল উত্তোলনের অভিযোগ কেন উঠল,এ প্রশ্নের জবাবই বা কোথায়?

 

অনুমতি ছিল-দাবির সত্যতা কোথায়?

 

সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার দাবি করা হলেও, স্থানীয়দের অভিযোগ,সাবমেরিন ক্যাবল উত্তোলনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় অফিশিয়াল অনুমোদন, লিখিত নির্দেশনা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র আদৌ রয়েছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।আর যদি অনুমোদন থেকেই থাকে, তাহলে সেই অনুমোদনের কপি প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না কেন?

 

সংগঠন নিয়েও প্রশ্নের পাহাড়!

পরিবেশ বিপর্যয় প্রতিরোধ আন্দোলন নামের সংগঠনটির পরিচয়, বৈধতা, নিবন্ধন এবং কার্যক্রম নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্নসংগঠনটির প্রকৃত নিবন্ধনসাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে কি না,তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

অভিযোগ উঠেছে, কোনো নির্দিষ্ট স্বার্থগোষ্ঠীকে আড়াল করার জন্য সামাজিক সংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করা হয়ে থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

দিনের গল্প এক, রাতের ঘটনা আরেক?

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় এক ধরনের বক্তব্য আর রাতের আঁধারে বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে ক্যাবল উত্তোলনের অভিযোগ,দুই ঘটনাকে মিলিয়ে দেখলেই সামনে আসতে পারে প্রকৃত রহস্য।তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়,কারা ছিল সেখানে? কার নির্দেশে কাজ চলছিল? ক্যাবল কোথা থেকে, কীভাবে এবং কার কাছে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল?

 

এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে শুধু সংবাদ সম্মেলন করে দায় এড়ানোর চেষ্টা হলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হওয়াই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

চোরের মা’র বড় গলা-প্রবাদই কি বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি?

 

ঘটনার সত্যতা যাচাই ও তদন্তের আগেই যদি অভিযুক্তদের পক্ষে সাফাই গাইতে একের পর এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে,কার স্বার্থে এই তৎপরতা?স্থানীয়দের কটাক্ষ,চোর ধরা পড়ার আগেই যদি চোরের পক্ষে এত জোরালো সাফাই শুরু হয়, তাহলে পেছনে আসলে কে?

সত্যকে সামনে আনা হবে, নাকি সংবাদ সম্মেলনের আড়ালে সত্যকেই চাপা দেওয়া হবে?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চোরের পক্ষে সাফাই গাইতে ‘সংবাদ সম্মেলন’!

আপডেট সময় : ০৭:১৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।। চোরাই কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এবার যেন শুরু হয়েছে ‘সাফাই অভিযান’! বরিশালের রূপাতলী গ্যাস্টারবাইন সংলগ্ন নদীতে পরিত্যক্ত সাবমেরিন ক্যাবল উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের কয়েকদিনের মাথায় হঠাৎ করেই ‘পরিবেশ বিপর্যয় প্রতিরোধ আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন,আর এতেই উঠছে নানা প্রশ্ন।

 

 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের আগেই কার স্বার্থে এই সংবাদ সম্মেলন? কাদের দায় আড়াল করতেই বা এত তড়িঘড়ি করে সাফাই গাওয়ার আয়োজন?অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে এমন কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যা প্রকৃত ঘটনার আড়াল তৈরি এবং দায় এড়ানোর কৌশল হতে পারে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষয়টি যদি সত্যিই নিয়মতান্ত্রিক ও বৈধভাবে হয়ে থাকে, তাহলে রাতের আঁধারে ক্যাবল উত্তোলনের অভিযোগ কেন উঠল,এ প্রশ্নের জবাবই বা কোথায়?

 

অনুমতি ছিল-দাবির সত্যতা কোথায়?

 

সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার দাবি করা হলেও, স্থানীয়দের অভিযোগ,সাবমেরিন ক্যাবল উত্তোলনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় অফিশিয়াল অনুমোদন, লিখিত নির্দেশনা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র আদৌ রয়েছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।আর যদি অনুমোদন থেকেই থাকে, তাহলে সেই অনুমোদনের কপি প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না কেন?

 

সংগঠন নিয়েও প্রশ্নের পাহাড়!

পরিবেশ বিপর্যয় প্রতিরোধ আন্দোলন নামের সংগঠনটির পরিচয়, বৈধতা, নিবন্ধন এবং কার্যক্রম নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্নসংগঠনটির প্রকৃত নিবন্ধনসাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে কি না,তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

অভিযোগ উঠেছে, কোনো নির্দিষ্ট স্বার্থগোষ্ঠীকে আড়াল করার জন্য সামাজিক সংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করা হয়ে থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

দিনের গল্প এক, রাতের ঘটনা আরেক?

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় এক ধরনের বক্তব্য আর রাতের আঁধারে বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে ক্যাবল উত্তোলনের অভিযোগ,দুই ঘটনাকে মিলিয়ে দেখলেই সামনে আসতে পারে প্রকৃত রহস্য।তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়,কারা ছিল সেখানে? কার নির্দেশে কাজ চলছিল? ক্যাবল কোথা থেকে, কীভাবে এবং কার কাছে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল?

 

এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে শুধু সংবাদ সম্মেলন করে দায় এড়ানোর চেষ্টা হলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হওয়াই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

 

চোরের মা’র বড় গলা-প্রবাদই কি বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি?

 

ঘটনার সত্যতা যাচাই ও তদন্তের আগেই যদি অভিযুক্তদের পক্ষে সাফাই গাইতে একের পর এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে,কার স্বার্থে এই তৎপরতা?স্থানীয়দের কটাক্ষ,চোর ধরা পড়ার আগেই যদি চোরের পক্ষে এত জোরালো সাফাই শুরু হয়, তাহলে পেছনে আসলে কে?

সত্যকে সামনে আনা হবে, নাকি সংবাদ সম্মেলনের আড়ালে সত্যকেই চাপা দেওয়া হবে?