সিঙ্গাপুরের ‘হুন্ডি শহিদ’ ও চার ভাইকে ঘিরে বিস্তর অভিযোগ-হুন্ডি, চোরাচালান ও আর্থিক অনিয়মের অনুসন্ধান দাবি!
- আপডেট সময় : ০৯:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক।। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বিক্রমপুরের ভঙ্গিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম শহিদ ও তার ভাইদের ঘিরে হুন্ডি, চোরাচালান, আর্থিক অনিয়ম, জুয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে তারা নিজেদের প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখনো প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শহিদুল ইসলাম শহিদ দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে অবস্থান করে মোবাইল আমদানির ব্যবসার আড়ালে হুন্ডি ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ পথে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করে সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও বিপুল অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে,যার সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত প্রয়োজন।
ব্যাংকিং খাতেও অভিযোগ
শহিদ ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে একটি ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে পরিবারের একাধিক সদস্য বিদেশে চলে গেছেন।তবে ব্যাংক-সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি, ঋণ হিসাব, লেনদেনের তথ্য এবং আদালতের নথি যাচাই না করে কোনো ব্যক্তিকে অর্থ আত্মসাৎকারী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চার ভাইকে ঘিরে নানা অভিযোগ!
শহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার ভাই আমির, খালেক ও বারেকের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময় মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তারা কয়েক দফা আইনগত জটিলতায় পড়লেও পরবর্তীতে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে এসে পুনরায় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন,এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বর্তমানে চার ভাই সরাসরি প্রকাশ্যে না থেকে বিভিন্ন পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয় ব্যবহার করে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
জুয়া ও মাদকসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ!
অভিযোগকারীদের দাবি, সন্ধ্যার পর রাজধানীর মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় তাদের কয়েকজনের নিয়মিত আড্ডা, জুয়া ও মদ্যপানের আসর বসে।তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে না আসায় বিষয়গুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মীর পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর নতুন করে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে আশ্রয়-প্রশ্রয় নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।এছাড়া কসবার সাবেক সংসদ সদস্য পেয়ারুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমানের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্তদের প্রকৃত সম্পর্ক বা তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ!
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, অভিযুক্তদের কেউ কেউ সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এমনকি পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে নিজেদের কর্মকাণ্ড আড়াল করার অভিযোগও রয়েছে।সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত সাংবাদিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমেরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনের কাছে তদন্তের দাবি,স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযোগগুলো শুধু মুখে মুখে সীমাবদ্ধ না রেখে তদন্তের আওতায় আনা উচিত। শহিদুল ইসলাম শহিদ ও তার ভাইদের দেশ-বিদেশের ব্যাংক হিসাব, সম্পদের উৎস, ব্যবসায়িক লেনদেন, আমদানি-রপ্তানি নথি, হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য, বিদেশে অর্থ স্থানান্তর এবং তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ নথি যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।একই সঙ্গে অভিযোগগুলো সত্য হলে কারা তাদের সহযোগিতা করেছে, কারা রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়েছে এবং কারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে,তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা আইনগতভাবে সমীচীন নয়। শহিদুল ইসলাম শহিদ ও তার ভাইদের বক্তব্য এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে সংযুক্ত করা হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন একটাই,অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয়, তাহলে তদন্তে তা পরিষ্কার করা হোক, আর সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।






















