লাকুটিয়া খাল খনন ছাড়াই ফেরত গেল কোটি কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ!
- আপডেট সময় : ০৮:২৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

খাল রইলো আগের জায়গায়, টাকা ফিরে গেল রাষ্ট্রীয় কোষাগারে,তাহলে থামাল কে উন্নয়নের চাকা?
নিজস্ব প্রতিবেদক।। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ যদি সত্যিকার অর্থে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হতো, তাহলে বরিশাল সদরবাসীর বহু বছরের দুর্ভোগ অনেকটাই কমতে পারত। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে,বরাদ্দ এল, অথচ কাজ হলো না কেন? কোটি কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ ফেরত গেল, কিন্তু খালের বুকে একটি কোদালের আঁচড়ও পড়ল না!সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সাধারণ মানুষ অনেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানাকে দায়ী করলেও বাস্তবতা হয়তো এতটা সরল নয়। একটি বড় সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক, কারিগরি, নীতিগত ও স্থানীয় সমন্বয়সহ একাধিক স্তরের সিদ্ধান্ত জড়িত থাকে। তাই পুরো দায় এককভাবে ইউএনওর ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায্য হবে কি? নাকি পর্দার আড়ালে অন্য কোনো প্রভাব, মতবিরোধ বা সমন্বয়হীনতাই প্রকল্পটি থামিয়ে দিয়েছে,সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ইজিপিপি’ প্রকল্পের আওতায় বরিশাল সদর উপজেলার দুটি খাল পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মরখখোলার পোল থেকে ঝড়ঝড়িয়াতলা বাজার হয়ে মাঝিবাড়ির ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার খাল খননের জন্য ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা বরাদ্দ থাকলেও কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় পুরো অর্থ ফেরত যায়। অন্যদিকে চরবাড়িয়া ইউনিয়নের আরেকটি প্রকল্পেও ৭৭ লাখ ২৮ হাজার টাকার মধ্যে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে।
প্রশ্নটা এখানেই,খালের কচুরিপানা রয়ে গেল, মানুষের জলাবদ্ধতা রয়ে গেল, কৃষকের কষ্ট রয়ে গেল; শুধু সরকারি টাকাটাই ঠিকঠাক নিজের ঠিকানায় ফিরে গেল!স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর খাল ভরাট থাকায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা, আর শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও পানির সংকট চরম আকার ধারণ করে। এই বরাদ্দ বাস্তবায়িত হলে কৃষি, মৎস্য এবং স্বাভাবিক পানি প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারত। অথচ সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই মানুষের প্রশ্ন,জেলার অন্য উপজেলায় কাজ হলে সদর উপজেলায় কেন হলো না?
এদিকে সদ্য দায়িত্ব গ্রহণকারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন খন্দকার বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং লাকুটিয়া ও জেল খাল নিয়ে নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এটি ইতিবাচক বার্তা। জনগণের প্রত্যাশা,তিনি নিরপেক্ষভাবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করবেন এবং ভবিষ্যতে যেন এমন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প আর থেমে না যায়, সেই ব্যবস্থা নেবেন।জনগণের দাবি একটাই,দোষারোপ নয়, সত্য উদঘাটন হোক। যদি প্রশাসনিক জটিলতা থাকে, তা প্রকাশ করা হোক। যদি কোনো প্রভাবশালী মহলের কারণে কাজ থেমে থাকে, সেটিও সামনে আসুক। কারণ সরকারি অর্থ জনগণের, আর উন্নয়নও জনগণের অধিকার।খাল খনন হয়নি,এটাই বাস্তবতা। কিন্তু প্রশ্নগুলো এখনো খনন হয়নি। সেই উত্তরই আজ বরিশালবাসী জানতে চায়।













