০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পরকীয়ার জেরে হোটেলকক্ষে স্ত্রী হত্যা-১৬ বছর পর প্রকৌশলীর যাবজ্জীবন!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৫:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মো: জিয়াউদ্দিন বাবু।। একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে স্বামীর সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন স্ত্রী। কিন্তু সেই কক্ষ থেকে আর জীবিত বের হতে পারেননি নাজমা জহির শোভা। পরকীয়ার সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে হোটেলে নিয়ে ছুরি দিয়ে গলায় জবাই করে হত্যার অভিযোগ ওঠে স্বামী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এরপর কেটে গেছে প্রায় ১৬ বছর। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সেই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় হয়েছে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর)।

 

বরিশাল নগরীর সদর রোডের হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের ওই হত্যাকাণ্ডে নিহতের স্বামী ও তৎকালীন এলজিইডির প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিচারক মোস্তাক আহমেদ এ রায় প্রদান করেন। একই মামলায় হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

 

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি) অ্যাডভোকেট মহাসিন মন্টু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

মামলার নথি ও বাদীপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে নিয়ে যান তার স্বামী জহিরুল ইসলাম। ওই সময় তিনি এলজিইডিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 

হোটেল কক্ষে যাওয়ার পর কোনো একপর্যায়ে শোভাকে ছুরি দিয়ে গলায় জবাই করে হত্যা করা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বোন নিলুফা আইরিন বাদী হয়ে ওইদিনই বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।

 

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ নিহতের স্বামী জহিরুল ইসলাম ও হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান জানান, নিহত নাজমা জহির শোভার ছোট বোন রুমা আক্তারের সঙ্গে জহিরুল ইসলামের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের বিষয়টি শোভা জেনে যাওয়ায় দাম্পত্য জীবনে বিরোধ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হোটেল কক্ষে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

 

আইনজীবী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষের ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।

 

একই মামলায় হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককেও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বাদীপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য, হোটেল কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।

 

দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ার পর সোমবার আদালতের রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে আলোচিত এ হত্যা মামলার বিচারিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।

 

 

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও এ মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারি শাহ আলম।

তিনি আরও বলেন, আদালতের রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট। এ কারণে রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পরকীয়ার জেরে হোটেলকক্ষে স্ত্রী হত্যা-১৬ বছর পর প্রকৌশলীর যাবজ্জীবন!

আপডেট সময় : ১২:৩৫:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মো: জিয়াউদ্দিন বাবু।। একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে স্বামীর সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন স্ত্রী। কিন্তু সেই কক্ষ থেকে আর জীবিত বের হতে পারেননি নাজমা জহির শোভা। পরকীয়ার সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে হোটেলে নিয়ে ছুরি দিয়ে গলায় জবাই করে হত্যার অভিযোগ ওঠে স্বামী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এরপর কেটে গেছে প্রায় ১৬ বছর। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সেই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় হয়েছে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর)।

 

বরিশাল নগরীর সদর রোডের হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের ওই হত্যাকাণ্ডে নিহতের স্বামী ও তৎকালীন এলজিইডির প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিচারক মোস্তাক আহমেদ এ রায় প্রদান করেন। একই মামলায় হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

 

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি) অ্যাডভোকেট মহাসিন মন্টু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

মামলার নথি ও বাদীপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে নিয়ে যান তার স্বামী জহিরুল ইসলাম। ওই সময় তিনি এলজিইডিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 

হোটেল কক্ষে যাওয়ার পর কোনো একপর্যায়ে শোভাকে ছুরি দিয়ে গলায় জবাই করে হত্যা করা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বোন নিলুফা আইরিন বাদী হয়ে ওইদিনই বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।

 

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ নিহতের স্বামী জহিরুল ইসলাম ও হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান জানান, নিহত নাজমা জহির শোভার ছোট বোন রুমা আক্তারের সঙ্গে জহিরুল ইসলামের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের বিষয়টি শোভা জেনে যাওয়ায় দাম্পত্য জীবনে বিরোধ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হোটেল কক্ষে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

 

আইনজীবী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার বিচারকাজে রাষ্ট্রপক্ষের ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।

 

একই মামলায় হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককেও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বাদীপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য, হোটেল কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।

 

দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ার পর সোমবার আদালতের রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে আলোচিত এ হত্যা মামলার বিচারিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।

 

 

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও এ মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারি শাহ আলম।

তিনি আরও বলেন, আদালতের রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট। এ কারণে রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন না।