০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কদিন ধরে নানা গুঞ্জন-আলোচনার পর অবশেষে বঙ্গভবন ছাড়ছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করেছেন তিনি।

তার বিদায়ের পর ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে কে আসছেন—সেটিই এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতার পালাবদল বা রাষ্ট্রপ্রধানের বিদায় সবসময়ই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দেয়।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, দলীয় হিসাব-নিকাশ, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশীয় রাজনীতির দীর্ঘমেয়াদি কৌশল—সব মিলিয়ে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার এক অন্যতম নির্দেশক।
এই হিসেব-নিকেশে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, এ নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপিসহ রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা-বিশ্লেষণ চলছে।

বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে হাইকমান্ড পর্যন্ত কয়েকটি নাম বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। জনসাধারণ পর্যায়েও কিছু নাম আলোচিত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মরহুমা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত মহাসচিব হিসেবে খ্যাতি কুড়ানো মির্জা ফখরুল ফ্যাসিবাদের সময়ে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যেভাবে দলের হাল ধরে রেখেছেন, তাতে অনেকেই তাকে রাষ্ট্রপতির মতো সম্মানজনক পদে দেখতে চান।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, দল ও সরকারে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনার তালিকায় শীর্ষে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুলের ইতিবাচক মনোভাব এবং বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি তাকে সর্বজন গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। দল-মত-নির্বিশেষে ঠাকুরগাঁওয়ের এ রাজনীতিক একজন সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্যদের নামও রয়েছে আলোচনার টেবিলে। এদের মধ্যে আছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো পরীক্ষিত নেতারা। এদের প্রত্যেকের দলের প্রতি আনুগত্য, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখিয়েছেন। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা বা অন্য কোথাও স্থান পাননি বিধায় তাদের নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

এর বাইরে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় আলোচিত হচ্ছে।

এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, অরাজনৈতিক শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর নামও বিভিন্ন পরিসরে আলোচিত হচ্ছে। যদিও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন।

“রাষ্ট্রপতি এমন একজন হওয়া উচিত, যিনি দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে পরীক্ষিত, বিশ্বস্ত এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী।”
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম বলেন, “একটি বিষয় নিশ্চিত, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন না। তিনি দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই, ‘তিন শূন্যের বিশ্ব’ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসা সম্প্রসারণে তাঁর চলমান কাজেই নিবেদিত থাকবেন।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ০৬:৫২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

কদিন ধরে নানা গুঞ্জন-আলোচনার পর অবশেষে বঙ্গভবন ছাড়ছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করেছেন তিনি।

তার বিদায়ের পর ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে কে আসছেন—সেটিই এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতার পালাবদল বা রাষ্ট্রপ্রধানের বিদায় সবসময়ই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দেয়।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, দলীয় হিসাব-নিকাশ, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশীয় রাজনীতির দীর্ঘমেয়াদি কৌশল—সব মিলিয়ে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার এক অন্যতম নির্দেশক।
এই হিসেব-নিকেশে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, এ নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপিসহ রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা-বিশ্লেষণ চলছে।

বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে হাইকমান্ড পর্যন্ত কয়েকটি নাম বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। জনসাধারণ পর্যায়েও কিছু নাম আলোচিত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মরহুমা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত মহাসচিব হিসেবে খ্যাতি কুড়ানো মির্জা ফখরুল ফ্যাসিবাদের সময়ে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যেভাবে দলের হাল ধরে রেখেছেন, তাতে অনেকেই তাকে রাষ্ট্রপতির মতো সম্মানজনক পদে দেখতে চান।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, দল ও সরকারে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনার তালিকায় শীর্ষে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুলের ইতিবাচক মনোভাব এবং বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি তাকে সর্বজন গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। দল-মত-নির্বিশেষে ঠাকুরগাঁওয়ের এ রাজনীতিক একজন সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্যদের নামও রয়েছে আলোচনার টেবিলে। এদের মধ্যে আছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো পরীক্ষিত নেতারা। এদের প্রত্যেকের দলের প্রতি আনুগত্য, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখিয়েছেন। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা বা অন্য কোথাও স্থান পাননি বিধায় তাদের নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

এর বাইরে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় আলোচিত হচ্ছে।

এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, অরাজনৈতিক শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর নামও বিভিন্ন পরিসরে আলোচিত হচ্ছে। যদিও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন।

“রাষ্ট্রপতি এমন একজন হওয়া উচিত, যিনি দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে পরীক্ষিত, বিশ্বস্ত এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী।”
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম বলেন, “একটি বিষয় নিশ্চিত, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন না। তিনি দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই, ‘তিন শূন্যের বিশ্ব’ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসা সম্প্রসারণে তাঁর চলমান কাজেই নিবেদিত থাকবেন।”