০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সাংবাদিকতা পেশায় রাতারাতি বিত্তশালী হওয়ার সম্ভাবনা নেই -তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতা পেশাকে পৃষ্ঠপোষকতা করার মতো কার্যকর কোনো কাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। তবে কোনো সভ্য দেশ বা সমাজই গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি চিত্র আয়নার মতো প্রতিফলিত করা ছাড়া সামনে এগিয়ে যেতে পারে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ‘বরিশাল বিভাগের সাংবাদিকদের কল্যাণে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আয়োজনে এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজকে প্রতিমুহূর্তেই আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। তা না হলে সমাজ ভুল পথে বা ভুল গন্তব্যে চলে যেতে পারে, যা জনগণের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই কাজটি করা সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে অবাধ তথ্যপ্রবাহ থেকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য আলাদা করা এবং অপতথ্য বা বস্তুনিষ্ঠতাহীন তথ্য ফিল্টারিং করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দুই ধরনের মানুষ গণমাধ্যম ব্যবহার করছেন এবং উভয়ের হাতেই সাংবাদিকতার কার্ড আছে। একজন এই পেশার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে কাজ করছেন, অন্যজন এটিকে দূষিত করার উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতা করছেন। এ কারণে অনেকেই সাংবাদিকতার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণের কথা বলছেন। কোন সাংবাদিকতা ব্ল্যাকমেলিং আর কোন সাংবাদিকতা সমাজের জন্য অনিবার্য— এই বিভাজন তৈরি করা না গেলে রাষ্ট্র ও সমাজ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দিতে পারবে না। তবে এই কাজ একা সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়, এর জন্য সাংবাদিকদের সক্রিয় অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।

সাংবাদিকতা পেশায় রাতারাতি বিত্তশালী হওয়ার সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যারা জেনেশুনে এই মহৎ পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বা হচ্ছেন, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রইল। এই পেশায় নিজের বিবেক ও মেধা চর্চা করার অনেক বড় একটি সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা পেশা রাষ্ট্র ও সমাজে আয়নার ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকতার অস্তিত্ব ছাড়া কোনো সভ্য সমাজ চলতে পারে না। সমাজ ও রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে সবসময় জীবন্ত রাখতে হবে।

বর্তমান সাংবাদিকতায় প্রযুক্তির রূপান্তরের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখনকার সাংবাদিকতা কেবল প্রথাগত লেখায় সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন ডেটা জার্নালিজম, ভিডিও জার্নালিজম এবং অডিও জার্নালিজমে রূপ নিয়েছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকতা পেশাকেও পরিবর্তিত হতে হবে। এই রূপান্তরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে সাংবাদিকতা পিছিয়ে পড়বে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল বারী।

বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য কাওছার হোসেন খন্দকার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু, বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দিন, এছাড়াও সভায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সাংবাদিক, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন। এর আগে সকালে তিনি বরিশালের চরকাউয়া এলাকায় গাছের চারা রোপণ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাংবাদিকতা পেশায় রাতারাতি বিত্তশালী হওয়ার সম্ভাবনা নেই -তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:০৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতা পেশাকে পৃষ্ঠপোষকতা করার মতো কার্যকর কোনো কাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। তবে কোনো সভ্য দেশ বা সমাজই গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি চিত্র আয়নার মতো প্রতিফলিত করা ছাড়া সামনে এগিয়ে যেতে পারে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ‘বরিশাল বিভাগের সাংবাদিকদের কল্যাণে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আয়োজনে এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্র ও সমাজকে প্রতিমুহূর্তেই আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। তা না হলে সমাজ ভুল পথে বা ভুল গন্তব্যে চলে যেতে পারে, যা জনগণের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই কাজটি করা সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে অবাধ তথ্যপ্রবাহ থেকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য আলাদা করা এবং অপতথ্য বা বস্তুনিষ্ঠতাহীন তথ্য ফিল্টারিং করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দুই ধরনের মানুষ গণমাধ্যম ব্যবহার করছেন এবং উভয়ের হাতেই সাংবাদিকতার কার্ড আছে। একজন এই পেশার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে কাজ করছেন, অন্যজন এটিকে দূষিত করার উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতা করছেন। এ কারণে অনেকেই সাংবাদিকতার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণের কথা বলছেন। কোন সাংবাদিকতা ব্ল্যাকমেলিং আর কোন সাংবাদিকতা সমাজের জন্য অনিবার্য— এই বিভাজন তৈরি করা না গেলে রাষ্ট্র ও সমাজ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দিতে পারবে না। তবে এই কাজ একা সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়, এর জন্য সাংবাদিকদের সক্রিয় অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।

সাংবাদিকতা পেশায় রাতারাতি বিত্তশালী হওয়ার সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যারা জেনেশুনে এই মহৎ পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বা হচ্ছেন, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রইল। এই পেশায় নিজের বিবেক ও মেধা চর্চা করার অনেক বড় একটি সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা পেশা রাষ্ট্র ও সমাজে আয়নার ভূমিকা পালন করে। সাংবাদিকতার অস্তিত্ব ছাড়া কোনো সভ্য সমাজ চলতে পারে না। সমাজ ও রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে সবসময় জীবন্ত রাখতে হবে।

বর্তমান সাংবাদিকতায় প্রযুক্তির রূপান্তরের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখনকার সাংবাদিকতা কেবল প্রথাগত লেখায় সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন ডেটা জার্নালিজম, ভিডিও জার্নালিজম এবং অডিও জার্নালিজমে রূপ নিয়েছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকতা পেশাকেও পরিবর্তিত হতে হবে। এই রূপান্তরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে সাংবাদিকতা পিছিয়ে পড়বে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল বারী।

বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য কাওছার হোসেন খন্দকার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু, বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দিন, এছাড়াও সভায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সাংবাদিক, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন। এর আগে সকালে তিনি বরিশালের চরকাউয়া এলাকায় গাছের চারা রোপণ করেন।