ট্রুথ কমিশন থেকে ফের শীর্ষ পদে! এ.কে.এম আজাদ রহমানকে ঘিরে নতুন বিতর্ক
- আপডেট সময় : ১০:৩৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

ট্রুথ কমিশনের অতীত, বিভাগীয় মামলার ইতিহাস, সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশ সফরকে ঘিরে নতুন বিতর্ক,সওজের প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)-এ দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী প্রশাসনিক সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদ রহমানের নাম উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রশাসনিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দাবি।অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশাসনিক ক্ষমতা, প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ, বদলি-পদায়ন এবং ঠিকাদারি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন!
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের দাবি অনুযায়ী, এ.কে.এম আজাদ রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বা বেনামে রাজধানীর বারিধারা, পূর্বাচল, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের নিজ এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি ও স্থাপনা থাকার অভিযোগও উঠে এসেছে।তবে এসব সম্পদের উৎস ও বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না,তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। যদিও এ বিষয়ে এ.কে.এম আজাদ রহমানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রুথ কমিশন ও বিভাগীয় মামলার প্রসঙ্গ!
সরকারি নথির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০০৭–০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সত্য ও জবাবদিহিতা কমিশনে (ট্রুথ কমিশন) উপস্থিত হয়ে এ.কে.এম আজাদ রহমান একটি প্রকল্পে অতিরিক্ত বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারের আর্থিক ক্ষতির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা (নং-০২/২০১২) দায়ের হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে মামলার কার্যক্রম স্থগিত হয় এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন প্রক্রিয়ার অংশ ছিল।
বদলি বাণিজ্য ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ!
একাধিক সূত্রের দাবি, সওজে পছন্দের পদায়ন, বদলি, প্রকল্প অনুমোদন ও টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে এ.কে.এম আজাদ রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী নুরু ইসলাম বিভিন্ন প্রকল্প ও টেন্ডার অনুমোদনের ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
বিদেশ সফর নিয়েও বিতর্ক!
অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক কর্মকর্তার বিদেশ সফর অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, উন্নয়নমূলক সফরের আড়ালে অর্থপাচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংস্কারের বদলে পুনর্বাসন!
সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রশাসনিক সংস্কারের প্রত্যাশার মধ্যেও বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনঃপদায়ন করা হয়েছে। সর্বশেষ বদলিতে এ.কে.এম আজাদ রহমানকে ঢাকা জোনে পদায়নের বিষয়টিও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে সব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন।
এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এ.কে.এম আজাদ রহমান বা প্রকৌশলী নুরু ইসলামের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।























