০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আকাশ মিয়াকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে মোলাবাড়ি!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সরকারি কাজে বাধা থেকে চালককে মারধর, রাস্তার জমি দখল, ভয়ভীতি ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ!

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।। ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ৪ নং গালাগাঁও ইউনিয়নের মোলাবাড়ি গ্রামে আক্কাস আলী ওরফে আকাশ মিয়াকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে অভিযোগ,ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারি রাস্তার জমি ভোগদখল, সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন,ও গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হেনস্থা এবং সরকারি চালককে মারধরের মতো ঘটনায় জড়িয়েছেন তিনি।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে সরকারি রাস্তার দখলকৃত অংশ খননের কাজ চলাকালে আকাশ মিয়া সরকারি কাজে বাধা দেন। এ সময় এক সরকারি বেকু চালকের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে চালকের গায়ে হাত তোলা হয়, এতে চালক আহত হন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

 

পরে গ্রামবাসীরা এগিয়ে এসে ওই চালককে উদ্ধার ও সান্ত্বনা দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে আকাশ মিয়ার উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় গ্রামবাসীদের প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলা দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন। ফলে ৪নং গালাগাও ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে আকাশ মিয়া ওই সরকারি চালকের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। এরপর হাতাহাতির বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা হয় বলে জানা গেছে।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পরও বিষয়টি থেমে থাকেনি।

 

সিসিটিভি বন্ধ, গাছ কাটার পর মামলা দেওয়ার অভিযোগ!

 

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার দিন রাতে আকাশ মিয়া তার বাগানের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেন। এরপর বাগানের কিছু পুরোনো গাছের ডালপালা কাটা এবং ফলনহীন কিছু গাছ উপড়ে ফেলার ঘটনা ঘটে অভিযোগকারীদের দাবি, এসব ঘটনার পর গ্রামের সাধারণ ও খেটে খাওয়া কয়েকজন মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।এমনকি আকাশ মিয়ার লোকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন গ্রামবাসী।

 

 

সাক্ষীদের নিয়েও প্রশ্ন স্থানীয়দের!

 

অভিযোগপত্রে সাক্ষী হিসেবে আকাশ মিয়ার আপন বড় ভাই তুলা মিয়া, ও আরেক ভাই নাজিমুদ্দিন, পালিত ভাতিজা অন্তর ও ভাতিজা মুস্তফার ও ফজলুল হক রাজধানীর শাহবাগ থানার, সাইবার সুরক্ষা মামলার আসামি। ২০ দিন জেল কাটার পর মামলার বাদীর জিম্মায় যাবিনে আছেন।এছাড়া আরও একজনকে সাক্ষী করার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও পূর্বের বিরোধের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

 

পুরোনো অভিযোগেরও তদন্ত দাবি!

 

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আকাশ মিয়াকে ঘিরে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে মামলা ও নানা বিরোধের অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া আকাশমিয়া সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা অপপ্রচারের করার অভিযোগ আছে। এছাড়া তাকে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মামলার আসামিদের জামিনে বের করার জন্য অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত আকাশ মিয়া অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

গ্রামবাসীদের দাবি তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

গ্রামবাসীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর এটার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন গ্রামবাসীরা।

 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একই ব্যক্তিকে ঘিরে যদি সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীকে মারধর, রাস্তার জমি দখল, ভয়ভীতি ও নিজের অন্যায় ঢাকতে পাল্টা মামলা দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ ওঠে, তাহলে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে না কেন?

গ্রামবাসীদের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা,তা নির্ধারণে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।তাদের ভাষায়,অভিযোগের বিচার হোক প্রমাণের ভিত্তিতে, প্রভাবের ভিত্তিতে নয়।আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্যের জন্য একাধিক বার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আকাশ মিয়াকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে মোলাবাড়ি!

আপডেট সময় : ০৯:২৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সরকারি কাজে বাধা থেকে চালককে মারধর, রাস্তার জমি দখল, ভয়ভীতি ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ!

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।। ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ৪ নং গালাগাঁও ইউনিয়নের মোলাবাড়ি গ্রামে আক্কাস আলী ওরফে আকাশ মিয়াকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে অভিযোগ,ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারি রাস্তার জমি ভোগদখল, সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন,ও গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হেনস্থা এবং সরকারি চালককে মারধরের মতো ঘটনায় জড়িয়েছেন তিনি।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে সরকারি রাস্তার দখলকৃত অংশ খননের কাজ চলাকালে আকাশ মিয়া সরকারি কাজে বাধা দেন। এ সময় এক সরকারি বেকু চালকের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে চালকের গায়ে হাত তোলা হয়, এতে চালক আহত হন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

 

পরে গ্রামবাসীরা এগিয়ে এসে ওই চালককে উদ্ধার ও সান্ত্বনা দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে আকাশ মিয়ার উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় গ্রামবাসীদের প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলা দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন। ফলে ৪নং গালাগাও ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে আকাশ মিয়া ওই সরকারি চালকের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। এরপর হাতাহাতির বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা হয় বলে জানা গেছে।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পরও বিষয়টি থেমে থাকেনি।

 

সিসিটিভি বন্ধ, গাছ কাটার পর মামলা দেওয়ার অভিযোগ!

 

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার দিন রাতে আকাশ মিয়া তার বাগানের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেন। এরপর বাগানের কিছু পুরোনো গাছের ডালপালা কাটা এবং ফলনহীন কিছু গাছ উপড়ে ফেলার ঘটনা ঘটে অভিযোগকারীদের দাবি, এসব ঘটনার পর গ্রামের সাধারণ ও খেটে খাওয়া কয়েকজন মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।এমনকি আকাশ মিয়ার লোকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন গ্রামবাসী।

 

 

সাক্ষীদের নিয়েও প্রশ্ন স্থানীয়দের!

 

অভিযোগপত্রে সাক্ষী হিসেবে আকাশ মিয়ার আপন বড় ভাই তুলা মিয়া, ও আরেক ভাই নাজিমুদ্দিন, পালিত ভাতিজা অন্তর ও ভাতিজা মুস্তফার ও ফজলুল হক রাজধানীর শাহবাগ থানার, সাইবার সুরক্ষা মামলার আসামি। ২০ দিন জেল কাটার পর মামলার বাদীর জিম্মায় যাবিনে আছেন।এছাড়া আরও একজনকে সাক্ষী করার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও পূর্বের বিরোধের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

 

পুরোনো অভিযোগেরও তদন্ত দাবি!

 

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আকাশ মিয়াকে ঘিরে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে মামলা ও নানা বিরোধের অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া আকাশমিয়া সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা অপপ্রচারের করার অভিযোগ আছে। এছাড়া তাকে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মামলার আসামিদের জামিনে বের করার জন্য অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত আকাশ মিয়া অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

গ্রামবাসীদের দাবি তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

গ্রামবাসীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর এটার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন গ্রামবাসীরা।

 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একই ব্যক্তিকে ঘিরে যদি সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীকে মারধর, রাস্তার জমি দখল, ভয়ভীতি ও নিজের অন্যায় ঢাকতে পাল্টা মামলা দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ ওঠে, তাহলে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে না কেন?

গ্রামবাসীদের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা,তা নির্ধারণে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।তাদের ভাষায়,অভিযোগের বিচার হোক প্রমাণের ভিত্তিতে, প্রভাবের ভিত্তিতে নয়।আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্যের জন্য একাধিক বার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।