১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চোরাই সিএনজি বেচাকেনার অভিযোগে আখতারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ ইরানের ওপর ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ নিষেধাজ্ঞা গাজীপুর থেকে কম দামে ইয়াবা কিনতে কক্সবাজারে নারী অত:পর সিঙ্গাপুরের ‘হুন্ডি শহিদ’ ও চার ভাইকে ঘিরে বিস্তর অভিযোগ-হুন্ডি, চোরাচালান ও আর্থিক অনিয়মের অনুসন্ধান দাবি! বরিশাল জেলা সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের ২০২৬ অভিষেক অনুষ্ঠিত। যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নাকি হাসিনার দেশে ফেরা! আওয়ামী লীগ যে পথে হেঁটেছে, বিএনপিও একই পথে হাঁটছে

গাজীপুর থেকে কম দামে ইয়াবা কিনতে কক্সবাজারে নারী অত:পর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজীপুর থেকে কক্সবাজারে এসেছিলেন খুচরা ইয়াবা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে অভিযোগ এমনটাই। উদ্দেশ্য ছিল উখিয়া-টেকনাফের তুলনামূলক কম দামে ইয়াবা কিনে ঢাকায় নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করে দ্রুত অর্থ উপার্জন করা। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই উখিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন ওই নারী।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়াবাগুলো এমন একটি স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, যা তল্লাশি করতে গিয়ে নারী সদস্যদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। তবে আইন সবার জন্য সমান প্রয়োজনীয় তল্লাশির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় কথিত ইয়াবা।
এই ঘটনাটি আবারও সামনে এনেছে ইয়াবা পাচারের ভয়াবহ বাস্তবতা। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের খবর প্রকাশ্যে আসে, কিন্তু এর আড়ালে থাকা বড় নেটওয়ার্ক, সরবরাহকারী ও মূল কারবারিরা অনেক সময়ই থেকে যায় আড়ালে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি ও মামলার নথি ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবার দাম স্থানভেদে কয়েক গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। উখিয়া-টেকনাফে যে দামে পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়, পরিবহন ও ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা হয়ে ঢাকায় পৌঁছানোর পর এর অবৈধ বাজারমূল্য আরও বেড়ে যায়। আর দেশের উত্তরাঞ্চল কিংবা সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছালে সেই মূল্য আরও বাড়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কক্সবাজারের বাড়ি হলেই কেউ মাদক কারবারি এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। মুষ্টিমেয় অপরাধীর কর্মকাণ্ডের দায় পুরো কক্সবাজারবাসীর ওপর চাপানো কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়। মাদকবিরোধী লড়াইয়ে প্রয়োজন প্রকৃত কারবারি, সরবরাহকারী ও নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।
ইয়াবা কোনো ‘হিরো’ হওয়ার উপকরণ নয়; এর পেছনে রয়েছে ভয়াবহ অপরাধচক্র, অর্থের লোভ এবং মানুষের জীবন ধ্বংসের নির্মম বাস্তবতা। তাই সাময়িক লাভের আশায় মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আগে এর পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গাজীপুর থেকে কম দামে ইয়াবা কিনতে কক্সবাজারে নারী অত:পর

আপডেট সময় : ১২:৫৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুর থেকে কক্সবাজারে এসেছিলেন খুচরা ইয়াবা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে অভিযোগ এমনটাই। উদ্দেশ্য ছিল উখিয়া-টেকনাফের তুলনামূলক কম দামে ইয়াবা কিনে ঢাকায় নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করে দ্রুত অর্থ উপার্জন করা। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই উখিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন ওই নারী।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়াবাগুলো এমন একটি স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, যা তল্লাশি করতে গিয়ে নারী সদস্যদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। তবে আইন সবার জন্য সমান প্রয়োজনীয় তল্লাশির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় কথিত ইয়াবা।
এই ঘটনাটি আবারও সামনে এনেছে ইয়াবা পাচারের ভয়াবহ বাস্তবতা। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের খবর প্রকাশ্যে আসে, কিন্তু এর আড়ালে থাকা বড় নেটওয়ার্ক, সরবরাহকারী ও মূল কারবারিরা অনেক সময়ই থেকে যায় আড়ালে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি ও মামলার নথি ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবার দাম স্থানভেদে কয়েক গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। উখিয়া-টেকনাফে যে দামে পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়, পরিবহন ও ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা হয়ে ঢাকায় পৌঁছানোর পর এর অবৈধ বাজারমূল্য আরও বেড়ে যায়। আর দেশের উত্তরাঞ্চল কিংবা সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছালে সেই মূল্য আরও বাড়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কক্সবাজারের বাড়ি হলেই কেউ মাদক কারবারি এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। মুষ্টিমেয় অপরাধীর কর্মকাণ্ডের দায় পুরো কক্সবাজারবাসীর ওপর চাপানো কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়। মাদকবিরোধী লড়াইয়ে প্রয়োজন প্রকৃত কারবারি, সরবরাহকারী ও নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।
ইয়াবা কোনো ‘হিরো’ হওয়ার উপকরণ নয়; এর পেছনে রয়েছে ভয়াবহ অপরাধচক্র, অর্থের লোভ এবং মানুষের জীবন ধ্বংসের নির্মম বাস্তবতা। তাই সাময়িক লাভের আশায় মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আগে এর পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।