০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটি টাকার সরকারি ভবন ৫৪ হাজার টাকায় নিলাম!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বানারীপাড়ার পুরাতন কোর্ট ভবন নিয়ে তীব্র প্রশ্ন-সরকারের রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, গণপূর্তের নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে রহস্য!

 

বরিশাল প্রতিনিধি।।বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা চত্বরের পুরাতন কোর্ট ভবন মাত্র ৫৪ হাজার টাকায় নিলাম দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল আয়তনের সরকারি ভবনটি এত কম দামে নিলাম হওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে নিলাম প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতামূল্য নির্ধারণ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন

 

অভিযোগের তীর বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নিলাম প্রক্রিয়ার দিকে। স্থানীয়দের প্রশ্ন,যে ভবনের ভাঙারি ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যই কয়েক লাখ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি কীভাবে মাত্র ৫৪ হাজার টাকায় নিলাম হলো?

 

৯৫টি শিডিউল বিক্রি, জমা পড়ল মাত্র ৪টি!

 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২ জুলাই বরিশাল গণপূর্ত কার্যালয় বানারীপাড়ার পুরাতন কোর্ট ভবনটি নিলামের জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তির পর মোট ৯৫টি শিডিউল বিক্রি হয় বলে জানা গেছে। দরপত্র জমাদানের শেষ সময় ছিল ১৯ জুলাই এবং ২০ জুলাই দরপত্র খোলা হয়।তবে ৯৫টি শিডিউল বিক্রি হলেও দরপত্র জমা পড়ে মাত্র ৪টি। শেষ পর্যন্ত ‘সরদার এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ভবনটি নিলামে পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।এখানেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন,৯৫টি শিডিউল বিক্রি হওয়ার পর মাত্র চারটি দরপত্র জমা পড়ার কারণ কী? আর প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভবনটির নিলামমূল্য মাত্র ৫৪ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকল কীভাবে?

 

স্থানীয়দের দাবি,মূল্যায়ন ও নিলাম প্রক্রিয়া তদন্তের আওতায় আসুক!

 

স্থানীয়দের দাবি, ভবনটির অবস্থান, আয়তন ও নির্মাণসামগ্রী বিবেচনায় ন্যূনতম কয়েক লাখ টাকা মূল্য পাওয়ার কথা। কেউ কেউ দাবি করছেন, ভবনটি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা বা তারও বেশি মূল্যে নিলাম হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।তবে এসব দাবির বিপরীতে গণপূর্তের মূল্যায়ন কী ছিল, ভবনের অবশিষ্ট রড, ইট, দরজা-জানালা ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর আনুমানিক মূল্য কত নির্ধারণ করা হয়েছিল,এসব তথ্য এখনো জনসম্মুখে পরিষ্কার নয়।

 

গণপূর্তের বক্তব্য কী?

 

এ বিষয়ে গণপূর্তের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া বলেন, ভবনটিতে পুরাতন রডের পরিমাণ কম এবং রডে মরিচা ধরেছে। ভবনে ইটের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সেগুলো ভাঙতে ব্যয় বেশি হবে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই নিয়ম অনুযায়ী ভবনটি নিলামে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন,যদি ভবন ভাঙতে ব্যয় বেশি হয়, তাহলে সরকারি নিলাম মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি কী ছিল? মূল্যায়ন কমিটির রিপোর্টে ভবনটির প্রতিটি উপকরণের মূল্য কত ধরা হয়েছিল?

 

নিলামের পর ভবনটি বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির দাবি, নিলামে ভবনটি পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে এটি প্রায় ১০ লাখ টাকায় অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেছে।তবে এই দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগটি সত্য হলে প্রশ্ন আরও গুরুতর হয়ে দাঁড়ায়,সরকার যেখানে মাত্র ৫৪ হাজার টাকা পেয়েছে, সেখানে একই ভবন যদি পরবর্তীতে কয়েক লাখ টাকায় হাতবদল হয়ে থাকে, তাহলে সরকারি সম্পদের প্রকৃত মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন?

 

কর্মকর্তার সম্পদ নিয়েও অভিযোগ!

 

এদিকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকারিয়াকে ঘিরে আরও কিছু অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, তিনি গণপূর্তের বিভিন্ন ঠিকাদারি লাইসেন্সের অনলাইন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।এমনকি তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের অভিযোগও করা হয়েছে। ঢাকার বনানীতে তার বহুতল ভবন রয়েছে,এমন দাবিও উঠেছে।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জাকারিয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বনানীতে নিজের বাড়ি থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, তিনি সেখানে ভাড়া বাসায় থাকেন। গ্রামের বাড়িতে বাবা-দাদার নির্মিত ভবনে বসবাসের কথাও জানান তিনি।

 

দুদকের তদন্তের দাবি!

সরকারি সম্পত্তি মাত্র ৫৪ হাজার টাকায় নিলাম হওয়া এবং পরবর্তীতে সেটি বেশি দামে হাতবদলের অভিযোগ সত্য হলে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, নিলামের আগে ভবনটির সরকারি মূল্যায়ন, টেকনিক্যাল কমিটির প্রতিবেদন, নিলাম বিজ্ঞপ্তি, বিক্রি হওয়া শিডিউলের হিসাব, জমা পড়া দরপত্র, সর্বোচ্চ দর, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং নিলাম-পরবর্তী লেনদেন,সবকিছু তদন্ত করা হোক।প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি!

 

 

এ বিষয়ে বরিশাল গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রকাশের আগ পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এখন মূল প্রশ্ন একটাই!

 

সরকারি কোটি টাকার সম্পদ,মূল্যায়ন কত ছিল, নিলাম হলো মাত্র ৫৪ হাজার টাকায় কেন?৯৫টি শিডিউল বিক্রি হলো, অথচ দরপত্র জমা পড়ল মাত্র চারটি,এর পেছনে কোনো কারিগরি বা প্রশাসনিক কারণ ছিল কি না, সেটিও এখন তদন্তের দাবি রাখে।সরকারি সম্পত্তির নিলামে যদি সত্যিই মূল্যায়ন ও প্রক্রিয়াগত কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে দায় শুধু একজন ঠিকাদারের নয়,নিলাম প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি।
স্থানীয়দের ভাষায়,সরকারি সম্পদ জনগণের সম্পদ। ৫৪ হাজার টাকার নিলামের আড়ালে যদি সরকারি রাজস্বের ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে এর জবাবদিহি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।তাই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে,৫৪ হাজার টাকার এই নিলাম কি সত্যিই নিয়মমাফিক, নাকি সরকারি সম্পদের মূল্যায়ন ও নিলাম প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের গাফিলতির ফল? তদন্তেই মিলতে পারে প্রকৃত উত্তর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কোটি টাকার সরকারি ভবন ৫৪ হাজার টাকায় নিলাম!

আপডেট সময় : ১১:১৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বানারীপাড়ার পুরাতন কোর্ট ভবন নিয়ে তীব্র প্রশ্ন-সরকারের রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, গণপূর্তের নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে রহস্য!

 

বরিশাল প্রতিনিধি।।বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা চত্বরের পুরাতন কোর্ট ভবন মাত্র ৫৪ হাজার টাকায় নিলাম দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল আয়তনের সরকারি ভবনটি এত কম দামে নিলাম হওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে নিলাম প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতামূল্য নির্ধারণ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন

 

অভিযোগের তীর বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নিলাম প্রক্রিয়ার দিকে। স্থানীয়দের প্রশ্ন,যে ভবনের ভাঙারি ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যই কয়েক লাখ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি কীভাবে মাত্র ৫৪ হাজার টাকায় নিলাম হলো?

 

৯৫টি শিডিউল বিক্রি, জমা পড়ল মাত্র ৪টি!

 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২ জুলাই বরিশাল গণপূর্ত কার্যালয় বানারীপাড়ার পুরাতন কোর্ট ভবনটি নিলামের জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তির পর মোট ৯৫টি শিডিউল বিক্রি হয় বলে জানা গেছে। দরপত্র জমাদানের শেষ সময় ছিল ১৯ জুলাই এবং ২০ জুলাই দরপত্র খোলা হয়।তবে ৯৫টি শিডিউল বিক্রি হলেও দরপত্র জমা পড়ে মাত্র ৪টি। শেষ পর্যন্ত ‘সরদার এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ভবনটি নিলামে পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।এখানেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন,৯৫টি শিডিউল বিক্রি হওয়ার পর মাত্র চারটি দরপত্র জমা পড়ার কারণ কী? আর প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভবনটির নিলামমূল্য মাত্র ৫৪ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকল কীভাবে?

 

স্থানীয়দের দাবি,মূল্যায়ন ও নিলাম প্রক্রিয়া তদন্তের আওতায় আসুক!

 

স্থানীয়দের দাবি, ভবনটির অবস্থান, আয়তন ও নির্মাণসামগ্রী বিবেচনায় ন্যূনতম কয়েক লাখ টাকা মূল্য পাওয়ার কথা। কেউ কেউ দাবি করছেন, ভবনটি ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা বা তারও বেশি মূল্যে নিলাম হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।তবে এসব দাবির বিপরীতে গণপূর্তের মূল্যায়ন কী ছিল, ভবনের অবশিষ্ট রড, ইট, দরজা-জানালা ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর আনুমানিক মূল্য কত নির্ধারণ করা হয়েছিল,এসব তথ্য এখনো জনসম্মুখে পরিষ্কার নয়।

 

গণপূর্তের বক্তব্য কী?

 

এ বিষয়ে গণপূর্তের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া বলেন, ভবনটিতে পুরাতন রডের পরিমাণ কম এবং রডে মরিচা ধরেছে। ভবনে ইটের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সেগুলো ভাঙতে ব্যয় বেশি হবে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই নিয়ম অনুযায়ী ভবনটি নিলামে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন,যদি ভবন ভাঙতে ব্যয় বেশি হয়, তাহলে সরকারি নিলাম মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি কী ছিল? মূল্যায়ন কমিটির রিপোর্টে ভবনটির প্রতিটি উপকরণের মূল্য কত ধরা হয়েছিল?

 

নিলামের পর ভবনটি বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির দাবি, নিলামে ভবনটি পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে এটি প্রায় ১০ লাখ টাকায় অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেছে।তবে এই দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগটি সত্য হলে প্রশ্ন আরও গুরুতর হয়ে দাঁড়ায়,সরকার যেখানে মাত্র ৫৪ হাজার টাকা পেয়েছে, সেখানে একই ভবন যদি পরবর্তীতে কয়েক লাখ টাকায় হাতবদল হয়ে থাকে, তাহলে সরকারি সম্পদের প্রকৃত মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না কেন?

 

কর্মকর্তার সম্পদ নিয়েও অভিযোগ!

 

এদিকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকারিয়াকে ঘিরে আরও কিছু অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, তিনি গণপূর্তের বিভিন্ন ঠিকাদারি লাইসেন্সের অনলাইন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।এমনকি তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের অভিযোগও করা হয়েছে। ঢাকার বনানীতে তার বহুতল ভবন রয়েছে,এমন দাবিও উঠেছে।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জাকারিয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বনানীতে নিজের বাড়ি থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, তিনি সেখানে ভাড়া বাসায় থাকেন। গ্রামের বাড়িতে বাবা-দাদার নির্মিত ভবনে বসবাসের কথাও জানান তিনি।

 

দুদকের তদন্তের দাবি!

সরকারি সম্পত্তি মাত্র ৫৪ হাজার টাকায় নিলাম হওয়া এবং পরবর্তীতে সেটি বেশি দামে হাতবদলের অভিযোগ সত্য হলে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, নিলামের আগে ভবনটির সরকারি মূল্যায়ন, টেকনিক্যাল কমিটির প্রতিবেদন, নিলাম বিজ্ঞপ্তি, বিক্রি হওয়া শিডিউলের হিসাব, জমা পড়া দরপত্র, সর্বোচ্চ দর, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং নিলাম-পরবর্তী লেনদেন,সবকিছু তদন্ত করা হোক।প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি!

 

 

এ বিষয়ে বরিশাল গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রকাশের আগ পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এখন মূল প্রশ্ন একটাই!

 

সরকারি কোটি টাকার সম্পদ,মূল্যায়ন কত ছিল, নিলাম হলো মাত্র ৫৪ হাজার টাকায় কেন?৯৫টি শিডিউল বিক্রি হলো, অথচ দরপত্র জমা পড়ল মাত্র চারটি,এর পেছনে কোনো কারিগরি বা প্রশাসনিক কারণ ছিল কি না, সেটিও এখন তদন্তের দাবি রাখে।সরকারি সম্পত্তির নিলামে যদি সত্যিই মূল্যায়ন ও প্রক্রিয়াগত কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে দায় শুধু একজন ঠিকাদারের নয়,নিলাম প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি।
স্থানীয়দের ভাষায়,সরকারি সম্পদ জনগণের সম্পদ। ৫৪ হাজার টাকার নিলামের আড়ালে যদি সরকারি রাজস্বের ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে এর জবাবদিহি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।তাই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে,৫৪ হাজার টাকার এই নিলাম কি সত্যিই নিয়মমাফিক, নাকি সরকারি সম্পদের মূল্যায়ন ও নিলাম প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের গাফিলতির ফল? তদন্তেই মিলতে পারে প্রকৃত উত্তর।