ফিফা বিশ্বকাপ
২১ বছর পর আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের লড়াই
- আপডেট সময় : ০১:০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

ফুটবল পিচে এমন খুব কম অর্জনই আছে যা লিওনেল মেসির ঝুলিতে নেই। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহাতারকা তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ২০০-এর বেশি ম্যাচ খেলেছেন, করেছেন রেকর্ড ১২৫টি আন্তর্জাতিক গোল।
অথচ ৩৯ বছর বয়সী এই খুদে জাদুকরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এখনো একটি অপূর্ণতা রয়ে গেছে; তা হলো থ্রি লায়নস বা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনো মাঠে নামা হয়নি তার। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে।
আগামী বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে এক সময় আর্জেন্টিনার বিদায়ের শঙ্কা জেগেছিল, তবে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলের জয়ে শেষ চারে পা রাখে আলবিসেলেস্তেরা।
এই ম্যাচে মেসি চলতি আসরে প্রথমবারের মতো গোলহীন ছিলেন, তবে ৮ গোল নিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এখনো যৌথভাবে শীর্ষে আছেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও।
মেসির এই ঐতিহাসিক ম্যাচ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিবিসি পণ্ডিত মিকাহ রিচার্ডস বলেন, ‘মেসিকে মার্ক করা অসম্ভব। ও নিচে নেমে রক্ষণ সামলায় না, বরং এমন সব পকেটে (খালি জায়গায়) অবস্থান নেয় যেখানে ওর থাকার কথা নয়। সঠিক সময়ে ও জ্বলে ওঠে। মেসির মতো ‘অরা’ আর কোনো ফুটবলারের নেই, এটা অন্য লেভেলের।’
তবে টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড দল এই আর্জেন্টিনাকে খুব বেশি ভয় পাবে না বলে মনে করেন সাবেক ফুটবলার ক্রিস সাটন। অন্যদিকে সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি মেসির রক্ষণাত্মক দুর্বলতার দিকে আঙুল তুলেছেন। রুনির মতে, ‘ডিফেন্সে মেসি আর্জেন্টিনার দুর্বলতা হতে পারে, কারণ ও নিচে নেমে দৌড়ায় না। জুড বেলিংহামের মতো ও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কিছু মুহূর্ত তৈরি করে। মেসিকে আটকাতে হলে সতীর্থদের মধ্যে দারুণ যোগাযোগ ও মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।’
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল বিশেষজ্ঞ টিম ভিকারির মতে, এটিই ছিল আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাঙ্ক্ষিত সেমিফাইনাল। কেননা ২০০-র বেশি ম্যাচ খেলা মেসি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি না হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করবেন, তা ভাবাই যায় না। কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় হাফেই আর্জেন্টাইন সমর্থকরা গ্যালারিতে ‘যে লাফাবে না, সে ইংরেজ’ বলে স্লোগান দেওয়া শুরু করে দিয়েছেন।
ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ চিরকালই নাটকীয়তায় ভরা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল কিংবা ১২ বছর পর সেন্ট-এতিয়েনে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড; প্রতিটি ম্যাচই ছিল বারুদে ঠাসা। তবে দল দুটি দীর্ঘ ২১ বছর পর এবারই প্রথম মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
২০০৫ সালে ১৮ বছর বয়সে মেসির অভিষেকের পর মাত্র একবারই এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল, তবে লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে সেবার মেসির খেলা হয়নি। হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেকের মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মাথায় লাল কার্ড দেখেছিলেন তিনি। এরপর জেনেভায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই প্রীতি ম্যাচে মেসিকে ছাড়াই ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল আর্জেন্টিনা।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির প্রিয় প্রতিপক্ষ বলিভিয়া, যাদের বিরুদ্ধে ১২ ম্যাচে ১১ গোল করেছেন তিনি। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ৭টি এবং ইকুয়েডরের বিপক্ষে রয়েছে ৭টি গোল। এছাড়া উরুগুয়ের বিপক্ষে ৬টি এবং ব্রাজিলের বিপক্ষে ৫টি গোল করেছেন তিনি। ইউরোপের পরাশক্তি ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও রয়েছে ৩টি করে গোল।
এর মধ্যে ২০২২ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড়া গোল অন্যতম। একাধিকবার ম্যাচ খেলে মেসি গোল পাননি, এমন একমাত্র দল হলো কাতার (২ ম্যাচ)। এবার দেখার বিষয়, ক্যারিয়ারের প্রথম দেখায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসি নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়ে নিতে পারেন কিনা।
























