০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওএসডি থেকে বরিশালের সিভিল সার্জন! সাবেক স্বাচিপ নেতা ডা. মনিরুজ্জামানের পদায়নে কেন নতুন বিতর্ক? ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ জামায়াত কোনো তোষামোদকারীকে দেখতে চায় না অতীতের সব রেকর্ড ছাড়াতে পারে তেলের দাম সারাদেশে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি বরিশালে ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন!সভাপতি পলাশ, সম্পাদক শাহীন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সুযোগ আছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রামে শুধুমাত্র অনুপস্থিতরাই পরীক্ষা দিতে পারবে- শিক্ষামন্ত্রী

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়াতে পারে তেলের দাম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তেলের বাজার এতদিন বেশ শক্তভাবেই টিকে ছিল, কিন্তু ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেই টিকে থাকার সক্ষমতা এখন সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে পড়েছে।

বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম বৃহৎ এই তেল সংকটের মাঝেও জ্বালানি খাতের আশ্চর্যজনক কৌশলগত সমাধানগুলো সাধারণ গ্রাহকদের মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। যুদ্ধের সময় অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বস্তিকরভাবে বাড়লেও, তা কখনোই ২০২২ সালের প্রতি ব্যারেল ১২৮ ডলার কিংবা ২০০৮ সালের চরম মন্দার ঠিক আগের ১৪৬ ডলারের সর্বকালের রেকর্ড স্পর্শ করেনি।

তবে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র চাপ তৈরি হচ্ছে এবং এই নতুন সংঘাত তেলের দামকে সেই রেকর্ডগুলো অতিক্রম করিয়ে দিতে পারে। খবর সিএনএনের।

আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটস-এর গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজির প্রধান হেলিমা ক্রফটের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত স্পষ্টভাবে আরও বিপজ্জনক এক ধাপে প্রবেশ করেছে। এটি বাজারের সেই ধারণাকে বদলে দিতে পারে যেখানে ভাবা হতো—সব সমস্যার একটা বিকল্প পথ বের হয়েই যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মে মাসের পর প্রথমবারের মতো তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গ্যালনপ্রতি পেট্রোলের দাম এখন ৪ ডলারের উপরে এবং ডিজেলের দাম ৫.২০ ডলারের উপরে স্থির হয়েছে। বন্ড মার্কেট নির্দেশ করছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন তারা মূল্যস্ফীতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।

গত পাঁচ মাস ধরে তেলের দামকে হঠাৎ লাফিয়ে উঠতে না দেওয়ার পেছনে যেসব কারণ ছিল, তার প্রতিটিই এখন দুর্বল হয়ে গেছে অথবা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। ফলে তেলের চড়া দামের সেই দানবটি তার সব শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।

আগের চিত্র অনুসারে তেলের চালানগুলো লোহিত সাগর হয়ে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলকে পাশ কাটিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাত। তবে বর্তমান চিত্র অনুযায়ী দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ নৌপথের কারণে তেলের সরবরাহ বন্ধ বা সংকুচিত হয়ে আসছে।

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের আক্রমণের ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অপরিশোধিত তেলের বেশিভাগ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে বাজার বিকল্প উপায় বের করে পারস্য উপসাগরের পরিবর্তে লোহিত সাগরে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা শুরু করেছিল (জেপি মরগানের তথ্য অনুযায়ী)।

তবে ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স উল্লেখ করেছে, সেই বিকল্প পাইপলাইনগুলোও এখন হুমকির মুখে। বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের অবরোধের ফলে সৌদি আরবের প্রতিদিনের প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেলের আরেকটি চালান বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

জেপি মরগানের গ্লোবাল কমোডিটি স্ট্র্যাটেজির প্রধান নাতাশা কানেভার মতে, সৌদি আরব সেই তেল সুয়েজ খাল দিয়ে উত্তরের দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে, কিন্তু খালের পানির গভীরতার সীমাবদ্ধতার কারণে পূর্ণ ধারণক্ষমতার বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো ওই পথ দিয়ে যেতে পারে না। এমনকি যদি ছোট ট্যাংকারেও তেল পরিবহন করা হয়, তবে ভূমধ্যসাগর হয়ে এবং আফ্রিকা ঘুরে যাওয়ার কারণে সাধারণ ৪ সপ্তাহের পথ অতিক্রম করতে এখন সময় লাগবে ৮ সপ্তাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়াতে পারে তেলের দাম

আপডেট সময় : ০৮:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

তেলের বাজার এতদিন বেশ শক্তভাবেই টিকে ছিল, কিন্তু ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেই টিকে থাকার সক্ষমতা এখন সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে পড়েছে।

বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম বৃহৎ এই তেল সংকটের মাঝেও জ্বালানি খাতের আশ্চর্যজনক কৌশলগত সমাধানগুলো সাধারণ গ্রাহকদের মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। যুদ্ধের সময় অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বস্তিকরভাবে বাড়লেও, তা কখনোই ২০২২ সালের প্রতি ব্যারেল ১২৮ ডলার কিংবা ২০০৮ সালের চরম মন্দার ঠিক আগের ১৪৬ ডলারের সর্বকালের রেকর্ড স্পর্শ করেনি।

তবে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র চাপ তৈরি হচ্ছে এবং এই নতুন সংঘাত তেলের দামকে সেই রেকর্ডগুলো অতিক্রম করিয়ে দিতে পারে। খবর সিএনএনের।

আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটস-এর গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজির প্রধান হেলিমা ক্রফটের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত স্পষ্টভাবে আরও বিপজ্জনক এক ধাপে প্রবেশ করেছে। এটি বাজারের সেই ধারণাকে বদলে দিতে পারে যেখানে ভাবা হতো—সব সমস্যার একটা বিকল্প পথ বের হয়েই যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মে মাসের পর প্রথমবারের মতো তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গ্যালনপ্রতি পেট্রোলের দাম এখন ৪ ডলারের উপরে এবং ডিজেলের দাম ৫.২০ ডলারের উপরে স্থির হয়েছে। বন্ড মার্কেট নির্দেশ করছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন তারা মূল্যস্ফীতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।

গত পাঁচ মাস ধরে তেলের দামকে হঠাৎ লাফিয়ে উঠতে না দেওয়ার পেছনে যেসব কারণ ছিল, তার প্রতিটিই এখন দুর্বল হয়ে গেছে অথবা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। ফলে তেলের চড়া দামের সেই দানবটি তার সব শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।

আগের চিত্র অনুসারে তেলের চালানগুলো লোহিত সাগর হয়ে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলকে পাশ কাটিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাত। তবে বর্তমান চিত্র অনুযায়ী দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ নৌপথের কারণে তেলের সরবরাহ বন্ধ বা সংকুচিত হয়ে আসছে।

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের আক্রমণের ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অপরিশোধিত তেলের বেশিভাগ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে বাজার বিকল্প উপায় বের করে পারস্য উপসাগরের পরিবর্তে লোহিত সাগরে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা শুরু করেছিল (জেপি মরগানের তথ্য অনুযায়ী)।

তবে ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স উল্লেখ করেছে, সেই বিকল্প পাইপলাইনগুলোও এখন হুমকির মুখে। বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের অবরোধের ফলে সৌদি আরবের প্রতিদিনের প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেলের আরেকটি চালান বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

জেপি মরগানের গ্লোবাল কমোডিটি স্ট্র্যাটেজির প্রধান নাতাশা কানেভার মতে, সৌদি আরব সেই তেল সুয়েজ খাল দিয়ে উত্তরের দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে, কিন্তু খালের পানির গভীরতার সীমাবদ্ধতার কারণে পূর্ণ ধারণক্ষমতার বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো ওই পথ দিয়ে যেতে পারে না। এমনকি যদি ছোট ট্যাংকারেও তেল পরিবহন করা হয়, তবে ভূমধ্যসাগর হয়ে এবং আফ্রিকা ঘুরে যাওয়ার কারণে সাধারণ ৪ সপ্তাহের পথ অতিক্রম করতে এখন সময় লাগবে ৮ সপ্তাহ।