সর্বস্তরে ইসলামের আদর্শের দাওয়াত পৌঁছানোর আহ্বান মুয়াযযম হোসাইন হেলালের!
- আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর তাগিদ, আমীর নির্বাচনে ভোটাভুটি।
আরিফ আহমেদ।।বরিশালে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের আদর্শের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল জেলা রুকন সম্মেলন। শনিবার (১০ অক্টোবর) নগরীর বরিশাল ক্লাব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সম্মেলনে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের আমল-আখলাক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই দিনে জেলা আমীর নির্বাচনে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হলেও ফলাফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও এক মাস।
দাওয়াতের বার্তা, সংগঠন শক্তিশালী করার তাগিদ!
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, ইসলামের সুমহান আদর্শের বার্তা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শুধু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না,ব্যক্তিগত চরিত্র, সততা, শৃঙ্খলা ও জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।তিনি বলেন, বরিশাল জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে। রুকনদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা, দুর্ভোগ ও প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। পরিকল্পিত দাওয়াতি তৎপরতা, গণসংযোগ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বরিশাল জেলাকে ইসলামী আন্দোলনের শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাজে ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীলদের নিষ্ঠা ও ত্যাগের সঙ্গে কাজ করার ওপরও জোর দেন মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। পাশাপাশি সংগঠনের প্রতিটি স্তরে নিয়মিত বৈঠক, পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও দাওয়াতি কার্যক্রম নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।সম্মেলন ঘিরে নগরীতে উপস্থিতি, আলোচনায় সাংগঠনিক তৎপরতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার জোহরের নামাজের সময় নগরীর জেলা স্কুল মসজিদে মুসল্লিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। বেলা দেড়টার দিকে খাবারের প্যাকেট হাতে অনেককে নামাজের জামাতে অংশ নিতে দেখা যায়।তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নগরীতে জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলন চলছে।সকাল সাড়ে ৯টায় বরিশাল ক্লাব অডিটোরিয়ামে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বরিশাল জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বার।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগরী জামায়াতের আমীর মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা ও অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা ফখরুদ্দিন খান রাজী এবং অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক শাহ আলম।জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুন্নবি তালুকদারের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর মাস্টার আব্দুল মান্নান, ড. মাহফুজুর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
জেলা আমীর নির্বাচনে ভোট, ফল জানতে অপেক্ষা এক মাস!
সম্মেলনের দিন বরিশাল জেলা জামায়াতের আমীর নির্বাচনে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ভোটের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। জানা গেছে, এক মাস পর পরবর্তী সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।ফলে জেলা আমীর নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে পরবর্তী ঘোষণার দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। তবে ভোটাভুটির ফল প্রকাশের আগে সম্ভাব্য বিজয়ী কিংবা পরাজিত প্রার্থী সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
আঞ্চলিক নেতৃত্বে পরিবর্তন, জেলা পর্যায়ে নতুন সমীকরণের অপেক্ষা!
এদিকে জেলা রুকন সম্মেলনের আগেই জামায়াতের বরিশাল অঞ্চলের সাংগঠনিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। ৭ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। এর আগে দীর্ঘদিন এ দায়িত্বে ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ৭ অক্টোবর বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ও মহানগরীর নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত অঞ্চল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মতিউর রহমান আকন্দ। ওই বৈঠকে মুয়াযযম হোসাইন হেলালও উপস্থিত ছিলেন।আঞ্চলিক নেতৃত্বে এই পরিবর্তন এবং জেলা আমীর নির্বাচনে ভোটাভুটি-দুটি পৃথক সাংগঠনিক ঘটনা। তবে এ দুটির মধ্য দিয়ে বরিশালে দলটির সাংগঠনিক কাঠামো, দায়িত্ব বণ্টন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার পরিসর তৈরি হয়েছে।
সমাবেশ-গণসংযোগের বাইরে জনআস্থার পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ!
বরিশালে জামায়াতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ উল্লেখযোগ্য। এসব কর্মসূচির পাশাপাশি রুকন সম্মেলনে দাওয়াতি কার্যক্রম, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচির সাফল্য শুধু সম্মেলনের উপস্থিতি, বক্তব্য কিংবা সমাবেশের পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকে না। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা এবং ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে বাস্তব কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য বজায় রাখাই জনআস্থা অর্জনের বড় পরীক্ষা।এখন দেখার বিষয়, সম্মেলনের মঞ্চে দেওয়া নির্দেশনা কতটা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়, রুকনরা মাঠপর্যায়ে কতটা সক্রিয় হন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে বরিশাল জেলা জামায়াত কী ধরনের কার্যকর ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে জেলা আমীর নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সাংগঠনিক নেতৃত্বের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনাও পর্যবেক্ষণে থাকবে।















