যাত্রাবাড়ীতে আত্মগোপনে থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তাওসীফকে গ্রেপ্তারে অভিযান!
- আপডেট সময় : ০১:৪১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক।। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় আত্মগোপনে থাকা শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তাওসীফ আহমেদের বিরুদ্ধে বিবাহিত নারীদের সঙ্গে প্রতারণামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং মাদক কারবারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাওসীফ আহমেদের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট এলাকায়। সেখানে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার সময় তার বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি এলাকা ছেড়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার কাজলা এলাকায় আত্মগোপন করেন বলে জানা গেছে।
প্রেমের ফাঁদ, ছবি-ভিডিও এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ!
স্থানীয়দের ভাষ্য ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, কাজলায় অবস্থানকালে তাওসীফ ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে কয়েকজন বিবাহিত নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে তাদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজন সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক জটিলতার আশঙ্কায় এতদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মাদক কারবারের অভিযোগও তদন্তে!
শুধু ব্ল্যাকমেইল নয়, কাজলা ও আশপাশের এলাকায় তাওসীফ মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত,এমন অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে তিনি এলাকায় একটি মাদক সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো অভিযোগকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
একাধিক মামলার তথ্য, চলছে গ্রেপ্তার অভিযান!
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাওসীফ আহমেদের বিরুদ্ধে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে চাঁদাবাজি, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নারীদের ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ এবং কথিত মাদক কারবারের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।পুলিশের ভাষ্য, অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন,রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ যদি নারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল কিংবা মাদক কারবারের মতো অপরাধে জড়িয়ে থাকে, তাহলে তার পরিচয় বা প্রভাব নয়, আইনের কঠোর প্রয়োগই হওয়া উচিত।














