০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থানচিতে শতাধিক পর্যটক আটকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের থানচি উপজেলার সাংগু নদী ও রেমাক্রী খালসহ ছোট-বড় অধিকাংশ পাহাড়ি ঝিরি-ঝরনার পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী ও পাহাড়ি ছড়াগুলোতে প্রবল স্রোত তৈরি হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম পর্যটন এলাকায় বর্তমানে শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আজ সোমবার বিকেলে এই পরিস্থিতির কথা প্রকাশ পায়।

স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার থেকে থানচি এলাকায় মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়।

এর ফলে সাংগু নদী উত্তাল হয়ে ওঠায় নৌযান চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
তিন্দু ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মংপ্রুঅং মারমা জানান, তিন্দুর বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ ‘বড় পাথর’ এলাকায় পর্যটকবাহী একটি নৌকা তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে ডুবে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত দুর্ঘটনার আগেই মাঝি পর্যটকদের নিরাপদে নদীর তীরে নামিয়ে দেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও জানান, রেমাক্রী এলাকায় বর্তমানে ২০ থেকে ৩০ জন পর্যটক আটকে আছেন এবং পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের কারণে নদীর পানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের থানচি সদরে ফেরা সম্ভব হবে না।

এদিকে থানচি পর্যটক গাইড কল্যাণ সমিতির সভাপতি জওয়াইপ্রু মারমা জানিয়েছেন, রেমাক্রী খালের পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় নাফাখুম জলপ্রপাত এলাকায় প্রায় ৭০ জনের মতো পর্যটক অবস্থান করছেন। আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কেবল তারা নিরাপদ স্থানে ফিরে আসতে পারবেন।

তবে পর্যটকদের এই আটকে পড়ার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত তথ্য পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সাংগু নদী ও পাহাড়ি খালের পানি দ্রুত বাড়ছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা এড়াতে আপাতত তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুমে ভ্রমণের বিষয়ে মৌখিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটক, গাইড এবং নৌযান চালকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ ও নৌকা চলাচল থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

থানচিতে শতাধিক পর্যটক আটকা

আপডেট সময় : ১২:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের থানচি উপজেলার সাংগু নদী ও রেমাক্রী খালসহ ছোট-বড় অধিকাংশ পাহাড়ি ঝিরি-ঝরনার পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নদী ও পাহাড়ি ছড়াগুলোতে প্রবল স্রোত তৈরি হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম পর্যটন এলাকায় বর্তমানে শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আজ সোমবার বিকেলে এই পরিস্থিতির কথা প্রকাশ পায়।

স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার থেকে থানচি এলাকায় মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়।

এর ফলে সাংগু নদী উত্তাল হয়ে ওঠায় নৌযান চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
তিন্দু ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মংপ্রুঅং মারমা জানান, তিন্দুর বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ ‘বড় পাথর’ এলাকায় পর্যটকবাহী একটি নৌকা তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে ডুবে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত দুর্ঘটনার আগেই মাঝি পর্যটকদের নিরাপদে নদীর তীরে নামিয়ে দেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও জানান, রেমাক্রী এলাকায় বর্তমানে ২০ থেকে ৩০ জন পর্যটক আটকে আছেন এবং পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের কারণে নদীর পানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের থানচি সদরে ফেরা সম্ভব হবে না।

এদিকে থানচি পর্যটক গাইড কল্যাণ সমিতির সভাপতি জওয়াইপ্রু মারমা জানিয়েছেন, রেমাক্রী খালের পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় নাফাখুম জলপ্রপাত এলাকায় প্রায় ৭০ জনের মতো পর্যটক অবস্থান করছেন। আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কেবল তারা নিরাপদ স্থানে ফিরে আসতে পারবেন।

তবে পর্যটকদের এই আটকে পড়ার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত তথ্য পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সাংগু নদী ও পাহাড়ি খালের পানি দ্রুত বাড়ছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা এড়াতে আপাতত তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুমে ভ্রমণের বিষয়ে মৌখিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটক, গাইড এবং নৌযান চালকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ ও নৌকা চলাচল থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।