০২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে পানামার তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তির পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফা হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। খবর এএফপির।

ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ট্যাংকারটির ব্রিজ বা নিয়ন্ত্রণকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদে রয়েছেন এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, আক্রান্ত জাহাজটি পানামার পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার ‘কিকু’।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন বাহিনীর ‘অবৈধ বিমান হামলার’ প্রতিক্রিয়ায় এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে।

তবে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কৌশলগত কারণ দেখিয়ে বিস্তারিত জানায়নি আইআরজিসি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত দক্ষিণ করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘এমভি এভার লাভলি’ ড্রোন হামলার শিকার হয়। পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করে, ওই হামলার পেছনে ইরান জড়িত। এর জবাবে শুক্রবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্রে বিমান হামলা চালানোর কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ইরান শুরু থেকেই ড্রোন হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাজানো ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচলের তদারকি ও রুট নির্ধারণের আইনি অধিকার ইরানের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেই সমঝোতা ভঙ্গের চেষ্টা করায় তার জবাব দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হরমুজ প্রণালিতে পানামার তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তির পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফা হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। খবর এএফপির।

ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ট্যাংকারটির ব্রিজ বা নিয়ন্ত্রণকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদে রয়েছেন এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, আক্রান্ত জাহাজটি পানামার পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার ‘কিকু’।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন বাহিনীর ‘অবৈধ বিমান হামলার’ প্রতিক্রিয়ায় এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে।

তবে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কৌশলগত কারণ দেখিয়ে বিস্তারিত জানায়নি আইআরজিসি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত দক্ষিণ করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘এমভি এভার লাভলি’ ড্রোন হামলার শিকার হয়। পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করে, ওই হামলার পেছনে ইরান জড়িত। এর জবাবে শুক্রবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্রে বিমান হামলা চালানোর কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ইরান শুরু থেকেই ড্রোন হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাজানো ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচলের তদারকি ও রুট নির্ধারণের আইনি অধিকার ইরানের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেই সমঝোতা ভঙ্গের চেষ্টা করায় তার জবাব দেওয়া হয়েছে।