১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জনপ্রিয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এম শাহীনের ঈদ শুভেচ্ছা ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জনপ্রিয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এম সাইফুল ইসলাম শাহীনের ঈদ শুভেচ্ছা তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ও বর্তমান স্বামীর বিরুদ্ধে গুম-খুনের চেষ্টার অভিযোগ,সংবাদ সম্মেলনে প্রথম স্বামী! পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব সহকারী মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ জুলাই আন্দোলনের মামলা, নাকি পরিকল্পিত চরিত্রহনন? মালয়েশিয়ান তরুণী গৌরনদীতে : ধুমধামে বিয়ে ও বৌ-ভাত সম্পন্ন নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বাউফলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩; আটক ৪ উজিরপুরের ওটরায় দিনমজুরের শতাধিক কলাগাছ কেটে তছনছ করে রাস্তা দখলের পায়তারা ধর্ষনমুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ কবে? কাশিমপুরে মাদক অভিযানের উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্যায় গরমিল : এলাকাজুড়ে তীব্র সমালোচনা লালমোহনে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ও বর্তমান স্বামীর বিরুদ্ধে গুম-খুনের চেষ্টার অভিযোগ,সংবাদ সম্মেলনে প্রথম স্বামী!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ও তার বর্তমান স্বামীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে গুম, নির্যাতন এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঝালকাঠির যুবক সোহাগ হাওলাদার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদে ফেলে তাকে অপহরণ, মারধর ও জোরপূর্বক স্ট্যাম্প এবং চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমানে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ হাওলাদার জানান, ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের চাচৈর গ্রামের খলিল মাঝির মেয়ে সুইটি আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।দাম্পত্য জীবনে তাদের এক কন্যাসন্তান সাবিহা ইসলাম জন্মগ্রহণ করে।

 

সোহাগের দাবি, বৈবাহিক জীবনের একপর্যায়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে পরিচিত ফরহাদ ব্যাপারী নামের এক লিফট টেকনিশিয়ানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফরহাদ তার পরিচিত হওয়ায় বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। পরবর্তীতে এ সম্পর্ক নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হলে বিভিন্নভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। একপর্যায়ে তালাক কার্যকর হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় দেনমোহরসহ কাবিনের টাকা পরিশোধ করা হয় বলে দাবি করেন সোহাগ।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ৮ মার্চ সকালে সাবিহা ইসলাম অসুস্থ এবং বাবাকে দেখতে চাচ্ছে,এমন কথা বলে সুইটি তাকে ঢাকার ডেমরা এলাকায় ডেকে নেন। বিকেলে সেখানে পৌঁছানোর পর কী ঘটেছে তা তার মনে নেই। পরে জ্ঞান ফিরে নিজেকে একটি ভবনের ভেতরে আবিষ্কার করেন। সেখানে সুইটি আক্তার, তার বর্তমান স্বামী ফরহাদ ব্যাপারী এবং আরও কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

সোহাগের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে একটি অনৈতিক ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং এ সময় বেদম মারধর করে ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্প ও তার সঙ্গে থাকা তিনটি ব্যাংক চেকের পাতায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।পরে ঘটনাস্থলটি ঢাকা মাতুয়াইল এলাকার একটি ভবন বলে জানতে পারেন।

তিনি দাবি করেন, ঘটনার প্রায় এক মাস পর একটি ইউটিউব চ্যানেলে লিফট প্রতিনিধি পরিচয়ে ভবনে ঢুকে অনৈতিক কাজে হাতেনাতে আটক শিরোনামে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়, যা তার সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সোহাগ আরও অভিযোগ করেন, তালাকের পর সুইটি আক্তার তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে আদালতে কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একইসঙ্গে নিজের নাবালিকা কন্যাসন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি পারিবারিক আদালতে মামলাও করেছেন। আদালতে হাজিরা দিতে যাতায়াতের সময় সুইটি, ফরহাদ ও তাদের স্বজনরা তাকে অনুসরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং গুম-খুনের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন,আমি কোনো প্রতিশোধ চাই না, শুধু নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং আমার সন্তানের অধিকার ফিরে পেতে চাই। আমার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র চলছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত হোক।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফরহাদ ব্যাপারী মুঠোফোনে বলেন,এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য এসব বলা হচ্ছে।অপরদিকে সুইটি আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও তার পিতা খলিল মাঝি বলেন,সোহাগ তালাক দেওয়ার পর আমার মেয়ের অন্যত্র বিয়ে হয়েছে। দেনমোহরও পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।গুম বা খুনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ও বর্তমান স্বামীর বিরুদ্ধে গুম-খুনের চেষ্টার অভিযোগ,সংবাদ সম্মেলনে প্রথম স্বামী!

আপডেট সময় : ১০:২০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ও তার বর্তমান স্বামীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে গুম, নির্যাতন এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঝালকাঠির যুবক সোহাগ হাওলাদার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, পূর্বপরিকল্পিত ফাঁদে ফেলে তাকে অপহরণ, মারধর ও জোরপূর্বক স্ট্যাম্প এবং চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমানে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ হাওলাদার জানান, ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের চাচৈর গ্রামের খলিল মাঝির মেয়ে সুইটি আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।দাম্পত্য জীবনে তাদের এক কন্যাসন্তান সাবিহা ইসলাম জন্মগ্রহণ করে।

 

সোহাগের দাবি, বৈবাহিক জীবনের একপর্যায়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে পরিচিত ফরহাদ ব্যাপারী নামের এক লিফট টেকনিশিয়ানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফরহাদ তার পরিচিত হওয়ায় বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। পরবর্তীতে এ সম্পর্ক নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হলে বিভিন্নভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। একপর্যায়ে তালাক কার্যকর হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় দেনমোহরসহ কাবিনের টাকা পরিশোধ করা হয় বলে দাবি করেন সোহাগ।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ৮ মার্চ সকালে সাবিহা ইসলাম অসুস্থ এবং বাবাকে দেখতে চাচ্ছে,এমন কথা বলে সুইটি তাকে ঢাকার ডেমরা এলাকায় ডেকে নেন। বিকেলে সেখানে পৌঁছানোর পর কী ঘটেছে তা তার মনে নেই। পরে জ্ঞান ফিরে নিজেকে একটি ভবনের ভেতরে আবিষ্কার করেন। সেখানে সুইটি আক্তার, তার বর্তমান স্বামী ফরহাদ ব্যাপারী এবং আরও কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

সোহাগের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে একটি অনৈতিক ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং এ সময় বেদম মারধর করে ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্প ও তার সঙ্গে থাকা তিনটি ব্যাংক চেকের পাতায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।পরে ঘটনাস্থলটি ঢাকা মাতুয়াইল এলাকার একটি ভবন বলে জানতে পারেন।

তিনি দাবি করেন, ঘটনার প্রায় এক মাস পর একটি ইউটিউব চ্যানেলে লিফট প্রতিনিধি পরিচয়ে ভবনে ঢুকে অনৈতিক কাজে হাতেনাতে আটক শিরোনামে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়, যা তার সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সোহাগ আরও অভিযোগ করেন, তালাকের পর সুইটি আক্তার তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে আদালতে কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একইসঙ্গে নিজের নাবালিকা কন্যাসন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি পারিবারিক আদালতে মামলাও করেছেন। আদালতে হাজিরা দিতে যাতায়াতের সময় সুইটি, ফরহাদ ও তাদের স্বজনরা তাকে অনুসরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং গুম-খুনের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন,আমি কোনো প্রতিশোধ চাই না, শুধু নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং আমার সন্তানের অধিকার ফিরে পেতে চাই। আমার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র চলছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত হোক।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফরহাদ ব্যাপারী মুঠোফোনে বলেন,এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য এসব বলা হচ্ছে।অপরদিকে সুইটি আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও তার পিতা খলিল মাঝি বলেন,সোহাগ তালাক দেওয়ার পর আমার মেয়ের অন্যত্র বিয়ে হয়েছে। দেনমোহরও পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।গুম বা খুনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।