১১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জনপ্রিয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এম শাহীনের ঈদ শুভেচ্ছা ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জনপ্রিয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এম সাইফুল ইসলাম শাহীনের ঈদ শুভেচ্ছা মালয়েশিয়ান তরুণী গৌরনদীতে : ধুমধামে বিয়ে ও বৌ-ভাত সম্পন্ন নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বাউফলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩; আটক ৪ উজিরপুরের ওটরায় দিনমজুরের শতাধিক কলাগাছ কেটে তছনছ করে রাস্তা দখলের পায়তারা ধর্ষনমুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ কবে? কাশিমপুরে মাদক অভিযানের উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্যায় গরমিল : এলাকাজুড়ে তীব্র সমালোচনা লালমোহনে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর আমতলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বিএনপি নেতার মৃত্যু! বরিশালে লঞ্চ থেকে পড়ে কিশোর নিখোঁজ তোফায়েল আহমেদকে গার্ড অব অনার প্রদান

ধর্ষনমুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ কবে?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তাহমিদ জেরিন নুর : ধর্ষণ বর্তমান সময়ে খুবই পরিচিত একটি শব্দ। পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত যে সব শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ধর্ষকের কোন শাস্তি বা বিচার হয়নি।

 

সাত বছর বয়সী রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাটি সম্পর্কে আশা করি সবাই শুনেছেন। এখানে আশ্চর্যের বিষয় কি জানেন? চাঞ্চল্যকর-প্রমাণিত ধর্ষণ ও স্বীকারোক্তির পরেও রিমান্ডের আদেশ দেন মহামান্য আদালত। ফলে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।

 

বিচারের দীর্ঘশুত্রিতার সুবিধা পায় আসামি এবং লজ্জা ও বিচার না পাওয়ার অনিশ্চয়তায় ভোগে ভুক্তভোগী। তাই রামিসার বাবাকে আক্ষেপ করে বলতে হয়, আপনারা আমার মেয়ের বিচার করতে পারবেন না। তাই আমি বিচার চাই না। রামিসার বাবার বিচারের প্রতি অনীহা মূলক বক্তব্য গোটা বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রামিসার বাবার এই বক্তব্য পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও সরকারের জন্য বেশ লজ্জার। এ যেন একজন সদ্য সন্তানহারা বাবার হতাশা, দুঃখ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

 

মানবাধিকার কর্মীদের মতে -ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে সামাজিক সচেতনতার অভাব, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা, তদন্তে দুর্বলতা এবং কিছু ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের হয়রানি দায়ী।সবগুলো কারন সমন্বিত করলে দায় রাষ্ট্রের উপরেই বর্তায়।

 

অদ্ভুত বিষয় কি জানেন? আলোচিত এ ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনাটির চব্বিশ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার আগেই বাংলাদেশের ভিন্ন ভিন্ন তিন জায়গায় আরো তিনটি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। তার মধ্যে তিন বছরের একটি শিশুও রয়েছে।

 

চারপাশের এত ধর্ষণের কথা শুনে এখন মনে হয় মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। আমাদের সমাজে কোন প্রাপ্তবয়সী মেয়ে যদি ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে সমাজ সেই ধর্ষিতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে মেয়ে নাকি অশালীন পোশাক পড়তো উশৃংখল জীবন যাপন করতো। এহেন নানাবিধ কথা বলে যেন ধর্ষিতাকেই দায়ী করার এক অপচেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে সবার কাছে একটাই প্রশ্ন যদি তর্কের খাতিরে ধরেই নি ধর্ষনের মতো ঘটনার জন্য সেই প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটি দায়ী তাহলে রামিসার মত অগণিত শিশু ধর্ষন ও হত্যার জন্য দায়ী কে? যাদের জীবন এখনো শুরুই হয়নি, যারা এখনো সমাজ,দেশ, আইন, bad touch-good touch সম্পর্কে জানতে বা বুঝতেই শেখেনি তারা কেন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে?

 

জনগন ও সেসব অনিরাপদ শিশুর হতভাগা মা-বাবা যাদের ফুলের মত নিষ্পাপ সন্তান সমাজের কিছু নরপিচাসের লালসার শিকার হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আমি জানতে চাই আর কত রামিসাকে ধর্ষন ও হত্যার শিকার হতে হবে?

 

এক সময় মেয়েরা ঘরের বাইরে নিরাপদ ছিল না। কিন্তু এখন মেয়েরা ঘর বা ঘরের বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। হোক সেটা স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা বা আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধব কিবা প্রতিবেশীর কাছে। বর্তমানে প্রতিটি মেয়ে প্রতিমুহূর্তে ঘরে কি বাইরে সব পরিবেশেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কবে- কবে আমাদের এই দেশ ও সমাজে মেয়েদের জন্য একটি নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে উঠবে?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ধর্ষনমুক্ত নিরাপদ বাংলাদেশ কবে?

আপডেট সময় : ০৯:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

তাহমিদ জেরিন নুর : ধর্ষণ বর্তমান সময়ে খুবই পরিচিত একটি শব্দ। পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত যে সব শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ধর্ষকের কোন শাস্তি বা বিচার হয়নি।

 

সাত বছর বয়সী রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাটি সম্পর্কে আশা করি সবাই শুনেছেন। এখানে আশ্চর্যের বিষয় কি জানেন? চাঞ্চল্যকর-প্রমাণিত ধর্ষণ ও স্বীকারোক্তির পরেও রিমান্ডের আদেশ দেন মহামান্য আদালত। ফলে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।

 

বিচারের দীর্ঘশুত্রিতার সুবিধা পায় আসামি এবং লজ্জা ও বিচার না পাওয়ার অনিশ্চয়তায় ভোগে ভুক্তভোগী। তাই রামিসার বাবাকে আক্ষেপ করে বলতে হয়, আপনারা আমার মেয়ের বিচার করতে পারবেন না। তাই আমি বিচার চাই না। রামিসার বাবার বিচারের প্রতি অনীহা মূলক বক্তব্য গোটা বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রামিসার বাবার এই বক্তব্য পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও সরকারের জন্য বেশ লজ্জার। এ যেন একজন সদ্য সন্তানহারা বাবার হতাশা, দুঃখ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

 

মানবাধিকার কর্মীদের মতে -ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে সামাজিক সচেতনতার অভাব, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা, তদন্তে দুর্বলতা এবং কিছু ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের হয়রানি দায়ী।সবগুলো কারন সমন্বিত করলে দায় রাষ্ট্রের উপরেই বর্তায়।

 

অদ্ভুত বিষয় কি জানেন? আলোচিত এ ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনাটির চব্বিশ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার আগেই বাংলাদেশের ভিন্ন ভিন্ন তিন জায়গায় আরো তিনটি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। তার মধ্যে তিন বছরের একটি শিশুও রয়েছে।

 

চারপাশের এত ধর্ষণের কথা শুনে এখন মনে হয় মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। আমাদের সমাজে কোন প্রাপ্তবয়সী মেয়ে যদি ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে সমাজ সেই ধর্ষিতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে মেয়ে নাকি অশালীন পোশাক পড়তো উশৃংখল জীবন যাপন করতো। এহেন নানাবিধ কথা বলে যেন ধর্ষিতাকেই দায়ী করার এক অপচেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে সবার কাছে একটাই প্রশ্ন যদি তর্কের খাতিরে ধরেই নি ধর্ষনের মতো ঘটনার জন্য সেই প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটি দায়ী তাহলে রামিসার মত অগণিত শিশু ধর্ষন ও হত্যার জন্য দায়ী কে? যাদের জীবন এখনো শুরুই হয়নি, যারা এখনো সমাজ,দেশ, আইন, bad touch-good touch সম্পর্কে জানতে বা বুঝতেই শেখেনি তারা কেন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে?

 

জনগন ও সেসব অনিরাপদ শিশুর হতভাগা মা-বাবা যাদের ফুলের মত নিষ্পাপ সন্তান সমাজের কিছু নরপিচাসের লালসার শিকার হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আমি জানতে চাই আর কত রামিসাকে ধর্ষন ও হত্যার শিকার হতে হবে?

 

এক সময় মেয়েরা ঘরের বাইরে নিরাপদ ছিল না। কিন্তু এখন মেয়েরা ঘর বা ঘরের বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। হোক সেটা স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা বা আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধব কিবা প্রতিবেশীর কাছে। বর্তমানে প্রতিটি মেয়ে প্রতিমুহূর্তে ঘরে কি বাইরে সব পরিবেশেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কবে- কবে আমাদের এই দেশ ও সমাজে মেয়েদের জন্য একটি নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে উঠবে?