০২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুরগির লিটারে পরিবেশ বিপর্যয়! নাবিল গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবিতে উত্তাল এলাকাবাসী।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ১৯১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী প্রতিনিধি।। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নে অবস্থিত নাবিল গ্রুপের একটি পোল্ট্রি ফার্মকে ঘিরে পরিবেশ দূষণ, তীব্র দুর্গন্ধ এবং কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। ফার্মের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফার্মের মুরগির লিটার ও বর্জ্য অপরিকল্পিতভাবে খাল-বিল ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি মাছ চাষ ও কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, আগের তুলনায় জমিতে ফসলের ফলন কমে গেছে এবং চাষাবাদে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, লোকালয়ের মাঝখানে গড়ে ওঠা এই পোল্ট্রি ফার্মে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। বিশেষ করে গরমের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

আভিযোগে জানা যায়,গোদাগাড়ী ইউনিয়ন এর গোমা গ্রাম এলাকার ৬ নং ওয়ার্ড এলাকায় কাঁকন হাট বিক্রিয় পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন ১২ টা থেকে২ টার মধ্যে গভীর রাতে ড্রাম ট্রাক এ মুরগির লিটার রাস্তা ঘাট খাল বিলে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণের সুষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মুরগির লিটার মিশে খাল-বিলের পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে কৃষিজমি, গবাদিপশু ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণে জনজীবনও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় এক ভুক্তভোগী। আবেদনে দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মুরগির লিটারে পরিবেশ বিপর্যয়! নাবিল গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবিতে উত্তাল এলাকাবাসী।

আপডেট সময় : ১০:১৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি।। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নে অবস্থিত নাবিল গ্রুপের একটি পোল্ট্রি ফার্মকে ঘিরে পরিবেশ দূষণ, তীব্র দুর্গন্ধ এবং কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। ফার্মের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফার্মের মুরগির লিটার ও বর্জ্য অপরিকল্পিতভাবে খাল-বিল ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি মাছ চাষ ও কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, আগের তুলনায় জমিতে ফসলের ফলন কমে গেছে এবং চাষাবাদে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, লোকালয়ের মাঝখানে গড়ে ওঠা এই পোল্ট্রি ফার্মে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। বিশেষ করে গরমের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

আভিযোগে জানা যায়,গোদাগাড়ী ইউনিয়ন এর গোমা গ্রাম এলাকার ৬ নং ওয়ার্ড এলাকায় কাঁকন হাট বিক্রিয় পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন ১২ টা থেকে২ টার মধ্যে গভীর রাতে ড্রাম ট্রাক এ মুরগির লিটার রাস্তা ঘাট খাল বিলে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণের সুষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মুরগির লিটার মিশে খাল-বিলের পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে কৃষিজমি, গবাদিপশু ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণে জনজীবনও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় এক ভুক্তভোগী। আবেদনে দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।