১১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেকোনো পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে ফল ঘোষণা

১৫ বছরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কেন হয়নি -শিক্ষামন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশাল প্রতিনিধি //

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও জমি সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “১৫ বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কেন হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে যা যা প্রয়োজন, তা করা হবে।

 


“বর্তমান ৫০ একরের ক্যাম্পাসকে সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজনে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব বলেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তোমাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। বর্তমান শিক্ষার্থীরা সব সুবিধা না পেলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবে।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মামুন অর রশিদ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।
উপাচার্য বলেন, প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের (ডিপিপি) বরাদ্দেরও দাবি জানান তিনি।
এদিন শিক্ষামন্ত্রীকে স্বাগত জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সফরকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারাও একাডেমিক ভবন নির্মাণ, আবাসিক হল সংকট নিরসন এবং ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীকে একটি স্মারকলিপি দেন।

এর আগে সকালে শিক্ষামন্ত্রী বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এবার একক প্রশ্নে নয়টি বোর্ডে পরীক্ষা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কোনো প্রশ্ন ফাঁস হলে সংশ্লিষ্টদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনা হবে, যা ভবিষ্যতে উদাহরণ হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে। সকল শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। প্রযুক্তি নির্ভর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্পন্ন করবেন শিক্ষকরা।

শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুন্দর করার লক্ষে সরকার কাজ করছে জানিয়ে মিলন বলেন, “২০০১ সালে পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট পরিবর্তন করা হয়েছে। বাহির থেকে যদি কেউ সমস্যার সৃষ্টি করে তাদের সবার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে।

“পুলিশের ‘বডি অন ক্যামেরা’ রাখা হবে। কেউ জোরদারি করতে পারবে না। এ ছাড়া খাতা পরিবর্তন, নম্বর বণ্টনে অনিয়ম হলে সে ব্যাপারেও আইন প্রণয়ন করা হবে।

যেকোনো পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে ফল ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই বছরের কোর্স দুই বছরের মধ্যেই শেষ করতে হবে। সেইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো সেশনজট থাকতে পারবে না।

মতবিনিময় সভায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বিভাগীয় কমিশনার খলিলুল আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, সংসদ সদস্য এস এম সরফুদ্দিন সান্টু, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যেকোনো পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে ফল ঘোষণা

১৫ বছরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কেন হয়নি -শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:১৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

বরিশাল প্রতিনিধি //

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও জমি সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “১৫ বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কেন হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে যা যা প্রয়োজন, তা করা হবে।

 


“বর্তমান ৫০ একরের ক্যাম্পাসকে সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজনে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব বলেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তোমাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। বর্তমান শিক্ষার্থীরা সব সুবিধা না পেলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবে।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মামুন অর রশিদ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।
উপাচার্য বলেন, প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের (ডিপিপি) বরাদ্দেরও দাবি জানান তিনি।
এদিন শিক্ষামন্ত্রীকে স্বাগত জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সফরকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতারাও একাডেমিক ভবন নির্মাণ, আবাসিক হল সংকট নিরসন এবং ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীকে একটি স্মারকলিপি দেন।

এর আগে সকালে শিক্ষামন্ত্রী বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এবার একক প্রশ্নে নয়টি বোর্ডে পরীক্ষা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কোনো প্রশ্ন ফাঁস হলে সংশ্লিষ্টদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনা হবে, যা ভবিষ্যতে উদাহরণ হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে। সকল শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। প্রযুক্তি নির্ভর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্পন্ন করবেন শিক্ষকরা।

শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুন্দর করার লক্ষে সরকার কাজ করছে জানিয়ে মিলন বলেন, “২০০১ সালে পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট পরিবর্তন করা হয়েছে। বাহির থেকে যদি কেউ সমস্যার সৃষ্টি করে তাদের সবার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে।

“পুলিশের ‘বডি অন ক্যামেরা’ রাখা হবে। কেউ জোরদারি করতে পারবে না। এ ছাড়া খাতা পরিবর্তন, নম্বর বণ্টনে অনিয়ম হলে সে ব্যাপারেও আইন প্রণয়ন করা হবে।

যেকোনো পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে ফল ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই বছরের কোর্স দুই বছরের মধ্যেই শেষ করতে হবে। সেইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো সেশনজট থাকতে পারবে না।

মতবিনিময় সভায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বিভাগীয় কমিশনার খলিলুল আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, সংসদ সদস্য এস এম সরফুদ্দিন সান্টু, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।