বানারীপাড়ায় ইন্টারনেট বিলের অর্থ নিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদককে ঘিরে প্রশ্ন!
- আপডেট সময় : ০৬:৩৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৮২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের বানারীপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সংযোগ প্রকল্পের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে একটি হাতে লেখা হিসাবের নথিতে বিভিন্ন সময় টাকা নেওয়ার তথ্য উঠে আসায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারী নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, তিনি স্কাই ভিউ অনলাইন কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে বরিশালে কর্মরত রয়েছেন। তার দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় গত অর্থবছরের বিল সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন মাসে বানারীপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৮ লাখ টাকার বিল চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।
তবে বিল পাওয়ার কয়েক দিন পর বানারীপাড়া শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মিঠু ফোন করে অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নুরে আলম সিদ্দিকীর ভাষ্য, তাকে বলা হয়,এখানে ব্যবসা করতে হলে আমাদের টাকা দিতে হবে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, প্রথমে তিনি ১ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং ৩ লাখ টাকার বেশি অর্থ দাবি করা হয়। ভবিষ্যতে এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।এদিকে, হাতে লেখা একটি নোট বা হিসাবপত্রেও বিভিন্ন সময় অর্থ গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নথিতে ১ হাজার টাকা, ২ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে। কোথাও ফি, কোথাও প্রয়োজনীয় খরচের কথা বলে টাকা নেওয়ার হিসাব লেখা আছে। তবে ওই অর্থ কোন খাতে, কার কাছে এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে,তা নথি দেখে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাতের লেখার কারণে নথির কয়েকটি নাম ও তথ্যও স্পষ্টভাবে পড়া সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি যাচাই না করে কাউকে সরাসরি দায়ী করা যাচ্ছে না। তবে নথির সত্যতা, অর্থ গ্রহণের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষা অফিসে প্রভাব বিস্তার ও দালালির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মনিরুল ইসলাম মিঠুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে,কোন খাতে, কার নির্দেশে এবং কেন এসব অর্থ লেনদেন হয়েছে।




















