এখনো শনাক্ত হয়নি শীর্ষ সন্ত্রাসীরা
ঢাকায় বেপরোয়া অপরাধ
- আপডেট সময় : ০১:০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীতে দিনদুপুরে হত্যাকাণ্ড, সশস্ত্র ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানা তৎপরতার কথা বলা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অপরাধ জগতের আধিপত্য বিস্তার ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে একদিকে যেমন শীর্ষ সন্ত্রাসী খুনের ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে খোদ ব্যবসায়ীদের বাসভবন লক্ষ্য করে চলছে একের পর এক গুলিবর্ষণ। সর্বশেষ রাজধানীর উত্তরায় এক গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর বাসা ও গাড়ি লক্ষ্য করে দফায় দফায় গুলি এবং নিউমার্কেট এলাকায় ২০০১ সালের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মহানগরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে এ কে এস গ্রুপের মালিক ও গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের বাড়ির প্রধান ফটক লক্ষ্য করে ২৩ মে রাতে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এর আগে গত ১০ মার্চও ওই বাড়ি লক্ষ্য করে একবার গুলি চালানো হয়েছিল। প্রথম দফার ঘটনায় ব্যবসায়ী মামলা করার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এর মধ্যেই আবার হামলার ঘটনা ঘটে। গতকাল ওই বাড়ির পাশে রাস্তায় আবার গুলির ঘটনা ঘটেছে।
ডিবি উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানান, আগের দুই দফায় বাসায় গুলির পর এবার তৃতীয় দফায় রাস্তায় গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, ব্যবসায়িক কোনো দ্বন্দ্বের জেরে এ হামলা চালানো হতে পারে। তবে এখনো কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে গত ২৮ এপ্রিল নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন (৫১) নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
নিহত টিটন ২০০১ সালে তৎকালীন সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। দীর্ঘ কারাভোগের পর গত আগস্ট মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। ডিবি রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রেজাউল করিম জানান, মামলার তদন্ত চলছে। জড়িতদের মোটামুটি শনাক্ত করা গেছে এবং দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অভ্যন্তরীণ তথ্য বিশ্লেষণ করে ঢাকার অপরাধ পরিস্থিতির একটি ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে।
এতে দেখা গেছে, গত ২১ মাসে ঢাকা মহানগরে অন্তত ৫৯৭টি খুনের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি হত্যাকাণ্ড সরাসরি অপরাধ জগতের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সময়ে ৭৭৩টি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, ভুক্তভোগীদের অনেকেই আইনি জটিলতা এড়াতে মামলা করতে চান না, ফলে প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা আরও বেশি। অপরাধ বিশ্লেষক ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, কেবল সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে অপরাধী ধরা কঠিন, কারণ অপরাধ করার পর ফুটেজ দেখে লাভ কম। আমাদের প্রয়োজন ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা এআইচালিত ক্যামেরা নেটওয়ার্ক। এ সিস্টেমে ফেসিয়াল রিকগনাইজেশন (Facial Recognition) এবং অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনাইজেশন (ANPR) প্রযুক্তির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী বা সন্দেহভাজন গাড়ি কোনো এলাকায় প্রবেশ করা মাত্রই কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ট চলে যাবে। উত্তরা বা নিউমার্কেটের মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ প্রযুক্তি থাকলে অপরাধীরা গুলি চালিয়ে বা ডাকাতি করে সহজে পালিয়ে যেতে পারত না। সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুলিশি ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার চার মাস পার হলেও পুলিশ এখনো তাদের পূর্ণ কার্যক্ষমতা ফিরে পায়নি।























