১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জনপ্রিয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এম শাহীনের ঈদ শুভেচ্ছা ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জনপ্রিয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এম সাইফুল ইসলাম শাহীনের ঈদ শুভেচ্ছা আমতলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বিএনপি নেতার মৃত্যু! বরিশালে লঞ্চ থেকে পড়ে কিশোর নিখোঁজ তোফায়েল আহমেদকে গার্ড অব অনার প্রদান বরিশালে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণ ও এস আলমের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন রাজাপুরে চাঁদা নিতে এসে যুবক আটক বানারীপাড়ার ৪৫০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক দত্তবাড়ি বিলুপ্তির পথে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা। তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ! ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জনপ্রিয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এম সাইফুল ইসলাম শাহীনের ঈদ শুভেচ্ছা ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জনপ্রিয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এম সাইফুল ইসলাম শাহীনের ঈদ শুভেচ্ছা

বরিশালে লঞ্চ থেকে পড়ে কিশোর নিখোঁজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়েছিলেন পরিবারের সঙ্গে। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে ফেরা হলো না বাড়িতে। ফিরতি যাত্রায় লঞ্চের ছাদ থেকে পা পিছলে কালাবদর নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন মো. রানা (১৭) নামে এক কিশোর। পরিবারের সদস্যদের চোখের সামনেই নদীর স্রোতে হারিয়ে যান তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরপশ্চিম সংলগ্ন কালাবদর নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ রানা বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান তিনি। অনুষ্ঠান শেষে মঙ্গলবার সকালে সবাই মিলে লঞ্চযোগে বরিশালে ফিরছিলেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ‘এমএল লিমা এক্সপ্রেস-৪’ লঞ্চটি লেঙ্গুটিয়া ঘাট ছেড়ে বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পর রানা লঞ্চের ছাদে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তার পা পিছলে যায়। মুহূর্তেই তিনি কালাবদর নদীতে পড়ে যান। সাঁতার না জানায় তীব্র স্রোতের টানে দ্রুত নদীর গভীরে তলিয়ে যান তিনি।

ঘটনার আকস্মিকতায় লঞ্চে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনদের চিৎকারে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। অনেকেই তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও প্রবল স্রোতের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল বলেন, ‘‘ছেলেটি নদীতে পড়ার খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি নৌকা ও জাল নিয়ে খোঁজ শুরু করি। কিন্তু নদীর স্রোত এতটাই তীব্র ছিল যে তাকে আর দেখা যায়নি।’’

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে কালীগঞ্জ নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

কালীগঞ্জ নৌ পুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল বলেন, ‘‘নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং স্থানীয় জেলেরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছেন। উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’’

এদিকে দুর্ঘটনার পর লঞ্চটির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ‘এমএল লিমা এক্সপ্রেস-৪’ লঞ্চের চলাচল স্থগিত করেছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সলেমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, লঞ্চটি ভোলাইবাড়ি এলাকার সামনে পৌঁছালে ছাদে অবস্থানরত এক যাত্রী নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লঞ্চের ছাদে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছিল।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নৌযানের ছাদে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরও নিয়ম লঙ্ঘন করে যাত্রী বহন করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদকে সামনে রেখে অনেক নৌযানে নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। তারা নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বরিশালে লঞ্চ থেকে পড়ে কিশোর নিখোঁজ

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়েছিলেন পরিবারের সঙ্গে। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে ফেরা হলো না বাড়িতে। ফিরতি যাত্রায় লঞ্চের ছাদ থেকে পা পিছলে কালাবদর নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন মো. রানা (১৭) নামে এক কিশোর। পরিবারের সদস্যদের চোখের সামনেই নদীর স্রোতে হারিয়ে যান তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরপশ্চিম সংলগ্ন কালাবদর নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ রানা বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান তিনি। অনুষ্ঠান শেষে মঙ্গলবার সকালে সবাই মিলে লঞ্চযোগে বরিশালে ফিরছিলেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ‘এমএল লিমা এক্সপ্রেস-৪’ লঞ্চটি লেঙ্গুটিয়া ঘাট ছেড়ে বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পর রানা লঞ্চের ছাদে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তার পা পিছলে যায়। মুহূর্তেই তিনি কালাবদর নদীতে পড়ে যান। সাঁতার না জানায় তীব্র স্রোতের টানে দ্রুত নদীর গভীরে তলিয়ে যান তিনি।

ঘটনার আকস্মিকতায় লঞ্চে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনদের চিৎকারে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। অনেকেই তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও প্রবল স্রোতের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল বলেন, ‘‘ছেলেটি নদীতে পড়ার খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি নৌকা ও জাল নিয়ে খোঁজ শুরু করি। কিন্তু নদীর স্রোত এতটাই তীব্র ছিল যে তাকে আর দেখা যায়নি।’’

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে কালীগঞ্জ নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

কালীগঞ্জ নৌ পুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল বলেন, ‘‘নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং স্থানীয় জেলেরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছেন। উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’’

এদিকে দুর্ঘটনার পর লঞ্চটির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ‘এমএল লিমা এক্সপ্রেস-৪’ লঞ্চের চলাচল স্থগিত করেছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সলেমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, লঞ্চটি ভোলাইবাড়ি এলাকার সামনে পৌঁছালে ছাদে অবস্থানরত এক যাত্রী নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লঞ্চের ছাদে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছিল।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নৌযানের ছাদে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরও নিয়ম লঙ্ঘন করে যাত্রী বহন করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদকে সামনে রেখে অনেক নৌযানে নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। তারা নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।