তারাকান্দায় মৎস্য খামারে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ!
- আপডেট সময় : ০৫:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

লোহার রড দিয়ে মারধর, মোবাইল ছিনতাই ও খামারে আগুন দেওয়ার হুমকির দাবি!
তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি।।ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের মুলাবাড়ী এলাকায় বিরোধের জেরে একটি মৎস্য খামারে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় খামারের মালিক মো. আল আমিন সরকারকে লোহার রড দিয়ে মারধর, মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।ঘটনার পর এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আল আমিন সরকার। অভিযোগে ১০ থেকে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৎস্য খামারে মাছের ক্ষতি করার ঘটনায় অভিযুক্তদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে এর আগে আদালতে মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলা কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নেয় বলে অভিযোগকারীর দাবি অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে মৎস্য খামারে প্রবেশ করেন।
সেখানে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহার না করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে আল আমিন সরকারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তার কাছে থাকা আনুমানিক ১৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি Infinix মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার দাবিও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, খামার ও সংলগ্ন ঘর থেকে ৩৫ বস্তা মাছের খাদ্য, একটি অক্সিজেনের বোতল, একটি সিলিং ফ্যান এবং দুই মোড় বৈদ্যুতিক তার নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি টিনের ঘর ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আনুমানিক দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।অভিযোগকারীর আরও দাবি, ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠি প্রদর্শন করে পুনরায় ভয়ভীতি দেখান। তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করা, মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ এবং বাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাল্টা অভিযোগ ঘিরে নতুন প্রশ্ন!
এদিকে, ঘটনাটিকে ঘিরে আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নিজের দায় এড়াতে খামারের কিছু পরিত্যক্ত ও ফলনহীন গাছ কাটার ঘটনা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি নিজের ব্যবহৃত সিসি ক্যামেরা বন্ধ রাখার বিষয়টিও প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসীর মধ্যে।স্থানীয়দের আরও দাবি, ঘটনার পর বিভিন্ন জায়গায় ছড়ানো হচ্ছে নানা ধরনের তথ্য, যার কিছু অংশকে তারা গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বলে মনে করছেন। অভিযোগের পক্ষে নিজের ভাই ও ভাতিজাকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে কয়েকজন এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
আল আমিন সরকার বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযোগে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলা, ভাঙচুর, মালামাল নিয়ে যাওয়া, হুমকি এবং পাল্টা অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
স্থানীয়দের বক্তব্য, ঘটনা যাই হোক,পরস্পরকে দোষারোপ বা গুজব ছড়ানোর পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসা জরুরি।


















