১২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গণপূর্তে লটারির আড়ালে বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ!দুই সারোয়ারের’ ভূমিকা নিয়ে তোলপাড়, গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিতদের পুনর্বাসনের প্র জুলাইপন্থী প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ পুনর্বিবেচনা চায় জেজেইউ ৭৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি নয়, জমি ও রাস্তা নিয়ে চুক্তি- মাহমুদুর রহমানের প্রতিবাদ! বরিশালে সওজের কম্পিউটার অপারেটর ফারুককে ঘিরে সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন, একাধিক জমি-ভবনের তথ্য সামনে জনগণই আন্দোলনই ক্ষমতার চাবিকাঠি- বাংলাদেশি রাজনীতির নতুন পাঠ! নেত্রকোনায় সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জেজেইউ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ ঠিকাদারি কাজ, কথিত কমিশন ও সাংবাদিকদের ভূমিকা! বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলে কারা প্রভাব বিস্তার করছে? নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়নে ‘লটারি’ নিয়ে প্রশ্ন! স্বজনপ্রীতি, গ্রুপিং ও ঘুষের অভিযোগ,নীরব কেন কর্তৃপক্ষ? বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে আইনজীবীর ওপর হামলা! ভূমিদস্যু ও ফ্যাসিস্ট নিকুঞ্জ বালা পলাশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন! প্রতারণার মামলায় কর পরিদর্শক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

গণপূর্তে লটারির আড়ালে বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ!দুই সারোয়ারের’ ভূমিকা নিয়ে তোলপাড়, গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিতদের পুনর্বাসনের প্র

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৯:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১ হাজার ৪৩০ প্রকৌশলীর বদলি-পদায়নের উদ্যোগ ঘিরে বিতর্ক,অফিস গ্রেডিং, প্রভাব খাটানো ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক।। স্বচ্ছতার নামে লটারি, অথচ সেই লটারির ফলাফল ঘিরেই যদি ওঠে পক্ষপাতিত্ব, প্রভাব খাটানো ও বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই,প্রক্রিয়াটি আসলে কতটা নিরপেক্ষ ছিল? গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়ন নিয়ে এখন এমনই বিতর্ক সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার ঘটনায় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, লটারির আগে অফিস গ্রেডিং, পদভিত্তিক যোগ্যতা নির্ধারণ এবং চূড়ান্ত পদায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ ছিল। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা,যাঁদের নাম সারোয়ার,এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীদের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, একজন পরিকল্পনা ও নির্দেশনার পর্যায়ে এবং অন্যজন গ্রেডিং ও বাস্তবায়নের কাজে যুক্ত ছিলেন।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ কিংবা তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া কাউকে অনিয়মে জড়িত বলে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। ফলে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,লটারির পুরো প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং চূড়ান্ত পদায়নের সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা।

১ হাজার ৪৩০ প্রকৌশলীর পদায়ন, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন!

প্রতিবেদনটিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের উপস্থিতিতে সম্প্রতি ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল), ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী এবং ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীসহ মোট ১ হাজার ৪৩০ জন প্রকৌশলীর বদলি ও পদায়নের তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এত বড় পরিসরে লটারিভিত্তিক পদায়ন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে। কিন্তু শুধু লটারি আয়োজন করলেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় না। লটারির আগে কোন কর্মকর্তা কোন পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন, অফিস গ্রেডিং কীভাবে হয়েছে, কোন পদে কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ফলাফল প্রকাশের পর কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না,এসব প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ধরন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, যোগ্যতা ও কর্মসম্পাদনের মূল্যায়ন যদি সবার জন্য একই নিয়মে না হয়ে থাকে, তাহলে লটারির বাহ্যিক স্বচ্ছতা প্রকৃত নিরপেক্ষতার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

‘দুই সারোয়ার’কে ঘিরে অভিযোগ, কার হাতে ছিল কোন দায়িত্ব?

পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দুই সারোয়ারের ভূমিকা সামনে এনেছেন অভিযোগকারীদের একটি অংশ। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, পদায়নের পরিকল্পনা, অফিস গ্রেডিং এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে এই দুই কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল।

তবে কে কোন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, গ্রেডিংয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন কার হাতে ছিল এবং পদায়নের তালিকা তৈরিতে কার কতটুকু ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে,এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে না থাকায় অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সারোয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, পদায়নের সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে নেননি। তাঁর দাবি, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি অফিস গ্রেডিংয়ের কাজ করেছেন এবং এ প্রক্রিয়ায় তাঁর সঙ্গে আরও চারজন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন।

তাঁর এই বক্তব্যের পর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। গ্রেডিং কমিটিতে কারা ছিলেন, তাঁদের দায়িত্ব কী ছিল, কোন মানদণ্ডে নম্বর বা শ্রেণিবিন্যাস নির্ধারণ করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত পদায়নের ক্ষমতা কার হাতে ছিল,এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি যাচাই করা সহজ হবে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন তৈরির সময় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মেডিকেল ডিভিশনে মাসুদ রানা- অভিযোগের পরও গুরুত্বপূর্ণ পদ?

অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ডিভিশন-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানা গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল ডিভিশনে পদায়ন পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

এখানে প্রশ্নটি কেবল একজন কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে নয়; বরং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কর্মসম্পাদন, প্রশাসনিক মূল্যায়ন এবং অভিযোগের অবস্থা কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, তা নিয়ে।

কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দোষী বলা যায় না। কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলমান থাকলে কিংবা পূর্ববর্তী কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থাকলে পদায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি ও মূল্যায়ন কীভাবে অনুসরণ করা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

মাসুদ রানার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রকৃতি, তদন্তের অবস্থা এবং তাঁর পদায়নের পেছনে প্রযোজ্য মানদণ্ড যাচাই করা প্রয়োজন।

 হাবিবের স্টাফ অফিসার পদায়ন, বিশেষ বিবেচনার প্রশ্ন!

ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিবকে স্টাফ অফিসার হিসেবে পদায়নের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

তাঁদের বক্তব্যে আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং একটি হত্যা মামলায় আসামি থাকার দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবেও বর্ণনা করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব তথ্যের সত্যতা, মামলার বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কোনো আদালতের সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কোনো মামলায় আসামি হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। একইভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগও পদায়নে অনিয়মের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

তবে স্টাফ অফিসারের মতো দায়িত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কী যোগ্যতা, প্রশাসনিক বিবেচনা এবং অনুমোদন অনুসরণ করা হয়েছে, তা জানা প্রয়োজন। পদায়নের আদেশ, দায়িত্বের ধরন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের নথি পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

রাজিবের একই ডিভিশনে প্রত্যাবর্তন- বদলি, নাকি বিশেষ সুবিধার অভিযোগ?

নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিবের পদায়ন ঘিরেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দুর্নীতির অভিযোগে রাজউক থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরে ফেরত আসার পর তিনি অর্থের বিনিময়ে মহাখালীর নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ পেয়েছিলেন। পরে লটারির মাধ্যমে তাঁকে আবার ডিভিশন-১-এ পদায়ন করা হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেছেন।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজউকে যাওয়ার আগে তিনি একই ডিভিশনে দায়িত্ব পালন করতেন। ফলে একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে তাঁর পুনরায় ফিরে আসার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে অর্থের বিনিময়ে পদ পাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।শুধু একই ডিভিশনে ফিরে আসা থেকেই অনিয়ম প্রমাণিত হয় না। কিন্তু পদায়নের নিয়ম, যোগ্যতার মানদণ্ড কিংবা বিশেষ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম থাকলে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

সিটি ডিভিশনে আন্দালিব রহমান- অতীতের অভিযোগ কি বিবেচনায় এসেছে?

শেরেবাংলা-৩-এ দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আন্দালিব রহমানকে গুরুত্বপূর্ণ সিটি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়নের বিষয়টিও অভিযোগকারীদের আলোচনায় এসেছে।

তাঁদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত, প্রমাণিত অনিয়ম কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

এখানেও মূল প্রশ্ন ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়,বরং সরকারি পদায়নের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে কী তথ্য ছিল এবং প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না।

গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ মূল্যায়ন থাকলে তা নথিতে প্রতিফলিত হওয়ার কথা। আর কোনো বিশেষ বিবেচনা থাকলে তার প্রশাসনিক ভিত্তিও ব্যাখ্যা করা সম্ভব হওয়া উচিত।

লটারির আগে গ্রেডিং, পরে পদায়ন-কোথায় ছিল নিয়ন্ত্রণ?

লটারিভিত্তিক বদলি-পদায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পুরো প্রক্রিয়ার যাচাইযোগ্যতা। লটারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে-এ তথ্য একাই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ নিরপেক্ষ ছিল বলে প্রমাণ করে না।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন,

১. যোগ্যতার তালিকা- কোন কর্মকর্তা কোন পদের জন্য বিবেচিত হয়েছেন এবং কারা বাদ পড়েছেন, তার লিখিত ভিত্তি কী?

২. অফিস গ্রেডিং-গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড কি আগেই নির্ধারিত ছিল? সব কর্মকর্তার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে কি?

৩. লটারির পদ্ধতি- লটারি কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, কারা উপস্থিত ছিলেন এবং মূল ফলাফল ও ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত আছে কি?

৪. ফলাফল পরিবর্তন- লটারির পর কোনো পদায়ন সংশোধন, পরিবর্তন বা বিশেষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি? হয়ে থাকলে তার কারণ কী?

৫. গুরুত্বপূর্ণ পদ বণ্টন-মেডিকেল, সিটি, মহাখালী কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে পদায়নের ক্ষেত্রে কী প্রশাসনিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে?

৬. অভিযোগের মূল্যায়ন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রশাসনিক মূল্যায়ন ছিল কি?

৭. সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্ব- গ্রেডিং কমিটি, মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের মধ্যে দায়িত্ব ও অনুমোদনের সুনির্দিষ্ট বিভাজন কী ছিল?

এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিত্তি ও সীমাবদ্ধতা,দুটিই নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

ব্যাংক হিসাব ও কল রেকর্ড যাচাইয়ের দাবি, তদন্ত হোক আইন মেনে

পদায়ন প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়া কয়েকজন প্রকৌশলীর আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীদের একাংশ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কল ডিটেইল রেকর্ড বা সিডিআর পর্যালোচনার দাবিও উঠেছে।

তবে ব্যাংক হিসাব, পারিবারিক আর্থিক তথ্য এবং যোগাযোগের রেকর্ড ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য। কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে এসব তথ্যকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রাসঙ্গিক তথ্য এবং আইনগত অনুমোদনের ভিত্তিতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে এসব রেকর্ড যাচাই করতে পারে।

তদন্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত সম্ভাব্য অনিয়মের সত্যতা নির্ধারণ,কাউকে আগাম অপরাধী ঘোষণা করা নয়। প্রাসঙ্গিক নথিতে অসংগতি পাওয়া গেলে তার ব্যাখ্যা নেওয়া এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হবে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।

 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সারোয়ার অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি এককভাবে পদায়নের সিদ্ধান্ত নেননি, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অফিস গ্রেডিং করেছেন এবং এ কাজে আরও চারজন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে এখন প্রয়োজন অভিযোগকারী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাশাপাশি রেখে নথিভিত্তিক অনুসন্ধান। লটারির মূল ফলাফল, গ্রেডিং শিট, কমিটির কার্যবিবরণী, পদায়নের আদেশ এবং পরবর্তী সংশোধনের রেকর্ড পর্যালোচনা করেই প্রকৃত চিত্র সামনে আনা সম্ভব।

অভিযোগের উপযুক্ত জবাব না পাওয়া মানেই অভিযোগ সত্য,এমন সিদ্ধান্ত যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি শুধু অভিযোগ অস্বীকার করলেই সব প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয়ে যায় না।

তদন্ত হোক, নথি প্রকাশ হোক,দায় নির্ধারিত হোক প্রমাণে

বদলি-বাণিজ্য বন্ধ এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে লটারিভিত্তিক পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকলে সেটির প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদে কয়েকজন কর্মকর্তার পুনরায় দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর নীরবতা বা সাধারণ আশ্বাস যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্বচ্ছ ব্যাখ্যা, নথি যাচাই এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি।

মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাছে এখন কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর প্রত্যাশিত,লটারির আগে গ্রেডিং কীভাবে হয়েছে, পদভিত্তিক যোগ্যতা কী ছিল, সিদ্ধান্ত গ্রহণে কারা যুক্ত ছিলেন এবং ফলাফল প্রকাশের পর কোনো ব্যতিক্রম ঘটেছে কি না।

যদি অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

কারণ, লটারির নাম ব্যবহার করলেই কোনো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বচ্ছ হয়ে যায় না। স্বচ্ছতার প্রকৃত পরীক্ষা হলো,প্রশ্ন উঠলে নথি সামনে আসে কি না, জবাবদিহি নিশ্চিত হয় কি না এবং সিদ্ধান্তের দায় প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় কি না।

অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, পদায়নের মূল আদেশ, গ্রেডিংয়ের নথি এবং অভিযোগের সমর্থনে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গণপূর্তে লটারির আড়ালে বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ!দুই সারোয়ারের’ ভূমিকা নিয়ে তোলপাড়, গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিতদের পুনর্বাসনের প্র

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

১ হাজার ৪৩০ প্রকৌশলীর বদলি-পদায়নের উদ্যোগ ঘিরে বিতর্ক,অফিস গ্রেডিং, প্রভাব খাটানো ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক।। স্বচ্ছতার নামে লটারি, অথচ সেই লটারির ফলাফল ঘিরেই যদি ওঠে পক্ষপাতিত্ব, প্রভাব খাটানো ও বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই,প্রক্রিয়াটি আসলে কতটা নিরপেক্ষ ছিল? গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়ন নিয়ে এখন এমনই বিতর্ক সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার ঘটনায় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, লটারির আগে অফিস গ্রেডিং, পদভিত্তিক যোগ্যতা নির্ধারণ এবং চূড়ান্ত পদায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ ছিল। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা,যাঁদের নাম সারোয়ার,এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীদের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, একজন পরিকল্পনা ও নির্দেশনার পর্যায়ে এবং অন্যজন গ্রেডিং ও বাস্তবায়নের কাজে যুক্ত ছিলেন।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ কিংবা তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া কাউকে অনিয়মে জড়িত বলে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। ফলে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,লটারির পুরো প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং চূড়ান্ত পদায়নের সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা।

১ হাজার ৪৩০ প্রকৌশলীর পদায়ন, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন!

প্রতিবেদনটিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের উপস্থিতিতে সম্প্রতি ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল), ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী এবং ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীসহ মোট ১ হাজার ৪৩০ জন প্রকৌশলীর বদলি ও পদায়নের তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এত বড় পরিসরে লটারিভিত্তিক পদায়ন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে। কিন্তু শুধু লটারি আয়োজন করলেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় না। লটারির আগে কোন কর্মকর্তা কোন পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন, অফিস গ্রেডিং কীভাবে হয়েছে, কোন পদে কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ফলাফল প্রকাশের পর কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না,এসব প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ধরন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, যোগ্যতা ও কর্মসম্পাদনের মূল্যায়ন যদি সবার জন্য একই নিয়মে না হয়ে থাকে, তাহলে লটারির বাহ্যিক স্বচ্ছতা প্রকৃত নিরপেক্ষতার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

‘দুই সারোয়ার’কে ঘিরে অভিযোগ, কার হাতে ছিল কোন দায়িত্ব?

পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দুই সারোয়ারের ভূমিকা সামনে এনেছেন অভিযোগকারীদের একটি অংশ। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, পদায়নের পরিকল্পনা, অফিস গ্রেডিং এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে এই দুই কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল।

তবে কে কোন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, গ্রেডিংয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন কার হাতে ছিল এবং পদায়নের তালিকা তৈরিতে কার কতটুকু ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে,এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে না থাকায় অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সারোয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, পদায়নের সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে নেননি। তাঁর দাবি, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি অফিস গ্রেডিংয়ের কাজ করেছেন এবং এ প্রক্রিয়ায় তাঁর সঙ্গে আরও চারজন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন।

তাঁর এই বক্তব্যের পর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। গ্রেডিং কমিটিতে কারা ছিলেন, তাঁদের দায়িত্ব কী ছিল, কোন মানদণ্ডে নম্বর বা শ্রেণিবিন্যাস নির্ধারণ করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত পদায়নের ক্ষমতা কার হাতে ছিল,এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি যাচাই করা সহজ হবে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন তৈরির সময় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মেডিকেল ডিভিশনে মাসুদ রানা- অভিযোগের পরও গুরুত্বপূর্ণ পদ?

অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ডিভিশন-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানা গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল ডিভিশনে পদায়ন পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

এখানে প্রশ্নটি কেবল একজন কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে নয়; বরং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কর্মসম্পাদন, প্রশাসনিক মূল্যায়ন এবং অভিযোগের অবস্থা কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, তা নিয়ে।

কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দোষী বলা যায় না। কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলমান থাকলে কিংবা পূর্ববর্তী কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থাকলে পদায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি ও মূল্যায়ন কীভাবে অনুসরণ করা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

মাসুদ রানার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রকৃতি, তদন্তের অবস্থা এবং তাঁর পদায়নের পেছনে প্রযোজ্য মানদণ্ড যাচাই করা প্রয়োজন।

 হাবিবের স্টাফ অফিসার পদায়ন, বিশেষ বিবেচনার প্রশ্ন!

ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিবকে স্টাফ অফিসার হিসেবে পদায়নের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

তাঁদের বক্তব্যে আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং একটি হত্যা মামলায় আসামি থাকার দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবেও বর্ণনা করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব তথ্যের সত্যতা, মামলার বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কোনো আদালতের সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কোনো মামলায় আসামি হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। একইভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগও পদায়নে অনিয়মের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

তবে স্টাফ অফিসারের মতো দায়িত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কী যোগ্যতা, প্রশাসনিক বিবেচনা এবং অনুমোদন অনুসরণ করা হয়েছে, তা জানা প্রয়োজন। পদায়নের আদেশ, দায়িত্বের ধরন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের নথি পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

রাজিবের একই ডিভিশনে প্রত্যাবর্তন- বদলি, নাকি বিশেষ সুবিধার অভিযোগ?

নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিবের পদায়ন ঘিরেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দুর্নীতির অভিযোগে রাজউক থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরে ফেরত আসার পর তিনি অর্থের বিনিময়ে মহাখালীর নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ পেয়েছিলেন। পরে লটারির মাধ্যমে তাঁকে আবার ডিভিশন-১-এ পদায়ন করা হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেছেন।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজউকে যাওয়ার আগে তিনি একই ডিভিশনে দায়িত্ব পালন করতেন। ফলে একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে তাঁর পুনরায় ফিরে আসার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে অর্থের বিনিময়ে পদ পাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।শুধু একই ডিভিশনে ফিরে আসা থেকেই অনিয়ম প্রমাণিত হয় না। কিন্তু পদায়নের নিয়ম, যোগ্যতার মানদণ্ড কিংবা বিশেষ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম থাকলে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

সিটি ডিভিশনে আন্দালিব রহমান- অতীতের অভিযোগ কি বিবেচনায় এসেছে?

শেরেবাংলা-৩-এ দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আন্দালিব রহমানকে গুরুত্বপূর্ণ সিটি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়নের বিষয়টিও অভিযোগকারীদের আলোচনায় এসেছে।

তাঁদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত, প্রমাণিত অনিয়ম কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

এখানেও মূল প্রশ্ন ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়,বরং সরকারি পদায়নের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে কী তথ্য ছিল এবং প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না।

গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ মূল্যায়ন থাকলে তা নথিতে প্রতিফলিত হওয়ার কথা। আর কোনো বিশেষ বিবেচনা থাকলে তার প্রশাসনিক ভিত্তিও ব্যাখ্যা করা সম্ভব হওয়া উচিত।

লটারির আগে গ্রেডিং, পরে পদায়ন-কোথায় ছিল নিয়ন্ত্রণ?

লটারিভিত্তিক বদলি-পদায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পুরো প্রক্রিয়ার যাচাইযোগ্যতা। লটারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে-এ তথ্য একাই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ নিরপেক্ষ ছিল বলে প্রমাণ করে না।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন,

১. যোগ্যতার তালিকা- কোন কর্মকর্তা কোন পদের জন্য বিবেচিত হয়েছেন এবং কারা বাদ পড়েছেন, তার লিখিত ভিত্তি কী?

২. অফিস গ্রেডিং-গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড কি আগেই নির্ধারিত ছিল? সব কর্মকর্তার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে কি?

৩. লটারির পদ্ধতি- লটারি কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, কারা উপস্থিত ছিলেন এবং মূল ফলাফল ও ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত আছে কি?

৪. ফলাফল পরিবর্তন- লটারির পর কোনো পদায়ন সংশোধন, পরিবর্তন বা বিশেষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি? হয়ে থাকলে তার কারণ কী?

৫. গুরুত্বপূর্ণ পদ বণ্টন-মেডিকেল, সিটি, মহাখালী কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে পদায়নের ক্ষেত্রে কী প্রশাসনিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে?

৬. অভিযোগের মূল্যায়ন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রশাসনিক মূল্যায়ন ছিল কি?

৭. সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্ব- গ্রেডিং কমিটি, মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের মধ্যে দায়িত্ব ও অনুমোদনের সুনির্দিষ্ট বিভাজন কী ছিল?

এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিত্তি ও সীমাবদ্ধতা,দুটিই নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

ব্যাংক হিসাব ও কল রেকর্ড যাচাইয়ের দাবি, তদন্ত হোক আইন মেনে

পদায়ন প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়া কয়েকজন প্রকৌশলীর আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীদের একাংশ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কল ডিটেইল রেকর্ড বা সিডিআর পর্যালোচনার দাবিও উঠেছে।

তবে ব্যাংক হিসাব, পারিবারিক আর্থিক তথ্য এবং যোগাযোগের রেকর্ড ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য। কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে এসব তথ্যকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রাসঙ্গিক তথ্য এবং আইনগত অনুমোদনের ভিত্তিতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে এসব রেকর্ড যাচাই করতে পারে।

তদন্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত সম্ভাব্য অনিয়মের সত্যতা নির্ধারণ,কাউকে আগাম অপরাধী ঘোষণা করা নয়। প্রাসঙ্গিক নথিতে অসংগতি পাওয়া গেলে তার ব্যাখ্যা নেওয়া এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হবে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।

 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সারোয়ার অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি এককভাবে পদায়নের সিদ্ধান্ত নেননি, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অফিস গ্রেডিং করেছেন এবং এ কাজে আরও চারজন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে এখন প্রয়োজন অভিযোগকারী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাশাপাশি রেখে নথিভিত্তিক অনুসন্ধান। লটারির মূল ফলাফল, গ্রেডিং শিট, কমিটির কার্যবিবরণী, পদায়নের আদেশ এবং পরবর্তী সংশোধনের রেকর্ড পর্যালোচনা করেই প্রকৃত চিত্র সামনে আনা সম্ভব।

অভিযোগের উপযুক্ত জবাব না পাওয়া মানেই অভিযোগ সত্য,এমন সিদ্ধান্ত যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি শুধু অভিযোগ অস্বীকার করলেই সব প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয়ে যায় না।

তদন্ত হোক, নথি প্রকাশ হোক,দায় নির্ধারিত হোক প্রমাণে

বদলি-বাণিজ্য বন্ধ এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে লটারিভিত্তিক পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকলে সেটির প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদে কয়েকজন কর্মকর্তার পুনরায় দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর নীরবতা বা সাধারণ আশ্বাস যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্বচ্ছ ব্যাখ্যা, নথি যাচাই এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি।

মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাছে এখন কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর প্রত্যাশিত,লটারির আগে গ্রেডিং কীভাবে হয়েছে, পদভিত্তিক যোগ্যতা কী ছিল, সিদ্ধান্ত গ্রহণে কারা যুক্ত ছিলেন এবং ফলাফল প্রকাশের পর কোনো ব্যতিক্রম ঘটেছে কি না।

যদি অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

কারণ, লটারির নাম ব্যবহার করলেই কোনো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বচ্ছ হয়ে যায় না। স্বচ্ছতার প্রকৃত পরীক্ষা হলো,প্রশ্ন উঠলে নথি সামনে আসে কি না, জবাবদিহি নিশ্চিত হয় কি না এবং সিদ্ধান্তের দায় প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় কি না।

অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, পদায়নের মূল আদেশ, গ্রেডিংয়ের নথি এবং অভিযোগের সমর্থনে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।