০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়নে ‘লটারি’ নিয়ে প্রশ্ন! স্বজনপ্রীতি, গ্রুপিং ও ঘুষের অভিযোগ,নীরব কেন কর্তৃপক্ষ? বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে আইনজীবীর ওপর হামলা! ভূমিদস্যু ও ফ্যাসিস্ট নিকুঞ্জ বালা পলাশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন! প্রতারণার মামলায় কর পরিদর্শক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কারখানার প্রবেশপথ বন্ধের অভিযোগ, ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি! জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে জেজেইউর তীব্র নিন্দা! সর্বস্তরে ইসলামের আদর্শের দাওয়াত পৌঁছানোর আহ্বান মুয়াযযম হোসাইন হেলালের! চাকরি ছাড়ার পরও বেতন তোলার তদবিরের অভিযোগ, চরফ্যাশনের মাদ্রাসায় তোলপাড়! নথিতে রাজনৈতিক ছাপ, ছবিতে ফুলেল শুভেচ্ছা-সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে ‘জবাবদিহির ফাইল’ খুলবে কবে? উখিয়ায় ৩০ হাজার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক বরিশালে অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সংবাদ সম্মেলন

নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়নে ‘লটারি’ নিয়ে প্রশ্ন! স্বজনপ্রীতি, গ্রুপিং ও ঘুষের অভিযোগ,নীরব কেন কর্তৃপক্ষ?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।।সারা দেশে নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লটারির মাধ্যমে পদায়নের প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, গ্রুপভিত্তিক সুবিধা প্রদান এবং অর্থের বিনিময়ে ঢাকায় অবস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

অভিযোগকারীদের দাবি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলে পরিচালিত লটারি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় যদি নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে সেই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিশেষ করে, নিয়ম অনুযায়ী যেসব জুনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলীর ঢাকার বাইরে পদায়িত থাকার কথা, তাঁদের কারও কারও ঢাকায় অবস্থানের সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, পদায়ন আদেশ ও বিধিমালা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

 

লটারিতে স্বজনপ্রীতি ও গ্রুপিংয়ের অভিযোগ!

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে অভিযোগ উঠেছে, নির্বাহী প্রকৌশলীদের নির্বাচন ও পদায়নের ক্ষেত্রে লটারির প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি এবং দলবদ্ধভাবে সুবিধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি পাঁচজনকে নিয়ে গ্রুপভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, লটারি যদি সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে গ্রুপভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে কেন? লটারির নিয়ম, অংশগ্রহণকারীদের তালিকা, ফলাফল নির্ধারণের পদ্ধতি এবং চূড়ান্ত পদায়ন আদেশের মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

লটারির নামে যদি আগে থেকেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করা হয়ে থাকে, তবে সেটি হবে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মৌলিক নীতির পরিপন্থী। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে অনুমান নয়, প্রয়োজন নথিভিত্তিক তদন্ত।

ঢাকায় থাকার সুযোগ নিয়ে ঘুষের অভিযোগ!

 

পদায়ন বিতর্কের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো, অর্থের বিনিময়ে ঢাকায় অবস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঢাকার বাইরে থাকার কথা এমন কিছু জুনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলীও ঢাকায় অবস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্যে এ ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে তাঁদের পরিচয়, বক্তব্যের নির্দিষ্ট বিবরণ এবং অভিযোগের সমর্থনে কোনো নথি প্রকাশ্যে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ অবস্থায় কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জরুরি,ঢাকায় পদায়ন বা অবস্থানের ক্ষেত্রে কী নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে? কারা ব্যতিক্রমী সুবিধা পেয়েছেন? সেই সুবিধা দেওয়ার পেছনে প্রশাসনিক প্রয়োজন, বিধিসম্মত অনুমোদন নাকি অন্য কোনো প্রভাব কাজ করেছে? আর ঘুষের অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে কি না?

অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে অভিযোগের নিরপেক্ষ যাচাই নিশ্চিত করাও জরুরি।

নির্বাহী প্রকৌশলীদের নির্বাচন ও পদায়ন প্রক্রিয়া ঘিরে ওঠা অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রকৌশলীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যাচাইকৃত তথ্য এখনো সামনে আসেনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

পদায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন! লটারি কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, পদায়নের সিদ্ধান্ত কোন বিধিমালার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং ঢাকায় অবস্থানের ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম অনুমোদন করা হলে তার যৌক্তিকতা কী ছিল।

 

অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ছাড়া বিতর্কের অবসান হবে না। একই সঙ্গে বক্তব্য না পাওয়া মানেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না।

 

নিয়ম কি সবার জন্য সমান, নাকি প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা?

সরকারি প্রতিষ্ঠানে পদায়ন ও কর্মস্থল নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন কর্মকর্তা নিয়ম মেনে ঢাকার বাইরে দায়িত্ব পালন করবেন, আর অন্য কেউ বিশেষ সুবিধায় ঢাকায় অবস্থান করবেন,এমন অভিযোগ উঠলে তার ব্যাখ্যা দেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

যদি কোনো কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক প্রয়োজন, বিশেষ দায়িত্ব কিংবা বিধিসম্মত বিবেচনায় ঢাকায় রাখা হয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তি স্পষ্ট করা উচিত। আর যদি নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায় নির্ধারণ করে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এখানে মূল প্রশ্ন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দোষী ঘোষণা করা নয়,বরং পদায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বের করে আনা।

 

তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন যেসব বিষয়

অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তিতে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি,লটারির মূল নথি, অংশগ্রহণকারীদের তালিকা এবং ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া।লটারির ফলাফল ও চূড়ান্ত পদায়ন আদেশের মধ্যে কোনো অমিল রয়েছে কি না।পাঁচজনকে নিয়ে গ্রুপভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কি না।ঢাকায় অবস্থান বা পদায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা এবং অনুমোদিত ব্যতিক্রমগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না।ঘুষের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের তথ্য, নথি কিংবা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য রয়েছে কি না।সিদ্ধান্ত গ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ছিল।

কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি প্রশ্ন

লটারি ও পদায়ন প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ছিল? গ্রুপিং ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের ভিত্তি কী? ঢাকায় অবস্থানের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে একই নিয়ম সবার জন্য অনুসরণ করা হয়েছে কি? ঘুষের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত হবে কি? আর অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি?এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।আশ্বাস নয়, প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক জবাবদিহি।

 

নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। আবার যাচাই ছাড়াই অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার করাও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

তাই প্রয়োজন লটারির নথি ও পদায়ন আদেশ যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত। অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পদ, প্রভাব কিংবা অর্থের কারণে বৈষম্য তৈরির সুযোগ থাকা উচিত নয়। নিয়ম সবার জন্য সমান,এই নীতির বাস্তব প্রয়োগই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়ন ঘিরে ওঠা অভিযোগের জবাব কি দেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নাকি প্রশ্নগুলো অমীমাংসিতই থেকে যাবে?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়নে ‘লটারি’ নিয়ে প্রশ্ন! স্বজনপ্রীতি, গ্রুপিং ও ঘুষের অভিযোগ,নীরব কেন কর্তৃপক্ষ?

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।।সারা দেশে নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লটারির মাধ্যমে পদায়নের প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, গ্রুপভিত্তিক সুবিধা প্রদান এবং অর্থের বিনিময়ে ঢাকায় অবস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

অভিযোগকারীদের দাবি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলে পরিচালিত লটারি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় যদি নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে সেই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিশেষ করে, নিয়ম অনুযায়ী যেসব জুনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলীর ঢাকার বাইরে পদায়িত থাকার কথা, তাঁদের কারও কারও ঢাকায় অবস্থানের সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, পদায়ন আদেশ ও বিধিমালা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

 

লটারিতে স্বজনপ্রীতি ও গ্রুপিংয়ের অভিযোগ!

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে অভিযোগ উঠেছে, নির্বাহী প্রকৌশলীদের নির্বাচন ও পদায়নের ক্ষেত্রে লটারির প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি এবং দলবদ্ধভাবে সুবিধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি পাঁচজনকে নিয়ে গ্রুপভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, লটারি যদি সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে গ্রুপভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে কেন? লটারির নিয়ম, অংশগ্রহণকারীদের তালিকা, ফলাফল নির্ধারণের পদ্ধতি এবং চূড়ান্ত পদায়ন আদেশের মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

লটারির নামে যদি আগে থেকেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করা হয়ে থাকে, তবে সেটি হবে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মৌলিক নীতির পরিপন্থী। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে অনুমান নয়, প্রয়োজন নথিভিত্তিক তদন্ত।

ঢাকায় থাকার সুযোগ নিয়ে ঘুষের অভিযোগ!

 

পদায়ন বিতর্কের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো, অর্থের বিনিময়ে ঢাকায় অবস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঢাকার বাইরে থাকার কথা এমন কিছু জুনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলীও ঢাকায় অবস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্যে এ ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে তাঁদের পরিচয়, বক্তব্যের নির্দিষ্ট বিবরণ এবং অভিযোগের সমর্থনে কোনো নথি প্রকাশ্যে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ অবস্থায় কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জরুরি,ঢাকায় পদায়ন বা অবস্থানের ক্ষেত্রে কী নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে? কারা ব্যতিক্রমী সুবিধা পেয়েছেন? সেই সুবিধা দেওয়ার পেছনে প্রশাসনিক প্রয়োজন, বিধিসম্মত অনুমোদন নাকি অন্য কোনো প্রভাব কাজ করেছে? আর ঘুষের অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে কি না?

অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে অভিযোগের নিরপেক্ষ যাচাই নিশ্চিত করাও জরুরি।

নির্বাহী প্রকৌশলীদের নির্বাচন ও পদায়ন প্রক্রিয়া ঘিরে ওঠা অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রকৌশলীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যাচাইকৃত তথ্য এখনো সামনে আসেনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

পদায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন! লটারি কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, পদায়নের সিদ্ধান্ত কোন বিধিমালার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং ঢাকায় অবস্থানের ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম অনুমোদন করা হলে তার যৌক্তিকতা কী ছিল।

 

অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ছাড়া বিতর্কের অবসান হবে না। একই সঙ্গে বক্তব্য না পাওয়া মানেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না।

 

নিয়ম কি সবার জন্য সমান, নাকি প্রভাবশালীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা?

সরকারি প্রতিষ্ঠানে পদায়ন ও কর্মস্থল নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন কর্মকর্তা নিয়ম মেনে ঢাকার বাইরে দায়িত্ব পালন করবেন, আর অন্য কেউ বিশেষ সুবিধায় ঢাকায় অবস্থান করবেন,এমন অভিযোগ উঠলে তার ব্যাখ্যা দেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

যদি কোনো কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক প্রয়োজন, বিশেষ দায়িত্ব কিংবা বিধিসম্মত বিবেচনায় ঢাকায় রাখা হয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তি স্পষ্ট করা উচিত। আর যদি নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায় নির্ধারণ করে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এখানে মূল প্রশ্ন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দোষী ঘোষণা করা নয়,বরং পদায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বের করে আনা।

 

তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন যেসব বিষয়

অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তিতে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি,লটারির মূল নথি, অংশগ্রহণকারীদের তালিকা এবং ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া।লটারির ফলাফল ও চূড়ান্ত পদায়ন আদেশের মধ্যে কোনো অমিল রয়েছে কি না।পাঁচজনকে নিয়ে গ্রুপভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কি না।ঢাকায় অবস্থান বা পদায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা এবং অনুমোদিত ব্যতিক্রমগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না।ঘুষের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের তথ্য, নথি কিংবা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য রয়েছে কি না।সিদ্ধান্ত গ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ছিল।

কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি প্রশ্ন

লটারি ও পদায়ন প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ছিল? গ্রুপিং ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের ভিত্তি কী? ঢাকায় অবস্থানের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে একই নিয়ম সবার জন্য অনুসরণ করা হয়েছে কি? ঘুষের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত হবে কি? আর অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি?এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।আশ্বাস নয়, প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক জবাবদিহি।

 

নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। আবার যাচাই ছাড়াই অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার করাও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

তাই প্রয়োজন লটারির নথি ও পদায়ন আদেশ যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত। অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পদ, প্রভাব কিংবা অর্থের কারণে বৈষম্য তৈরির সুযোগ থাকা উচিত নয়। নিয়ম সবার জন্য সমান,এই নীতির বাস্তব প্রয়োগই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়ন ঘিরে ওঠা অভিযোগের জবাব কি দেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নাকি প্রশ্নগুলো অমীমাংসিতই থেকে যাবে?