০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়নে ‘লটারি’ নিয়ে প্রশ্ন! স্বজনপ্রীতি, গ্রুপিং ও ঘুষের অভিযোগ,নীরব কেন কর্তৃপক্ষ? বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে আইনজীবীর ওপর হামলা! ভূমিদস্যু ও ফ্যাসিস্ট নিকুঞ্জ বালা পলাশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন! প্রতারণার মামলায় কর পরিদর্শক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কারখানার প্রবেশপথ বন্ধের অভিযোগ, ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি! জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে জেজেইউর তীব্র নিন্দা! সর্বস্তরে ইসলামের আদর্শের দাওয়াত পৌঁছানোর আহ্বান মুয়াযযম হোসাইন হেলালের! চাকরি ছাড়ার পরও বেতন তোলার তদবিরের অভিযোগ, চরফ্যাশনের মাদ্রাসায় তোলপাড়! নথিতে রাজনৈতিক ছাপ, ছবিতে ফুলেল শুভেচ্ছা-সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে ‘জবাবদিহির ফাইল’ খুলবে কবে? উখিয়ায় ৩০ হাজার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক বরিশালে অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সংবাদ সম্মেলন

নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কারখানার প্রবেশপথ বন্ধের অভিযোগ, ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফতুল্লায় রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা বন্ধ, শতাধিক শ্রমিকের জীবিকা অনিশ্চয়তায়, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন!

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।।নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা ‘পি.আই. ওশান টেক্স’-এর মালিক মো. তৈয়ব মিয়া অভিযোগ করেছেন, তাঁর কাছে ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া, শ্রমিকদের বের করে দেওয়া, একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা এবং প্রাণনাশের হুমকির কারণে তাঁর ব্যবসা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

কারখানার মালিকের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে শুধু তাঁর বিনিয়োগই নয়, শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান, বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং দেশের রপ্তানি আয়ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

 

নিজের জমির মালিকানা ও এজমালি রাস্তা ব্যবহারের অধিকার প্রতিষ্ঠিত দাবি করে মো. তৈয়ব মিয়া জানান, এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরও পরিস্থিতির কার্যকর সমাধান হয়নি।

 

জাপানের পুঁজি দেশে বিনিয়োগ, এখন কারখানা বন্ধের শঙ্কা!

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. তৈয়ব মিয়া বলেন, তিনি জাপানে অর্জিত পুঁজি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পে বিনিয়োগ করেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এবং মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

 

ফতুল্লা থানাধীন ২১৬/২১৭, ধাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় অবস্থিত তাঁর ‘পি.আই. ওশান টেক্স’ একটি শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা। অথচ বর্তমানে কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন, কাঁচামাল পরিবহন এবং পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।

 

তৈয়ব মিয়ার ভাষ্য, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য বিপুল অর্থ বিনিয়োগ, ব্যাংকঋণ, শ্রমিকদের বেতন এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি রক্ষা করতে হয়। কিন্তু রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হলে একটি সচল কারখানাও মুহূর্তে অচল হয়ে পড়তে পারে। তাঁর অভিযোগ, বাস্তবে তাঁর প্রতিষ্ঠান এখন সেই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

 

জমির দলিল, নামজারি ও এজমালি রাস্তা নিয়ে বিরোধ!

 

কারখানার জমির মালিকানা সম্পর্কে তৈয়ব মিয়া জানান, নিবন্ধিত পারিবারিক বণ্টননামা ও পরবর্তী দলিলের মাধ্যমে তাঁর মালিকানার ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯ এপ্রিল ২০২২ তারিখে নিবন্ধিত সাফকবলা দলিল নং ৫২৬১-এর মাধ্যমে মো. এমদাদ হোসেনের কাছ থেকে ১৯৬ নম্বর দাগে ৭ শতাংশ এবং ২১৬ নম্বর দাগে ১০ শতাংশসহ মোট ১৭ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের ৬৩৫৩/২০২১-২২ নম্বর নামজারি মামলার মাধ্যমে জমি নামজারি ও জমাভাগ করা হয়। নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করে আসছেন বলে জানান তিনি।

 

তৈয়ব মিয়ার দাবি, সংশ্লিষ্ট দলিলে ১০ ফুট প্রশস্ত একটি এজমালি রাস্তার উল্লেখ রয়েছে, যা মো. এরশাদ হোসাইন, মো. এমদাদ হোসেন ও মো. মনোয়ার হোসেনের যৌথ ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। রাস্তাটি ৬০ ফুট প্রশস্ত সরকারি সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত। প্রায় চার বছর ধরে এই পথ ব্যবহার করেই কারখানার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।

 

তাঁর প্রশ্ন, দলিল ও দীর্ঘদিনের ব্যবহারসংক্রান্ত দাবি নিয়ে বিরোধ থাকলে তার নিষ্পত্তি হবে আইন ও আদালতের মাধ্যমে,কিন্তু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলে তার দায় কে নেবে?

 

৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, অস্বীকৃতির পর রাস্তা বন্ধ!

 

তৈয়ব মিয়ার অভিযোগ, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এইচ এ এম মাহমুদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি তাঁর কারখানার সামনের ৭ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করেন। ওই ব্যক্তি তথ্য গোপন করে জাল দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

কারখানার মালিকের দাবি, ওই ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে তাঁর কাছে ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে সেখানে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কারখানার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

 

তৈয়ব মিয়ার আরও অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে কারখানায় হামলা চালিয়ে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বের করে দেওয়া হয়। এতে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

 

অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। তবে চাঁদা দাবি, জাল দলিল, হামলা ও হুমকির বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

 

রাস্তার ওপর দেয়াল, বর্জ্য ফেলে চলাচল বন্ধের অভিযোগ!

 

কারখানার মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধের জেরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। রাস্তার অধিকার বজায় রাখার দাবিতে দেওয়ানি মামলা নং ৩৩৩/২০২৬ দায়ের করেন। পাশাপাশি তাঁর উল্লেখ করা ১৩৫২/২০২৬ নম্বরের একটি মামলাও আদালতে করেছেন বলে জানান।

 

তৈয়ব মিয়ার অভিযোগ, এসব আইনি পদক্ষেপের পর তাঁর কারখানায় যাতায়াতের রাস্তায় ৮ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার দেয়াল নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া ঢালাই করা রাস্তার ওপর ময়লা-আবর্জনা ও বয়লারের বর্জ্য ফেলে পথটি চলাচলের অনুপযোগী করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর অভিযোগ, রাস্তা বন্ধ থাকায় কারখানায় কাঁচামাল আনা-নেওয়া, প্রস্তুত পণ্য পরিবহন এবং শ্রমিকদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

 

একটি রাস্তা ঘিরে বিরোধের পরিণতি যদি হয় একটি রপ্তানিমুখী কারখানার উৎপাদন বন্ধ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত এবং বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে,তাহলে বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না,এর সঙ্গে জনস্বার্থ ও শিল্পের পরিবেশও জড়িয়ে পড়ে।

 

মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ!

 

তৈয়ব মিয়ার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আদালতে একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে,দেওয়ানি মামলা নং ১৯৬/২০২৬,ফৌজদারি মামলা নং ১৬৪/২০২৬,সিআর মামলা নং ২৫৫/২০২৬,সিআর মামলা নং ৮৮৩/২০২৬,সিআর মামলা নং ১১২০/২০২৬,সিআর মামলা নং ১২২৭/২০২৬

 

তাঁর অভিযোগ, এসব মামলা তাঁকে হয়রানি ও ব্যবসায়িকভাবে চাপে রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তবে মামলাগুলোর আরজি, অভিযোগের বিবরণ, আদালতের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই ছাড়া এগুলোকে মিথ্যা মামলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে আখ্যায়িত করা যাচ্ছে না।

 

তৈয়ব মিয়া বলেন, তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চান। তাঁর দাবি, মামলাগুলোর প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

থানায় জিডি, পরিদর্শনের পরও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি!

 

 

তৈয়ব মিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ঘটনা নিয়ে তিনি ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন, যার নম্বর ৬৩০। পরে থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি কারখানা পরিদর্শন করেন বলে দাবি করেন তৈয়ব মিয়া।

তবে পরিদর্শনের পরও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।

 

এ পর্যায়ে পুলিশের ভূমিকা, জিডির তদন্তের অগ্রগতি, রাস্তা বন্ধের অভিযোগে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এবং প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে,এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া জরুরি।

 

ব্যাংকঋণ, বিদেশি ক্রেতা ও রপ্তানি চুক্তি নিয়ে সংকট!

 

কারখানার মালিক জানান, ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কলাবাগান শাখা, ঢাকার অনুকূলে ২২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ৭৪৪৩ নম্বর নিবন্ধিত বন্ধকী দলিল সম্পাদন করা হয়।

তাঁর অভিযোগ, কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধে জটিলতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার ও রপ্তানি চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

এসব দাবির আর্থিক পরিমাণ, বাতিল হওয়া অর্ডারের বিবরণ এবং ব্যাংকের অবস্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে অভিযোগগুলো সত্য হলে এর প্রভাব শুধু কারখানার মালিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শ্রমিকদের আয়, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক অংশীদাররাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

প্রশাসনের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি!

 

সংবাদ সম্মেলনে মো. তৈয়ব মিয়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

তিনি যে পদক্ষেপগুলো প্রত্যাশা করছেন, সেগুলো হলো,৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।জমির দলিল, নামজারি, মালিকানা এবং ১০ ফুট প্রশস্ত এজমালি রাস্তার ব্যবহারাধিকারসংক্রান্ত নথি যাচাই।কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ, দেয়াল নির্মাণ ও বর্জ্য ফেলে চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ প্রতিকার নিশ্চিত করা।কারখানায় হামলা, শ্রমিকদের বের করে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ খতিয়ে দেখা।দায়ের করা দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাগুলোর প্রকৃত প্রেক্ষাপট নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা।আইন ও আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে কারখানার বৈধ প্রবেশপথ ও চলাচলের অধিকার নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।কারখানার সঙ্গে জড়িত শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও জীবিকা রক্ষায় আইনসম্মত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।

এখন প্রশ্ন,বিনিয়োগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?

 

একদিকে বিদেশে অর্জিত পুঁজি দেশে এনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ, অন্যদিকে চাঁদা দাবি, রাস্তা বন্ধ ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ,এই দুই বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘পি.আই. ওশান টেক্স’-এর ভবিষ্যৎ।

 

মো. তৈয়ব মিয়ার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জমির মালিকানা ও রাস্তা ব্যবহারের বিরোধে সব পক্ষের বক্তব্য শোনা এবং আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা জরুরি।

 

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট,চাঁদা দাবি, জবরদস্তি কিংবা বেআইনিভাবে চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তার প্রতিকার হওয়া উচিত আইনের মাধ্যমে; আর অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকেই আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়।

এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কারখানার শ্রমিকদের জীবিকা, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং বৈধ অধিকার রক্ষায় কার্যকর সমাধানের পথ বের করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কারখানার প্রবেশপথ বন্ধের অভিযোগ, ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি!

আপডেট সময় : ০৫:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ফতুল্লায় রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা বন্ধ, শতাধিক শ্রমিকের জীবিকা অনিশ্চয়তায়, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন!

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।।নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা ‘পি.আই. ওশান টেক্স’-এর মালিক মো. তৈয়ব মিয়া অভিযোগ করেছেন, তাঁর কাছে ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া, শ্রমিকদের বের করে দেওয়া, একের পর এক হয়রানিমূলক মামলা এবং প্রাণনাশের হুমকির কারণে তাঁর ব্যবসা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

কারখানার মালিকের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে শুধু তাঁর বিনিয়োগই নয়, শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান, বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং দেশের রপ্তানি আয়ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

 

নিজের জমির মালিকানা ও এজমালি রাস্তা ব্যবহারের অধিকার প্রতিষ্ঠিত দাবি করে মো. তৈয়ব মিয়া জানান, এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরও পরিস্থিতির কার্যকর সমাধান হয়নি।

 

জাপানের পুঁজি দেশে বিনিয়োগ, এখন কারখানা বন্ধের শঙ্কা!

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. তৈয়ব মিয়া বলেন, তিনি জাপানে অর্জিত পুঁজি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পে বিনিয়োগ করেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এবং মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

 

ফতুল্লা থানাধীন ২১৬/২১৭, ধাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় অবস্থিত তাঁর ‘পি.আই. ওশান টেক্স’ একটি শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা। অথচ বর্তমানে কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন, কাঁচামাল পরিবহন এবং পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।

 

তৈয়ব মিয়ার ভাষ্য, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য বিপুল অর্থ বিনিয়োগ, ব্যাংকঋণ, শ্রমিকদের বেতন এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি রক্ষা করতে হয়। কিন্তু রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হলে একটি সচল কারখানাও মুহূর্তে অচল হয়ে পড়তে পারে। তাঁর অভিযোগ, বাস্তবে তাঁর প্রতিষ্ঠান এখন সেই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

 

জমির দলিল, নামজারি ও এজমালি রাস্তা নিয়ে বিরোধ!

 

কারখানার জমির মালিকানা সম্পর্কে তৈয়ব মিয়া জানান, নিবন্ধিত পারিবারিক বণ্টননামা ও পরবর্তী দলিলের মাধ্যমে তাঁর মালিকানার ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯ এপ্রিল ২০২২ তারিখে নিবন্ধিত সাফকবলা দলিল নং ৫২৬১-এর মাধ্যমে মো. এমদাদ হোসেনের কাছ থেকে ১৯৬ নম্বর দাগে ৭ শতাংশ এবং ২১৬ নম্বর দাগে ১০ শতাংশসহ মোট ১৭ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের ৬৩৫৩/২০২১-২২ নম্বর নামজারি মামলার মাধ্যমে জমি নামজারি ও জমাভাগ করা হয়। নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করে আসছেন বলে জানান তিনি।

 

তৈয়ব মিয়ার দাবি, সংশ্লিষ্ট দলিলে ১০ ফুট প্রশস্ত একটি এজমালি রাস্তার উল্লেখ রয়েছে, যা মো. এরশাদ হোসাইন, মো. এমদাদ হোসেন ও মো. মনোয়ার হোসেনের যৌথ ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। রাস্তাটি ৬০ ফুট প্রশস্ত সরকারি সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত। প্রায় চার বছর ধরে এই পথ ব্যবহার করেই কারখানার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।

 

তাঁর প্রশ্ন, দলিল ও দীর্ঘদিনের ব্যবহারসংক্রান্ত দাবি নিয়ে বিরোধ থাকলে তার নিষ্পত্তি হবে আইন ও আদালতের মাধ্যমে,কিন্তু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলে তার দায় কে নেবে?

 

৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, অস্বীকৃতির পর রাস্তা বন্ধ!

 

তৈয়ব মিয়ার অভিযোগ, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এইচ এ এম মাহমুদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি তাঁর কারখানার সামনের ৭ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করেন। ওই ব্যক্তি তথ্য গোপন করে জাল দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

কারখানার মালিকের দাবি, ওই ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে তাঁর কাছে ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে সেখানে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কারখানার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

 

তৈয়ব মিয়ার আরও অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে কারখানায় হামলা চালিয়ে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বের করে দেওয়া হয়। এতে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

 

অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। তবে চাঁদা দাবি, জাল দলিল, হামলা ও হুমকির বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

 

রাস্তার ওপর দেয়াল, বর্জ্য ফেলে চলাচল বন্ধের অভিযোগ!

 

কারখানার মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধের জেরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। রাস্তার অধিকার বজায় রাখার দাবিতে দেওয়ানি মামলা নং ৩৩৩/২০২৬ দায়ের করেন। পাশাপাশি তাঁর উল্লেখ করা ১৩৫২/২০২৬ নম্বরের একটি মামলাও আদালতে করেছেন বলে জানান।

 

তৈয়ব মিয়ার অভিযোগ, এসব আইনি পদক্ষেপের পর তাঁর কারখানায় যাতায়াতের রাস্তায় ৮ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার দেয়াল নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া ঢালাই করা রাস্তার ওপর ময়লা-আবর্জনা ও বয়লারের বর্জ্য ফেলে পথটি চলাচলের অনুপযোগী করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর অভিযোগ, রাস্তা বন্ধ থাকায় কারখানায় কাঁচামাল আনা-নেওয়া, প্রস্তুত পণ্য পরিবহন এবং শ্রমিকদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

 

একটি রাস্তা ঘিরে বিরোধের পরিণতি যদি হয় একটি রপ্তানিমুখী কারখানার উৎপাদন বন্ধ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত এবং বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে,তাহলে বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না,এর সঙ্গে জনস্বার্থ ও শিল্পের পরিবেশও জড়িয়ে পড়ে।

 

মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ!

 

তৈয়ব মিয়ার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আদালতে একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে,দেওয়ানি মামলা নং ১৯৬/২০২৬,ফৌজদারি মামলা নং ১৬৪/২০২৬,সিআর মামলা নং ২৫৫/২০২৬,সিআর মামলা নং ৮৮৩/২০২৬,সিআর মামলা নং ১১২০/২০২৬,সিআর মামলা নং ১২২৭/২০২৬

 

তাঁর অভিযোগ, এসব মামলা তাঁকে হয়রানি ও ব্যবসায়িকভাবে চাপে রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তবে মামলাগুলোর আরজি, অভিযোগের বিবরণ, আদালতের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই ছাড়া এগুলোকে মিথ্যা মামলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে আখ্যায়িত করা যাচ্ছে না।

 

তৈয়ব মিয়া বলেন, তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চান। তাঁর দাবি, মামলাগুলোর প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

থানায় জিডি, পরিদর্শনের পরও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি!

 

 

তৈয়ব মিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ঘটনা নিয়ে তিনি ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন, যার নম্বর ৬৩০। পরে থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি কারখানা পরিদর্শন করেন বলে দাবি করেন তৈয়ব মিয়া।

তবে পরিদর্শনের পরও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।

 

এ পর্যায়ে পুলিশের ভূমিকা, জিডির তদন্তের অগ্রগতি, রাস্তা বন্ধের অভিযোগে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এবং প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে,এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া জরুরি।

 

ব্যাংকঋণ, বিদেশি ক্রেতা ও রপ্তানি চুক্তি নিয়ে সংকট!

 

কারখানার মালিক জানান, ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কলাবাগান শাখা, ঢাকার অনুকূলে ২২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ৭৪৪৩ নম্বর নিবন্ধিত বন্ধকী দলিল সম্পাদন করা হয়।

তাঁর অভিযোগ, কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধে জটিলতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার ও রপ্তানি চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

এসব দাবির আর্থিক পরিমাণ, বাতিল হওয়া অর্ডারের বিবরণ এবং ব্যাংকের অবস্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে অভিযোগগুলো সত্য হলে এর প্রভাব শুধু কারখানার মালিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শ্রমিকদের আয়, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক অংশীদাররাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

প্রশাসনের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি!

 

সংবাদ সম্মেলনে মো. তৈয়ব মিয়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

তিনি যে পদক্ষেপগুলো প্রত্যাশা করছেন, সেগুলো হলো,৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।জমির দলিল, নামজারি, মালিকানা এবং ১০ ফুট প্রশস্ত এজমালি রাস্তার ব্যবহারাধিকারসংক্রান্ত নথি যাচাই।কারখানার প্রবেশপথ বন্ধ, দেয়াল নির্মাণ ও বর্জ্য ফেলে চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ প্রতিকার নিশ্চিত করা।কারখানায় হামলা, শ্রমিকদের বের করে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ খতিয়ে দেখা।দায়ের করা দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাগুলোর প্রকৃত প্রেক্ষাপট নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা।আইন ও আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে কারখানার বৈধ প্রবেশপথ ও চলাচলের অধিকার নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।কারখানার সঙ্গে জড়িত শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও জীবিকা রক্ষায় আইনসম্মত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।

এখন প্রশ্ন,বিনিয়োগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?

 

একদিকে বিদেশে অর্জিত পুঁজি দেশে এনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ, অন্যদিকে চাঁদা দাবি, রাস্তা বন্ধ ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ,এই দুই বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘পি.আই. ওশান টেক্স’-এর ভবিষ্যৎ।

 

মো. তৈয়ব মিয়ার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জমির মালিকানা ও রাস্তা ব্যবহারের বিরোধে সব পক্ষের বক্তব্য শোনা এবং আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা জরুরি।

 

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট,চাঁদা দাবি, জবরদস্তি কিংবা বেআইনিভাবে চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তার প্রতিকার হওয়া উচিত আইনের মাধ্যমে; আর অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকেই আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়।

এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কারখানার শ্রমিকদের জীবিকা, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং বৈধ অধিকার রক্ষায় কার্যকর সমাধানের পথ বের করা হবে।