সংবাদ শিরোনাম ::
সওজে আজাদ সিন্ডিকেট আতঙ্ক!বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ আর বিদেশ সফরের আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগ। ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে ছাত্রীর আত্মহত্যা! প্রজন্মকে দেশপ্রেম শেখাবে জিয়ার আদর্শ! বই উন্মোচনে এসএম জিলানী। ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালকের দূর্নীতির ক্যাশিয়ার রেজায়ে রাব্বি! সমাজ-মন থেকে সাহিত্যচর্চায় তরুণ লেখক জয়দেব বেরা তদন্তের নামে টাকার খেলা! ডাবের দখল নিতে রক্তের খেলা!পাথরঘাটায় নিজ উঠানেই জেলে আলম ফিটারকে পিটিয়ে হত্যা। টেন্ডারে নতুন গেইট-দেয়াল, বাস্তবে পোড়ানো রডের জাদুঘর! মুরগির লিটারে পরিবেশ বিপর্যয়! নাবিল গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবিতে উত্তাল এলাকাবাসী। অভয়নগরে পুলিশের হাতকড়া নিয়ে চম্পট মাদকসেবী,ওসির দাবি-কিছু জানি না!

সওজে আজাদ সিন্ডিকেট আতঙ্ক!বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ আর বিদেশ সফরের আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগ।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার।।সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) যেন এখন এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে!অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদ রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে একটি শক্তিশালী দখলদার চক্র, যারা বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রকল্প সিন্ডিকেট এবং বিদেশ সফরের আড়ালে কোটি কোটি টাকা লোপাটের খেলায় মেতে উঠেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজধানীসহ নিজ গ্রামে এ.কে.এম আজাদ রহমান ও তার পরিবারের নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে বিপুল সম্পদের পাহাড়। একাধিক বাড়ি, জমি ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেলেও এসব সম্পদের স্বচ্ছ উৎস নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো,২০০৭–০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে ট্রুথ কমিশনে হাজির হয়ে অর্থ আত্মসাতের দায় স্বীকার করেছিলেন এই কর্মকর্তা। অথচ সময়ের ব্যবধানে আবারও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরে এসে হয়ে ওঠেন সওজের অন্যতম ক্ষমতাধর কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে,সওজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং ও বদলিতে মোটা অঙ্কের লেনদেন হয় তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। পছন্দের পদ পেতে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে এই চক্রের শক্ত অবস্থান।

অভিযোগ রয়েছে, বিদেশ সফরের নামে নিয়মিত বিপুল অর্থ পাচার করা হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও সরকারি সফরের আড়ালে অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে নুরু ইসলামের নামও ঘুরে ফিরে আসছে।

সওজের ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক ও শক্তিশালী লবিংয়ের কারণে বছরের পর বছর ধরেই বহাল তবিয়তে রয়েছেন এ.কে.এম আজাদ রহমান। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও বারবার চাপা পড়ে গেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সিন্ডিকেটের কারণে শুধু সরকারি অর্থ লুটই নয়, মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দেশের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন। নিম্নমানের কাজ, প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বাড়ছে জনদুর্ভোগ, ঝুঁকিতে পড়ছে সড়ক নিরাপত্তা।

এদিকে দুর্নীতির এসব অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, সওজের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা এই দুর্নীতির সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প আরও বড় ঝুঁকিতে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সওজে আজাদ সিন্ডিকেট আতঙ্ক!বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ আর বিদেশ সফরের আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগ।

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার।।সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) যেন এখন এক অদৃশ্য সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে!অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদ রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে একটি শক্তিশালী দখলদার চক্র, যারা বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রকল্প সিন্ডিকেট এবং বিদেশ সফরের আড়ালে কোটি কোটি টাকা লোপাটের খেলায় মেতে উঠেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজধানীসহ নিজ গ্রামে এ.কে.এম আজাদ রহমান ও তার পরিবারের নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে বিপুল সম্পদের পাহাড়। একাধিক বাড়ি, জমি ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেলেও এসব সম্পদের স্বচ্ছ উৎস নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো,২০০৭–০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে ট্রুথ কমিশনে হাজির হয়ে অর্থ আত্মসাতের দায় স্বীকার করেছিলেন এই কর্মকর্তা। অথচ সময়ের ব্যবধানে আবারও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরে এসে হয়ে ওঠেন সওজের অন্যতম ক্ষমতাধর কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে,সওজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং ও বদলিতে মোটা অঙ্কের লেনদেন হয় তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। পছন্দের পদ পেতে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে এই চক্রের শক্ত অবস্থান।

অভিযোগ রয়েছে, বিদেশ সফরের নামে নিয়মিত বিপুল অর্থ পাচার করা হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও সরকারি সফরের আড়ালে অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে নুরু ইসলামের নামও ঘুরে ফিরে আসছে।

সওজের ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক ও শক্তিশালী লবিংয়ের কারণে বছরের পর বছর ধরেই বহাল তবিয়তে রয়েছেন এ.কে.এম আজাদ রহমান। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও বারবার চাপা পড়ে গেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সিন্ডিকেটের কারণে শুধু সরকারি অর্থ লুটই নয়, মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দেশের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন। নিম্নমানের কাজ, প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বাড়ছে জনদুর্ভোগ, ঝুঁকিতে পড়ছে সড়ক নিরাপত্তা।

এদিকে দুর্নীতির এসব অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, সওজের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা এই দুর্নীতির সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প আরও বড় ঝুঁকিতে পড়বে।