সংবাদ শিরোনাম ::
বাকেরগঞ্জের বিতর্কিত বহিষ্কৃত নেতা সেই কুদ্দুস আবারও আলোচনায়। জনগণকে দেওয়া ওয়াদা পালনে কাজ করছে বর্তমান সরকার- এমপি খোকন তালুকদার বরিশাল জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: নূরুল ইসলাম এখন নতুন আশ্রয়ের খোঁজে বিএনপিতে বরিশালে গাঁজা রফিক-নাককাটা রুবেল’ সিন্ডিকেটের ত্রাস-সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, মাদক-অস্ত্রের ভয়াল সাম্রাজ্য ফাঁস! গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নিয়ে অপপ্রচারের ঝড়!কাজ করছেন প্রশাসক শওকত, তবু কেন এই বিষোদগার? কদমতলীতে ফুল কুড়ি থিয়েটারের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল! মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা, মাসাসের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ভোলার লালমোহনে রিপোর্টার্স ইউনিটি দখল করে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয় বরিশাল-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের পক্ষে ১১০ স্থানে গণমিছিল! শুক্রবার মেহেন্দিগঞ্জ যাচ্ছেন জামায়াত আমির, দাঁড়িপাল্লা সমর্থকদের উচ্ছাস

বাকেরগঞ্জের বিতর্কিত বহিষ্কৃত নেতা সেই কুদ্দুস আবারও আলোচনায়।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার।। দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত কবাই ইউনিয়নের বিএনপি’র বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি কুদ্দুস মিয়াকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল কুদ্দুস মিয়ার গৃহকর্মীর সাথী (১৮) কে কুপ্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হলে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

খোঁজখবর নিয়ে নিয়ে জানা যায়, কুদ্দুস মিয়ার প্রথম স্ত্রী ঢাকার মেয়ের বাসায় এবং দ্বিতীয় স্ত্রী সাজেদা বেগম বরিশাল শহরে তার ছেলের বাসায় বসবাস করছেন। কুদ্দুস মিয়া তার অপর এক ছেলে শৈশব ও পুত্রবধূকে নিয়ে পেয়ারপুর বাজারে নিজ বাসায় বসবাস করে আসছেন। গতকাল বাসায় পরিবার না থাকায় গৃহকর্মী সাথীকে কুপ্রস্তাব দিলে সাথী তার প্রস্তাবে রাজি না হলে বিষয়টি নিয়ে দুই জনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা, ধস্তাধস্তি শুরু হলে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এই কুদ্দুস মিয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তালিকায় চাঁদাবাজি, প্রতারক, নারী ও শিশু নির্যাতন, অস্ত্র আইন, চুরি, বিস্ফোরক, জাল টাকার ব্যবসা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ নানা অপরাধে ১৫ মামলার আসামি হয়েও এখনো বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন তার অপরাধ কর্মকাণ্ড।

নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার হোতা কুদ্দুস ও তার সহযোগীদের কাছে বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দলের হাই কমেন্ট ২০/০৮/২০২৪ কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে আব্দুল কুদ্দুস মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে কিন্তু কবাই ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণ এখনো কুদ্দুস মিয়ার হাতে।
কুদ্দুস মিয়ার ছেলে সাইদুল ইসলাম রনি নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে সরকারি চরের জমির মাটি যা ভেকু দিয়ে কাটতে গিয়ে কবাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তার দায়ের করা মামলার আসামি হয়ে জেলহাজতেও যায়। অপর ছেলে মেহেদী হাসান শৈশব এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মাদক। থামছে না কোনভাবেই কুদ্দুস পরিবার ও তার সহযোগীদের অপরাধ কর্মকান্ড। ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের বৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হানুয়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে কুদ্দুস মিয়ার (৫৫) ছোটবেলা থেকেই কবাই ইউনিয়নের পেয়ারপুর এলাকায় বসবাস। সে সুবাদে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে ওই এলাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন অপরাধের সাম্রাজ্য। থানা পুলিশের প্রিভিয়াস কনভিকশন অ্যান্ড প্রিভিয়াস রেকর্ড (পিসিপিআর) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগের মধ্যে প্রায় ১৫টি মামলার আসামি হয়েছেন আব্দুল কুদ্দুস মিয়া। বাকেরগঞ্জ থানা (১) এফআইআর নং -৫, জি আর নং ৫৫, ৪ মার্চ ২০০৮। ধারা ১৪৩/৩৪১/৩৮৫/৩৮৬/ ৫০৬(২) পেনাল কোড ১৮৬০।
(২) এফআইআর নং -৭, ৫ অক্টোবর ২০১২। ধারা ১১(গ),৩০ ২০০০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩।
(৩) এফআইআর নং -২৪, জি আর নং-৩৪৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩। ধারা ৪০৬/৪২০ পেনেল কোড ১৮৬০।
(৪) এফআইআর নং -৫, জি আর নং-৩২৬, ৩ ডিসেম্বর ২০১৩। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৪২৭/২৮৩ পেনেল কোড ১৮৬০।
(৫) এফআইআর নং -২৩, জি আর নং-২৩, ২৬ জানুয়ারি ২০১৫। ধারা ১৫(১)(ক) ১৯৭৪ বিশেষ ক্ষমতা আইন।
(৬) এফআইআর নং -৪, জি আর নং-৪, ৪ জানুয়ারি ২০২০। ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬/১১৪ পেনেল কোড ১৮৬০।
(৭) এফআইআর নং -১৬, জি আর নং-৪৭, ২১ মার্চ ২০২২। ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/১১৪ পেনেল কোড ১৮৬০।
(৮) এফআইআর নং -৬, জি আর নং-১৫৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮।
(৯) এফআইআর নং -৭, জি আর নং-১৫৮, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ২৫-A) ১৯৭৪ ।
(১০) এফআইআর নং -৮, জি আর নং-১৫৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ১৯-A ১৮৭৮।
(১১) তেজগাঁও থানা এফআইআর নং -১৪, জি আর নং-২৯৫, ১০ মে ২০২২। ধারা ৩-১৯০৮ বিষ্ফোরক দ্রব্য আইন সহ ১৪৩/১৪৮/৪২৭/৪৩৫/৪৩৬/৫০৬ প্যানেল কোড ১৮৬০।
(১২) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -২, জি আর নং-২৯৫, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৩৮০/৪২৭/৪৪৭/৪৪৮/৪৩৬/১০৯ প্যানেল কোট ১৮৬০।
(১৩) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৯, জি আর নং-৪২, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩৮৫/৩৮৬/৩৭৯/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০।
(১৪) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৩২, জি আর নং-৬৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। ধারা ১৪৩/১০৯/৪২৭/৩৮৫/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০।
তথ্য নেই এরকম জিআর মামলা রয়েছে এছাড়া সিআর মামলা অসংখ্য রয়েছে।

কুদ্দুস মিয়াঁর ২য় পুত্র মেহেদী হাসান শৈশবের পিসিপিআর এ রয়েছে ৯টি মামলা।(১) এফআইআর নং -৫, জি আর নং-৩২৬, ৩ ডিসেম্বর ২০১৩। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৪২৭/২৮৩ পেনেল কোড ১৮৬০।(২) এফআইআর নং -২২, জি আর নং-৩৭২, ২২ ডিসেম্বর ২০১৮। ধারা১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৭৯/৪২৭/৫০৬ পেনেল কোড ১৮৬০।(৩) এফআইআর নং -১৬, জি আর নং-৪৭, ২১ মার্চ ২০২২ ধারা১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/১১৪ পেনেল কোড ১৮৬০।(৪) এফআইআর নং -৬, জি আর নং-১৫৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮।

(৫) এফআইআর নং -৭, জি আর নং-১৫৮, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ২৫-A) ১৯৭৪ ।(৬) এফআইআর নং -৮, জি আর নং-১৫৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ১৯-A ১৮৭৮।
(৭) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -২, জি আর নং-২৯৫, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৩৮০/৪২৭/৪৪৭/৪৪৮/৪৩৬/১০৯ প্যানেল কোট ১৮৬০।(৮) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৯, জি আর নং-৪২, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩৮৫/৩৮৬/৩৭৯/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০।
(৯) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৩২, জি আর নং-৬৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। ধারা ১৪৩/১০৯/৪২৭/৩৮৫/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০।তথ্য নেই এরকম জিআর মামলা রয়েছে এছাড়া সিআর মামলা অসংখ্য রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কবাই ইউনিয়নের পেয়ারপুর চন্দ্রবিন্দু কমপ্লেক্সে এবং শিয়ালঘুনি চন্দ্রবিন্দু অ্যাগ্রো ফার্মা নামের প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়ে ভাঙচুর করে লুটপাট করা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এতে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ঘটায়।

এছাড়াও বাকেরগঞ্জের হানুয়া গ্রামের এএইচ ব্রিকস নামের ইটভাঁটার দুইবার অফিসে প্রকাশ্যে প্রবেশ করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নগদ টাকাসহ প্রায় ১২/১৩ লাখ টাকার মালামাল লুটের ঘটনা ঘটায় ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। একাধিক ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি ওয়ারিশ দিয়ে মামলা করে বাধ্য করতো কম দামে অথবা বিনামূল্যে জমি ফিরিয়ে নিতে ক্রেতার কাছ থেকে। তার অত্যাচার থেকে রেহাই পায়নি ব্যবসায়ী,সরকারি চাকরিজীবী, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ। কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অধিকাংশ মামলা চলমান রয়েছে। নানা অপরাধের অভিযোগে কুদ্দুস মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর একাধিকবার কারাভোগ করেন। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে তিনি পুনরায় নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে এলাকাবাসীর কাছে কুদ্দুস মিয়া এখন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছে।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তার বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়ের করা হলেও রহস্যজনক কারণে সেগুলোর অগ্রগতি থমকে আছে।

কুদ্দুস মিয়ার আওয়ামী ফেসিস্ট আমলে বরিশালের সাদিক আব্দুল্লাহর নিকটতম আস্থাভাজন তার বোন, বোন জামাই ও ভাগিনার দাপটে অনেক বিএনপি নেতাদের মামলাসহ লুটপাট করে নিরীহ মানুষদেরকে নিঃস্ব করে দিয়েছে

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, কুদ্দুস মিয়া একাধিক মামলার আসামি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাকেরগঞ্জের বিতর্কিত বহিষ্কৃত নেতা সেই কুদ্দুস আবারও আলোচনায়।

আপডেট সময় : ০৪:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার।। দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত কবাই ইউনিয়নের বিএনপি’র বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি কুদ্দুস মিয়াকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল কুদ্দুস মিয়ার গৃহকর্মীর সাথী (১৮) কে কুপ্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হলে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

খোঁজখবর নিয়ে নিয়ে জানা যায়, কুদ্দুস মিয়ার প্রথম স্ত্রী ঢাকার মেয়ের বাসায় এবং দ্বিতীয় স্ত্রী সাজেদা বেগম বরিশাল শহরে তার ছেলের বাসায় বসবাস করছেন। কুদ্দুস মিয়া তার অপর এক ছেলে শৈশব ও পুত্রবধূকে নিয়ে পেয়ারপুর বাজারে নিজ বাসায় বসবাস করে আসছেন। গতকাল বাসায় পরিবার না থাকায় গৃহকর্মী সাথীকে কুপ্রস্তাব দিলে সাথী তার প্রস্তাবে রাজি না হলে বিষয়টি নিয়ে দুই জনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা, ধস্তাধস্তি শুরু হলে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এই কুদ্দুস মিয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তালিকায় চাঁদাবাজি, প্রতারক, নারী ও শিশু নির্যাতন, অস্ত্র আইন, চুরি, বিস্ফোরক, জাল টাকার ব্যবসা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ নানা অপরাধে ১৫ মামলার আসামি হয়েও এখনো বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন তার অপরাধ কর্মকাণ্ড।

নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার হোতা কুদ্দুস ও তার সহযোগীদের কাছে বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে দলের হাই কমেন্ট ২০/০৮/২০২৪ কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে আব্দুল কুদ্দুস মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে কিন্তু কবাই ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণ এখনো কুদ্দুস মিয়ার হাতে।
কুদ্দুস মিয়ার ছেলে সাইদুল ইসলাম রনি নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে সরকারি চরের জমির মাটি যা ভেকু দিয়ে কাটতে গিয়ে কবাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তার দায়ের করা মামলার আসামি হয়ে জেলহাজতেও যায়। অপর ছেলে মেহেদী হাসান শৈশব এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মাদক। থামছে না কোনভাবেই কুদ্দুস পরিবার ও তার সহযোগীদের অপরাধ কর্মকান্ড। ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের বৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হানুয়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে কুদ্দুস মিয়ার (৫৫) ছোটবেলা থেকেই কবাই ইউনিয়নের পেয়ারপুর এলাকায় বসবাস। সে সুবাদে আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে ওই এলাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন অপরাধের সাম্রাজ্য। থানা পুলিশের প্রিভিয়াস কনভিকশন অ্যান্ড প্রিভিয়াস রেকর্ড (পিসিপিআর) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় যুগের মধ্যে প্রায় ১৫টি মামলার আসামি হয়েছেন আব্দুল কুদ্দুস মিয়া। বাকেরগঞ্জ থানা (১) এফআইআর নং -৫, জি আর নং ৫৫, ৪ মার্চ ২০০৮। ধারা ১৪৩/৩৪১/৩৮৫/৩৮৬/ ৫০৬(২) পেনাল কোড ১৮৬০।
(২) এফআইআর নং -৭, ৫ অক্টোবর ২০১২। ধারা ১১(গ),৩০ ২০০০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩।
(৩) এফআইআর নং -২৪, জি আর নং-৩৪৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৩। ধারা ৪০৬/৪২০ পেনেল কোড ১৮৬০।
(৪) এফআইআর নং -৫, জি আর নং-৩২৬, ৩ ডিসেম্বর ২০১৩। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৪২৭/২৮৩ পেনেল কোড ১৮৬০।
(৫) এফআইআর নং -২৩, জি আর নং-২৩, ২৬ জানুয়ারি ২০১৫। ধারা ১৫(১)(ক) ১৯৭৪ বিশেষ ক্ষমতা আইন।
(৬) এফআইআর নং -৪, জি আর নং-৪, ৪ জানুয়ারি ২০২০। ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৩৫৪/৫০৬/১১৪ পেনেল কোড ১৮৬০।
(৭) এফআইআর নং -১৬, জি আর নং-৪৭, ২১ মার্চ ২০২২। ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/১১৪ পেনেল কোড ১৮৬০।
(৮) এফআইআর নং -৬, জি আর নং-১৫৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮।
(৯) এফআইআর নং -৭, জি আর নং-১৫৮, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ২৫-A) ১৯৭৪ ।
(১০) এফআইআর নং -৮, জি আর নং-১৫৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ১৯-A ১৮৭৮।
(১১) তেজগাঁও থানা এফআইআর নং -১৪, জি আর নং-২৯৫, ১০ মে ২০২২। ধারা ৩-১৯০৮ বিষ্ফোরক দ্রব্য আইন সহ ১৪৩/১৪৮/৪২৭/৪৩৫/৪৩৬/৫০৬ প্যানেল কোড ১৮৬০।
(১২) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -২, জি আর নং-২৯৫, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৩৮০/৪২৭/৪৪৭/৪৪৮/৪৩৬/১০৯ প্যানেল কোট ১৮৬০।
(১৩) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৯, জি আর নং-৪২, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩৮৫/৩৮৬/৩৭৯/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০।
(১৪) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৩২, জি আর নং-৬৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। ধারা ১৪৩/১০৯/৪২৭/৩৮৫/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০।
তথ্য নেই এরকম জিআর মামলা রয়েছে এছাড়া সিআর মামলা অসংখ্য রয়েছে।

কুদ্দুস মিয়াঁর ২য় পুত্র মেহেদী হাসান শৈশবের পিসিপিআর এ রয়েছে ৯টি মামলা।(১) এফআইআর নং -৫, জি আর নং-৩২৬, ৩ ডিসেম্বর ২০১৩। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৪২৭/২৮৩ পেনেল কোড ১৮৬০।(২) এফআইআর নং -২২, জি আর নং-৩৭২, ২২ ডিসেম্বর ২০১৮। ধারা১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৭৯/৪২৭/৫০৬ পেনেল কোড ১৮৬০।(৩) এফআইআর নং -১৬, জি আর নং-৪৭, ২১ মার্চ ২০২২ ধারা১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/১১৪ পেনেল কোড ১৮৬০।(৪) এফআইআর নং -৬, জি আর নং-১৫৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮।

(৫) এফআইআর নং -৭, জি আর নং-১৫৮, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ২৫-A) ১৯৭৪ ।(৬) এফআইআর নং -৮, জি আর নং-১৫৯, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২। ধারা ১৯-A ১৮৭৮।
(৭) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -২, জি আর নং-২৯৫, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৩৮০/৪২৭/৪৪৭/৪৪৮/৪৩৬/১০৯ প্যানেল কোট ১৮৬০।(৮) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৯, জি আর নং-৪২, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪। ধারা ১৪৩/৪৪৮/৩৮৫/৩৮৬/৩৭৯/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০।
(৯) বাকেরগঞ্জ থানা এফআইআর নং -৩২, জি আর নং-৬৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। ধারা ১৪৩/১০৯/৪২৭/৩৮৫/৫০৬(২) প্যানেল কোট ১৮৬০।তথ্য নেই এরকম জিআর মামলা রয়েছে এছাড়া সিআর মামলা অসংখ্য রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কবাই ইউনিয়নের পেয়ারপুর চন্দ্রবিন্দু কমপ্লেক্সে এবং শিয়ালঘুনি চন্দ্রবিন্দু অ্যাগ্রো ফার্মা নামের প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়ে ভাঙচুর করে লুটপাট করা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এতে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ঘটায়।

এছাড়াও বাকেরগঞ্জের হানুয়া গ্রামের এএইচ ব্রিকস নামের ইটভাঁটার দুইবার অফিসে প্রকাশ্যে প্রবেশ করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নগদ টাকাসহ প্রায় ১২/১৩ লাখ টাকার মালামাল লুটের ঘটনা ঘটায় ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। একাধিক ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি ওয়ারিশ দিয়ে মামলা করে বাধ্য করতো কম দামে অথবা বিনামূল্যে জমি ফিরিয়ে নিতে ক্রেতার কাছ থেকে। তার অত্যাচার থেকে রেহাই পায়নি ব্যবসায়ী,সরকারি চাকরিজীবী, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ। কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অধিকাংশ মামলা চলমান রয়েছে। নানা অপরাধের অভিযোগে কুদ্দুস মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর একাধিকবার কারাভোগ করেন। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে তিনি পুনরায় নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে এলাকাবাসীর কাছে কুদ্দুস মিয়া এখন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছে।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তার বিরুদ্ধে একাধিক লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়ের করা হলেও রহস্যজনক কারণে সেগুলোর অগ্রগতি থমকে আছে।

কুদ্দুস মিয়ার আওয়ামী ফেসিস্ট আমলে বরিশালের সাদিক আব্দুল্লাহর নিকটতম আস্থাভাজন তার বোন, বোন জামাই ও ভাগিনার দাপটে অনেক বিএনপি নেতাদের মামলাসহ লুটপাট করে নিরীহ মানুষদেরকে নিঃস্ব করে দিয়েছে

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, কুদ্দুস মিয়া একাধিক মামলার আসামি।