কেডিসির দোকান বরাদ্দে ‘মহাযাদু’!
- আপডেট সময় : ০৫:৫৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৭৬ বার পড়া হয়েছে

হকারের কপালে জামানতের তালা, ফটোসাংবাদিকের ভাগ্যে দুই দোকনের ‘বিশেষ প্যাকেজ’!
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের কেডিসি সংলগ্ন এলাকায় ১৫টি দোকান বরাদ্দকে ঘিরে যেন শুরু হয়েছে নতুন এক ‘মহাযাদু’! দীর্ঘদিনের হকারদের হাতে দোকানের চাবি ওঠার আগেই কপালে পড়ছে ২০ হাজার টাকার জামানতের তালা। অথচ অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ হকার যখন একটি দোকানের জন্য হাপিত্যেশ করছেন, তখন দুটি দোকান একত্র করে একজন ফটোসাংবাদিককে দোকান করে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে চলছে নানা কানাঘুষা।
নিয়ম অনুযায়ী দোকানপ্রতি জামানত ২০ হাজার টাকা এবং মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৫০০ টাকা। হকারদের অনেকের প্রশ্ন,আমরাই যদি দোকানের দাবিদার হই, তাহলে এমন শর্ত কেন, যা পূরণ করতেই আমাদের হিমশিম খেতে হয়?কিন্তু বরাদ্দের অঙ্কে যেন অন্য গণিত!
হকারের পকেট,২০ হাজার টাকাই কঠিন আর বিশেষ বরাদ্দের অঙ্ক, দুই দোকান এক করে একটি!তাহলে কি কেডিসির দোকান বরাদ্দে নতুন কোনো ‘বিশেষ কোটা’ চালু হয়েছে? নাকি পরিচিতি, প্রভাব আর পেশাগত পরিচয়ের জন্য রয়েছে আলাদা কোনো ‘মহাযাদুর ফর্মুলা’?
স্থানীয়দের মধ্যে এমন প্রশ্নও ঘুরছে,পুনর্বাসনের দোকান যদি প্রকৃত হকারের জন্য হয়, তাহলে ফটোসাংবাদিকের ভাগ্যে দুই দোকনের গল্প আসে কীভাবে?এদিকে দোকানগুলোর জায়গা নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, জায়গাটি বিএডিসির এবং সেখানে নিয়মিত ট্রাক চলাচল করে; ফুটপাত না থাকার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এ নিয়ে বিএডিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রশাসকের বাকবিতণ্ডার কথাও সামনে এসেছে।
অর্থাৎ জায়গা কার,তা নিয়ে প্রশ্ন, ফুটপাত আছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন, ট্রাক চলাচল নিয়েও প্রশ্ন; তার ওপর আবার দোকান বরাদ্দের হিসাবেও প্রশ্ন!প্রশ্ন যেন দোকানের চেয়েও বেশি!এরই মধ্যে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, কয়েকটি দোকান বিএনপি নেতাদের দখলে রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। বরাদ্দের তালিকা, নথিপত্র, দখলের প্রকৃত অবস্থা এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।
তবে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নটি সেই ফটোসাংবাদিককে ঘিরেই,দুটি দোকান একত্র করে তাকে দোকান দেওয়ার অভিযোগটি সত্য হলে, সেটি কোন নীতির ভিত্তিতে?
হকারের জন্য দোকান,কিন্তু হকারের সামর্থ্য নেই।
ফটোসাংবাদিকের জন্য দোকান,কিন্তু সেখানে আবার দুই দোকনের ‘সমন্বয়’!এটা কি পুনর্বাসন, নাকি ‘যার প্রভাব বেশি, তার দোকান বেশি’ ধরনের কোনো নতুন মডেল?
এখন কৌতূহল তো থেকেই যায়,১৫টি দোকানের চাবি কার হাতে উঠছে, আর কার হাতে উঠছে শুধু আশ্বাস?বরাদ্দের নথি, দোকানপ্রাপ্তদের তালিকা এবং দুই দোকান একত্র করে ফটোসাংবাদিককে দোকান দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যসহ পরবর্তী প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
দোকান ১৫টি, কিন্তু ‘মহাযাদু’র গল্প অনেক!হকারের হাতে চাবি উঠবে কবে,নাকি চাবিটাও যাবে ‘বিশেষ বরাদ্দে’?












