০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সম্পত্তি লিখে নিতে মৃত বাবার আঙুলের ছাপ নিলেন ছেলে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি রাবির অধ্যাপক বরখাস্ত  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর খুব শিগগিরই হওয়া উচিত: দীনেশ ত্রিবেদী অবৈধভাবে লিবিয়া প্রবেশ সাগরে প্রাণ গেল ১১ বাংলাদেশির দেশে অনেক বিভ্রান্ত রটনাকারী আছে এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী বিধবার নাবালিকা মেয়েকে ‘আটকে রাখার’ অভিযোগ, ফ্ল্যাটে তালা ভেঙে টাকা-স্বর্ণ লুটের দাবি! ভোলায় রূপালী মৎস্য খামারের টানা দ্বিতীয়বার প্রথম স্থান অর্জন! রাঙ্গামাটিতে দুর্যোগকবলিত ১৪ শত পরিবারকে জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা। সাংবাদিক মোরশেদ আলী মারুফকে নাজেহালের পেছনে নারী প্রতারক চক্র, ফুঁসে উঠেছে সাংবাদিক সমাজ বানারীপাড়ায় ইন্টারনেট বিলের অর্থ নিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদককে ঘিরে প্রশ্ন!

ছাত্রীকে যৌন হয়রানি রাবির অধ্যাপক বরখাস্ত 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যৌন হয়রানির দায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকারকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী গত সিন্ডিকেট সভায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে অধ্যাপক প্রভাষ কুমার দাবি করেছেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় তাকে যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। তদন্তে আমার প্রতিনিধি দেওয়ার জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। একতরফাভাবে ষড়যন্ত্র করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার পাইনি।

এদিকে প্রভাষ কুমারের অভিযোগ অস্বীকার করে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অ্যাকাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটি দুটি তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে তার একজন প্রতিনিধি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি দেননি। তিনি বিভিন্ন সময়ে লিখিতভাবে তার বক্তব্য পাঠিয়েছেন। উচ্চতর কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তার শাস্তির অনুমোদন দিয়েছে।

গত বছর ৪ অাগস্ট অধ্যাপক প্রভাষ কুমারের বিরুদ্ধে নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে চেম্বারে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে গত বছরের ১৩ আগস্ট বিভাগের সভাপতির লিখিত অভিযোগ দেন ওই শিক্ষার্থীর মা। অভিযোগ তদন্তে বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধিকতর তদন্ত করে।

এছাড়া বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক প্রভাষ কুমারকে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ছাত্রীকে যৌন হয়রানি রাবির অধ্যাপক বরখাস্ত 

আপডেট সময় : ০৩:৪২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

যৌন হয়রানির দায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকারকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী গত সিন্ডিকেট সভায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে অধ্যাপক প্রভাষ কুমার দাবি করেছেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় তাকে যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। তদন্তে আমার প্রতিনিধি দেওয়ার জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। একতরফাভাবে ষড়যন্ত্র করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার পাইনি।

এদিকে প্রভাষ কুমারের অভিযোগ অস্বীকার করে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অ্যাকাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটি দুটি তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে তার একজন প্রতিনিধি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি দেননি। তিনি বিভিন্ন সময়ে লিখিতভাবে তার বক্তব্য পাঠিয়েছেন। উচ্চতর কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তার শাস্তির অনুমোদন দিয়েছে।

গত বছর ৪ অাগস্ট অধ্যাপক প্রভাষ কুমারের বিরুদ্ধে নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে চেম্বারে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে গত বছরের ১৩ আগস্ট বিভাগের সভাপতির লিখিত অভিযোগ দেন ওই শিক্ষার্থীর মা। অভিযোগ তদন্তে বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধিকতর তদন্ত করে।

এছাড়া বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক প্রভাষ কুমারকে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।