সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশাল জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: নূরুল ইসলাম এখন নতুন আশ্রয়ের খোঁজে বিএনপিতে বরিশালে গাঁজা রফিক-নাককাটা রুবেল’ সিন্ডিকেটের ত্রাস-সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, মাদক-অস্ত্রের ভয়াল সাম্রাজ্য ফাঁস! গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নিয়ে অপপ্রচারের ঝড়!কাজ করছেন প্রশাসক শওকত, তবু কেন এই বিষোদগার? কদমতলীতে ফুল কুড়ি থিয়েটারের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল! মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা, মাসাসের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ভোলার লালমোহনে রিপোর্টার্স ইউনিটি দখল করে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয় বরিশাল-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের পক্ষে ১১০ স্থানে গণমিছিল! শুক্রবার মেহেন্দিগঞ্জ যাচ্ছেন জামায়াত আমির, দাঁড়িপাল্লা সমর্থকদের উচ্ছাস মেহেন্দিগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশস্থলে সাটানো হয়েছে ধানের শীষের ফেষ্টুন ব্যানার! বরিশালে দাঁড়িপাল্লার নারী সমর্থকদের হেনস্তা, থানায় অভিযোগ।

বরিশাল জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: নূরুল ইসলাম এখন নতুন আশ্রয়ের খোঁজে বিএনপিতে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশাল জেলা স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক জনাব নূরুল ইসলাম এখন বিএনপি সেজে ক্ষমতাসীন দল বিএনপিতে আশ্রয় নেয়ার জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। ২০০৫ সালে জামাত কোটায় চাকরি পাওয়ার পর আওয়ামীলীগের পুরো সময়ে আওয়ামীলীগ সেজে নানা রকম অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন এর এখন বিএনপির এমপিদের সাথে ছবি তুলে বিএনপি সেজে সকলকে ধোকা দেয়ার চেষ্টা করছেন।

 

​চাকরী শুরূ থেকেই তিনি নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছেন। ঝালকাঠী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরীকালীন সময়ে নারীসহ হোটেলে ধরা পড়েছেন। শাস্তিমূলকভাবে বরগুনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে বদলী করা হলে সেখানেও তিনি নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়লে তাকে মাদারীপুরে বদলী করা হয় এবং রাতের আধারে পালিয়ে তিনি মাদারীপুর ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই নতুনভাবে দুর্নীতি শুরু করেন। তিনি আওয়ামীলীগ সেজে তৎকালীন মন্ত্রী শাহজাহান খানকে ম্যানেজ করে কোন প্রকার হাউজরেন্ট না কেটেই বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে বসবাস করতে থাকেন। মন্ত্রীর জোর দেখিয়ে ডিজির নমিনি হিসেবে লক্ষ লক্ষ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেন। এমন কি ক্ষমতার জোরে ছুটি ও অনুমতি না নিয়েই মন্ত্রীর পরিবারের সাথে হজ করেন।

 

​এই ধুর্ত জামাত আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ২০২৩ বরিশাল জেলা স্কুলে বদলি হয়ে এসে নতুনভাবে ক্ষমতা দেখাতে শুরু করেন। তিনি কখনো তৎকালীন মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর লোক আবার কখনো তৎকালীন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের লোক সেজে নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রকার দুর্নীতি শুরু করেন। তিনি মিথ্যা ভাউচার ও একই ভাউচার একাধিকবার দিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফান্ড থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। তিনি বিনা টেন্ডারে বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি করেও টাকা আত্মসাৎ করেন। এ সময় তিনি তৎকালীন আইসিটি মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে বিদ্যালয়ে এনে রাজনৈতিক ক্ষমতা জাহির করার চেষ্টা করেন এবং তার বিরোধিতা করলে শিক্ষকদের অঞ্চল ছাড়া করার ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। তার বিভিন্ন দুর্নীতির কারণে ২০২৩ সালে তাকে ঝালকাঠী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে বদলি করা হলে তিনি সেখানে গিয়েও লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন।

 

​তার আসল পরিচয় প্রকাশ পায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর। তিনি জামাতের প্রভাব খাটিয়ে ২০২৪ সালে বরিশাল জেলা স্কুলে বদলি হয়ে স্থানীয় জামাত নেতাদের সাথে নিয়ে যোগদান করেন এবং জামাত বাদে অন্যান্য শিক্ষকদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন। তিনি অল্প দিনের মধ্যেই প্রভাতী শাখার ধর্মীয় শিক্ষক জামাতের প্রত্যক্ষ কর্মী রফিকুজ্জানের মাধ্যমে বরিশাল জেলা স্কুলকে জামাতের ঘাঁটিতে পরিণত করেন। জামাতের ছাত্র সংগঠন ফুলকুঁড়ি, কিশোর কণ্ঠকে বিভিন্ন ক্লাসে ঘুরে ঘুরে প্রায় নিয়মিত কর্মী সংগ্রহ করার সুযোগ করে দেন। এমনকি তিনি জামাতের কোচিং সেন্টার রেটিনাকে বরিশাল জেলা স্কুলে মডেল টেস্ট নেয়ার সুযোগ করে দেন। এসব নিয়ে তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক শোকজ করলে তিনি জামাত ক্ষমতায় আসবে ভেবে আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন।

 

​তিনি স্কুলের এমএলএসএস সৈয়দ কবির হোসেনকে শুধু বিএনপি করার অপরাধে নানাভাবে হয়রানি করেন। তার নিজের খরচে মেরামত করা পরিত্যক্ত বাসা থেকে তাকে সরিয়ে প্রত্যক্ষ জামাত কর্মী জেলা স্কুলের মসজিদের মোয়াজ্জেমকে দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি মুখে বলে বেড়ান যে তিনি কখনোই বিএনপির বিরুদ্ধে ছিলেন না। অথচ ২০২১ সালে বিএনপি জেলা স্কুল মাঠে সভার আয়োজন করতে গেলে তিনি অতি আওয়ামী লীগ সেজে বাধা দেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় এ সভা বন্ধ করার জন্য চিঠি দেন।

​তিনি প্রভাতী শাখার ধর্মীয় শিক্ষক জামাতের প্রত্যক্ষ কর্মী রফিকুজ্জানের মাধ্যমে ২০২৩ সালের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রসহ যাবতীয় ছাপার কাজ অংকুর নামক জামাতের সাংগঠনিক ছাপাখানা থেকে ছাপিয়েছেন। ২০২৬ সালের সিলেবাসসহ যাবতীয় ছাপার কাজও জামাতের প্রেস থেকে করেছেন। তিনি কাউকে তোয়াক্কা না করেই পরীক্ষা ফান্ড থেকে ২০২৩ সালের বার্ষিক পরীক্ষার সম্মানী বাবদ ৫৪০০০ টাকা গ্রহণ করেছেন যা একজন সরকারি প্রধান শিক্ষকের প্রাপ্ত টাকার ৪ গুণ আর সাধারণ শিক্ষকদের প্রাপ্ত টাকার ৯ গুণ।

১৯ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি নতুন করে রং বদলাতে শুরু করেন। তিনি বিএনপির নব নির্বাচিত এমপিদের সাথে নানা কৌশলে ছবি তুলে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দিচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে শিক্ষকদের হুমকিধামকি দিচ্ছেন। বরিশালের আঞ্চলিক উপ পরিচালকসহ শিক্ষা প্রশাসনের সবাই জামাতের লোক হওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বরিশাল জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: নূরুল ইসলাম এখন নতুন আশ্রয়ের খোঁজে বিএনপিতে

আপডেট সময় : ১২:০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশাল জেলা স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক জনাব নূরুল ইসলাম এখন বিএনপি সেজে ক্ষমতাসীন দল বিএনপিতে আশ্রয় নেয়ার জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। ২০০৫ সালে জামাত কোটায় চাকরি পাওয়ার পর আওয়ামীলীগের পুরো সময়ে আওয়ামীলীগ সেজে নানা রকম অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন এর এখন বিএনপির এমপিদের সাথে ছবি তুলে বিএনপি সেজে সকলকে ধোকা দেয়ার চেষ্টা করছেন।

 

​চাকরী শুরূ থেকেই তিনি নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছেন। ঝালকাঠী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরীকালীন সময়ে নারীসহ হোটেলে ধরা পড়েছেন। শাস্তিমূলকভাবে বরগুনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে বদলী করা হলে সেখানেও তিনি নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়লে তাকে মাদারীপুরে বদলী করা হয় এবং রাতের আধারে পালিয়ে তিনি মাদারীপুর ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই নতুনভাবে দুর্নীতি শুরু করেন। তিনি আওয়ামীলীগ সেজে তৎকালীন মন্ত্রী শাহজাহান খানকে ম্যানেজ করে কোন প্রকার হাউজরেন্ট না কেটেই বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে বসবাস করতে থাকেন। মন্ত্রীর জোর দেখিয়ে ডিজির নমিনি হিসেবে লক্ষ লক্ষ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেন। এমন কি ক্ষমতার জোরে ছুটি ও অনুমতি না নিয়েই মন্ত্রীর পরিবারের সাথে হজ করেন।

 

​এই ধুর্ত জামাত আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ২০২৩ বরিশাল জেলা স্কুলে বদলি হয়ে এসে নতুনভাবে ক্ষমতা দেখাতে শুরু করেন। তিনি কখনো তৎকালীন মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর লোক আবার কখনো তৎকালীন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের লোক সেজে নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রকার দুর্নীতি শুরু করেন। তিনি মিথ্যা ভাউচার ও একই ভাউচার একাধিকবার দিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফান্ড থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। তিনি বিনা টেন্ডারে বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি করেও টাকা আত্মসাৎ করেন। এ সময় তিনি তৎকালীন আইসিটি মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে বিদ্যালয়ে এনে রাজনৈতিক ক্ষমতা জাহির করার চেষ্টা করেন এবং তার বিরোধিতা করলে শিক্ষকদের অঞ্চল ছাড়া করার ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। তার বিভিন্ন দুর্নীতির কারণে ২০২৩ সালে তাকে ঝালকাঠী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে বদলি করা হলে তিনি সেখানে গিয়েও লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন।

 

​তার আসল পরিচয় প্রকাশ পায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর। তিনি জামাতের প্রভাব খাটিয়ে ২০২৪ সালে বরিশাল জেলা স্কুলে বদলি হয়ে স্থানীয় জামাত নেতাদের সাথে নিয়ে যোগদান করেন এবং জামাত বাদে অন্যান্য শিক্ষকদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন। তিনি অল্প দিনের মধ্যেই প্রভাতী শাখার ধর্মীয় শিক্ষক জামাতের প্রত্যক্ষ কর্মী রফিকুজ্জানের মাধ্যমে বরিশাল জেলা স্কুলকে জামাতের ঘাঁটিতে পরিণত করেন। জামাতের ছাত্র সংগঠন ফুলকুঁড়ি, কিশোর কণ্ঠকে বিভিন্ন ক্লাসে ঘুরে ঘুরে প্রায় নিয়মিত কর্মী সংগ্রহ করার সুযোগ করে দেন। এমনকি তিনি জামাতের কোচিং সেন্টার রেটিনাকে বরিশাল জেলা স্কুলে মডেল টেস্ট নেয়ার সুযোগ করে দেন। এসব নিয়ে তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক শোকজ করলে তিনি জামাত ক্ষমতায় আসবে ভেবে আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন।

 

​তিনি স্কুলের এমএলএসএস সৈয়দ কবির হোসেনকে শুধু বিএনপি করার অপরাধে নানাভাবে হয়রানি করেন। তার নিজের খরচে মেরামত করা পরিত্যক্ত বাসা থেকে তাকে সরিয়ে প্রত্যক্ষ জামাত কর্মী জেলা স্কুলের মসজিদের মোয়াজ্জেমকে দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি মুখে বলে বেড়ান যে তিনি কখনোই বিএনপির বিরুদ্ধে ছিলেন না। অথচ ২০২১ সালে বিএনপি জেলা স্কুল মাঠে সভার আয়োজন করতে গেলে তিনি অতি আওয়ামী লীগ সেজে বাধা দেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় এ সভা বন্ধ করার জন্য চিঠি দেন।

​তিনি প্রভাতী শাখার ধর্মীয় শিক্ষক জামাতের প্রত্যক্ষ কর্মী রফিকুজ্জানের মাধ্যমে ২০২৩ সালের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রসহ যাবতীয় ছাপার কাজ অংকুর নামক জামাতের সাংগঠনিক ছাপাখানা থেকে ছাপিয়েছেন। ২০২৬ সালের সিলেবাসসহ যাবতীয় ছাপার কাজও জামাতের প্রেস থেকে করেছেন। তিনি কাউকে তোয়াক্কা না করেই পরীক্ষা ফান্ড থেকে ২০২৩ সালের বার্ষিক পরীক্ষার সম্মানী বাবদ ৫৪০০০ টাকা গ্রহণ করেছেন যা একজন সরকারি প্রধান শিক্ষকের প্রাপ্ত টাকার ৪ গুণ আর সাধারণ শিক্ষকদের প্রাপ্ত টাকার ৯ গুণ।

১৯ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি নতুন করে রং বদলাতে শুরু করেন। তিনি বিএনপির নব নির্বাচিত এমপিদের সাথে নানা কৌশলে ছবি তুলে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দিচ্ছেন এবং প্রকাশ্যে শিক্ষকদের হুমকিধামকি দিচ্ছেন। বরিশালের আঞ্চলিক উপ পরিচালকসহ শিক্ষা প্রশাসনের সবাই জামাতের লোক হওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।