০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জনপ্রিয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এম শাহীনের ঈদ শুভেচ্ছা ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জনপ্রিয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এম সাইফুল ইসলাম শাহীনের ঈদ শুভেচ্ছা বরিশাল গণপূর্ত নিয়ে মনগড়া প্রতিবেদন ঘিরে প্রশ্নের ঝড়- ভুল তথ্য, ভুল নাম আর অপ্রমাণিত অভিযোগে বিতর্ক! দুর্নীতির অপ্রতিরোধ্য রথে রাজউক? ইমারত পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ! বরিশালে এলজিইডির অদৃশ্য সুপার পাওয়ার? বদলি-পদায়ন থেকে প্রশাসন,সবখানেই রহমত-ই-খুদার ছায়া! গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ- তদন্তের দাবি! অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বদলির পর আবারও ঢাকায় প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, উঠছে নানা প্রশ্ন! তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ও বর্তমান স্বামীর বিরুদ্ধে গুম-খুনের চেষ্টার অভিযোগ,সংবাদ সম্মেলনে প্রথম স্বামী! পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব সহকারী মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ জুলাই আন্দোলনের মামলা, নাকি পরিকল্পিত চরিত্রহনন? মালয়েশিয়ান তরুণী গৌরনদীতে : ধুমধামে বিয়ে ও বৌ-ভাত সম্পন্ন নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা! ঘাতক স্বামী পলাতক, এলাকায় শোক ও আতঙ্ক।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ১৯৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক গৃহবধূ, তাঁর তিন শিশু সন্তান এবং ছোট ভাই। শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিহতরা হলেন,শারমিন আক্তার (৩০), তাঁর বড় মেয়ে মীম (১৫), মেজ মেয়ে মারিয়া (৮), ছোট ছেলে ফরিদ (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)। শারমিন স্থানীয় শাহাদত মোল্লার মেয়ে। তাঁর স্বামী ফোরকান মিয়া পেশায় প্রাইভেটকার চালক এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাঁকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় প্রায় এক বছর ধরে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। শনিবার সকালে ঘরের ভেতর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত বিভৎস ও মর্মান্তিক। তিন শিশুর গলাকাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর। আর মা শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় নিথর দেহ পড়ে ছিল জানালার পাশে। পুরো ঘরজুড়ে ছিল রক্তের ছাপ, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান,প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া নিজেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।এদিকে, একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় কাপাসিয়াজুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ঘাতককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা! ঘাতক স্বামী পলাতক, এলাকায় শোক ও আতঙ্ক।

আপডেট সময় : ১২:০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক গৃহবধূ, তাঁর তিন শিশু সন্তান এবং ছোট ভাই। শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিহতরা হলেন,শারমিন আক্তার (৩০), তাঁর বড় মেয়ে মীম (১৫), মেজ মেয়ে মারিয়া (৮), ছোট ছেলে ফরিদ (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)। শারমিন স্থানীয় শাহাদত মোল্লার মেয়ে। তাঁর স্বামী ফোরকান মিয়া পেশায় প্রাইভেটকার চালক এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাঁকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় প্রায় এক বছর ধরে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। শনিবার সকালে ঘরের ভেতর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত বিভৎস ও মর্মান্তিক। তিন শিশুর গলাকাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর। আর মা শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় নিথর দেহ পড়ে ছিল জানালার পাশে। পুরো ঘরজুড়ে ছিল রক্তের ছাপ, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান,প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া নিজেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।এদিকে, একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় কাপাসিয়াজুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ঘাতককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।