সংবাদ শিরোনাম ::
অভয়নগরে পুলিশের হাতকড়া নিয়ে চম্পট মাদকসেবী,ওসির দাবি-কিছু জানি না! কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা! ঘাতক স্বামী পলাতক, এলাকায় শোক ও আতঙ্ক। ড্রাইভার ও পরিবহন শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম। কলম থামাতেই কি গায়েবি মামলা? মাগুরায় সাংবাদিককে সিআইডি তলব ঘিরে তোলপাড়! বাকেরগঞ্জের বিতর্কিত বহিষ্কৃত নেতা সেই কুদ্দুস আবারও আলোচনায়। জনগণকে দেওয়া ওয়াদা পালনে কাজ করছে বর্তমান সরকার- এমপি খোকন তালুকদার বরিশাল জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: নূরুল ইসলাম এখন নতুন আশ্রয়ের খোঁজে বিএনপিতে বরিশালে গাঁজা রফিক-নাককাটা রুবেল’ সিন্ডিকেটের ত্রাস-সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, মাদক-অস্ত্রের ভয়াল সাম্রাজ্য ফাঁস! গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নিয়ে অপপ্রচারের ঝড়!কাজ করছেন প্রশাসক শওকত, তবু কেন এই বিষোদগার? কদমতলীতে ফুল কুড়ি থিয়েটারের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল!

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা! ঘাতক স্বামী পলাতক, এলাকায় শোক ও আতঙ্ক।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক গৃহবধূ, তাঁর তিন শিশু সন্তান এবং ছোট ভাই। শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিহতরা হলেন,শারমিন আক্তার (৩০), তাঁর বড় মেয়ে মীম (১৫), মেজ মেয়ে মারিয়া (৮), ছোট ছেলে ফরিদ (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)। শারমিন স্থানীয় শাহাদত মোল্লার মেয়ে। তাঁর স্বামী ফোরকান মিয়া পেশায় প্রাইভেটকার চালক এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাঁকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় প্রায় এক বছর ধরে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। শনিবার সকালে ঘরের ভেতর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত বিভৎস ও মর্মান্তিক। তিন শিশুর গলাকাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর। আর মা শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় নিথর দেহ পড়ে ছিল জানালার পাশে। পুরো ঘরজুড়ে ছিল রক্তের ছাপ, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান,প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া নিজেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।এদিকে, একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় কাপাসিয়াজুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ঘাতককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা! ঘাতক স্বামী পলাতক, এলাকায় শোক ও আতঙ্ক।

আপডেট সময় : ১২:০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক গৃহবধূ, তাঁর তিন শিশু সন্তান এবং ছোট ভাই। শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিহতরা হলেন,শারমিন আক্তার (৩০), তাঁর বড় মেয়ে মীম (১৫), মেজ মেয়ে মারিয়া (৮), ছোট ছেলে ফরিদ (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)। শারমিন স্থানীয় শাহাদত মোল্লার মেয়ে। তাঁর স্বামী ফোরকান মিয়া পেশায় প্রাইভেটকার চালক এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাঁকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় প্রায় এক বছর ধরে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। শনিবার সকালে ঘরের ভেতর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত বিভৎস ও মর্মান্তিক। তিন শিশুর গলাকাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর। আর মা শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় নিথর দেহ পড়ে ছিল জানালার পাশে। পুরো ঘরজুড়ে ছিল রক্তের ছাপ, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান,প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া নিজেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।এদিকে, একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় কাপাসিয়াজুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ঘাতককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।