০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে সওজের কম্পিউটার অপারেটর ফারুককে ঘিরে সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন, একাধিক জমি-ভবনের তথ্য সামনে জনগণই আন্দোলনই ক্ষমতার চাবিকাঠি- বাংলাদেশি রাজনীতির নতুন পাঠ! নেত্রকোনায় সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জেজেইউ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ ঠিকাদারি কাজ, কথিত কমিশন ও সাংবাদিকদের ভূমিকা! বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলে কারা প্রভাব বিস্তার করছে? নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়নে ‘লটারি’ নিয়ে প্রশ্ন! স্বজনপ্রীতি, গ্রুপিং ও ঘুষের অভিযোগ,নীরব কেন কর্তৃপক্ষ? বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে আইনজীবীর ওপর হামলা! ভূমিদস্যু ও ফ্যাসিস্ট নিকুঞ্জ বালা পলাশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন! প্রতারণার মামলায় কর পরিদর্শক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কারখানার প্রবেশপথ বন্ধের অভিযোগ, ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি! জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে জেজেইউর তীব্র নিন্দা! সর্বস্তরে ইসলামের আদর্শের দাওয়াত পৌঁছানোর আহ্বান মুয়াযযম হোসাইন হেলালের!

বরিশালে সওজের কম্পিউটার অপারেটর ফারুককে ঘিরে সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন, একাধিক জমি-ভবনের তথ্য সামনে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নতুন বাজারে তিনতলা ভবন, ওসমান খান সড়কে ‘লতিফ ভিলা’, ফিসারি রোডে কোটি টাকার জমির দাবি,সম্পত্তির মালিকানা, অর্থের উৎস ও আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের দাবি!

 

 

বরিশাল প্রতিনিধি।।বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমি ও ভবনের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) সার্কেল মেকানিক্যাল অফিসের কম্পিউটার অপারেটর ফারুককে ঘিরে। নতুন বাজার, বগুড়া আলেকান্দা মৌজার ওসমান খান সড়ক এবং ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফিসারি রোড এলাকায় তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা একাধিক মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তির তথ্য সামনে এসেছে। পাশাপাশি ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকরি এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তি থাকার তথ্যও দেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত বিবরণে উল্লিখিত জমি ও ভবনের আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এসব সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের সময়, দলিলমূল্য, নির্মাণব্যয় এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথিপত্র এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি ঘিরে মূল প্রশ্ন,সম্পদের পরিমাণ কত, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এসব সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধ আয় ও আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে তার সামঞ্জস্য রয়েছে কি না।

 

অভিযোগ ও তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে ভূমি রেকর্ড, দলিল, নির্মাণসংক্রান্ত নথি, আয়কর বিবরণী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার পক্ষের ব্যক্তিরা।

 

নতুন বাজারে তিনতলা ভবন-জমির দামই প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা?

 

তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল নগরীর নতুন বাজার শঙ্কর মাঠের বিপরীতে একটি পেট্রোল পাম্পের পেছনে প্রায় আট শতাংশ জমির ওপর তিনতলা একটি ভবন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

স্থানীয় বাজারদরের ভিত্তিতে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ওই এলাকায় প্রতি শতাংশ জমির আনুমানিক মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে আট শতাংশ জমির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখ থেকে দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা।

 

এর সঙ্গে ভবনটির নির্মাণব্যয় দুই কোটি টাকার বেশি এবং আসবাবপত্রের মূল্য ৫০ লাখ টাকার বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। এসব হিসাব সঠিক হলে জমি, ভবন ও আসবাবপত্র মিলিয়ে সম্পত্তিটির আনুমানিক মূল্য পাঁচ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে।

 

তবে এখানে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি। জমিটির প্রকৃত পরিমাণ কত? দলিলে কার নাম রয়েছে? ভবন নির্মাণে প্রকৃত ব্যয় কত হয়েছে? আসবাবপত্রের মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি কী? আর সম্পত্তিটির সঙ্গে ফারুকের সম্পর্ক বা মালিকানার দাবির পক্ষে কী ধরনের নথি রয়েছে?

 

 

 

বাজারদরের অনুমানকে চূড়ান্ত সম্পদমূল্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর মিলতে পারে দলিল, ভূমি রেকর্ড, নির্মাণব্যয়ের হিসাব এবং মালিকানাসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে।

 

ওসমান খান সড়কে ‘লতিফ ভিলা’- জমি ও নির্মাণব্যয় নিয়ে যাচাই প্রয়োজন!

 

বরিশাল নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বগুড়া আলেকান্দা মৌজার ওসমান খান সড়কে ‘লতিফ ভিলা’ নামে আরেকটি ভবনের তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত বিবরণে বলা হয়েছে, ভবনটির তিনতলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং চতুর্থ তলার নির্মাণকাজ চলছে। জমির পরিমাণ আনুমানিক আট থেকে দশ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ৩৫ লাখ টাকা ধরে হিসাব করলে জমিটির আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় দুই কোটি ৮০ লাখ থেকে তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ভবন নির্মাণে দুই কোটি টাকার বেশি ব্যয় এবং আসবাবপত্রের আনুমানিক এক কোটি টাকা যোগ করলে সম্পত্তিটির মোট মূল্য আরও বেশি হতে পারে।

 

কিন্তু এই হিসাবের প্রতিটি উপাদানই যাচাইসাপেক্ষ। জমির প্রকৃত পরিমাণ, অবস্থানভেদে বাজারদর, ভবনের আয়তন, নির্মাণের মান এবং আসবাবপত্রের মূল্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য নথি ছাড়া চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ সম্ভব নয়।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘লতিফ ভিলা’র প্রকৃত মালিক কে, কখন জমি কেনা হয়েছে, ভবন নির্মাণে অর্থের জোগান কোথা থেকে এসেছে এবং সম্পত্তিটির সঙ্গে ফারুকের আইনগত বা আর্থিক সম্পর্ক কী,এসব প্রশ্নের নথিভিত্তিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

 

ফিসারি রোডে ১২–১৫ শতাংশ জমি! আনুমানিক মূল্য সাড়ে চার কোটি টাকা পর্যন্ত!

নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফিসারি রোডের প্রথম লেনে ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ জমি থাকার তথ্যও দেওয়া হয়েছে।প্রতি শতাংশ জমির আনুমানিক মূল্য ২৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা ধরে হিসাব করলে ১২ শতাংশ জমির মূল্য দাঁড়ায় তিন কোটি ৩৬ লাখ থেকে তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর ১৫ শতাংশ জমির ক্ষেত্রে আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় চার কোটি ২০ লাখ থেকে চার কোটি ৫০ লাখ টাকা।

অর্থাৎ প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, শুধু এই জমির সম্ভাব্য বাজারমূল্যই কয়েক কোটি টাকা হতে পারে।

তবে জমিটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান, পরিমাণ, দাগ-খতিয়ান, দলিল এবং প্রকৃত মালিকানা যাচাই করা হয়নি। জমিটি ফারুকের নিজের নামে, নাকি অন্য কারও নামে,এমনকি তাঁর সঙ্গে সম্পত্তিটির সম্পর্ক কী, সেটিও নথি দিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ভান্ডারিয়ার ইকরি এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তির তথ্য!

 

বরিশাল নগরীর বাইরেও ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকরি এলাকায় ফারুকের স্ত্রী, শ্যালিকা ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নামে সম্পত্তি থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে।

 

তবে এসব সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট অবস্থান, জমির পরিমাণ, দলিল, ক্রয়ের সময়, মূল্য এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পত্তিগুলোর প্রকৃত মূল্য বা মালিকানা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

 

পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তি থাকা নিজে থেকেই অনিয়মের প্রমাণ নয়। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যদি সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস বা অর্থায়নের ধরন নিয়ে অসংগতি দেখা যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

 

সম্পদের হিসাব নয়, বড় প্রশ্ন অর্থের উৎস ও বৈধতা!

 

প্রাপ্ত বিবরণে উল্লিখিত জমি ও ভবনের মূল্যসংক্রান্ত দাবিগুলো সত্য হলে সেগুলো উল্লেখযোগ্য সম্পদের ইঙ্গিত দিতে পারে। কিন্তু অনুমাননির্ভর বাজারমূল্য যোগ করে কারও মোট সম্পদ নির্ধারণ করা কিংবা শুধু সম্পদের পরিমাণ দেখে অনিয়মের সিদ্ধান্ত টানা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এখানে অনুসন্ধানের মূল বিষয় হওয়া উচিত,সম্পত্তিগুলো কবে কেনা হয়েছে, দলিলে কত মূল্য দেখানো হয়েছে, জমি ও ভবন নির্মাণে প্রকৃত ব্যয় কত, অর্থের উৎস কী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধ আয় ও আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে এসব ব্যয়ের কোনো অসংগতি রয়েছে কি না।

প্রয়োজনে যাচাই করা যেতে পারে আয়কর বিবরণী, ব্যাংক লেনদেন, ঋণের নথি, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদের কাগজপত্র এবং সম্পত্তি ক্রয় ও নির্মাণের সময়কার আর্থিক নথি। তবে এসব তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করতে হবে আইনসম্মত পদ্ধতিতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জবাব দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে।

একই সঙ্গে সওজের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া যেতে পারে, ফারুকের পদ, চাকরিতে যোগদানের সময়, প্রযোজ্য বেতন-ভাতা এবং সম্পত্তিসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ বা দাপ্তরিক অনুসন্ধান রয়েছে কি না। অভিযোগের ভিত্তি ও প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী তদন্তের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।

 

বক্তব্য চাইতে যোগাযোগ, অফিসে গিয়েও মেলেনি ব্যাখ্যা!

 

সম্পত্তিসংক্রান্ত তথ্য ও উত্থাপিত প্রশ্নের বিষয়ে ফারুকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপেও প্রশ্ন লিখে পাঠিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদকের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বার্তা দেখার পর যোগাযোগের মাধ্যমটি ব্লক করে দেওয়া হয়। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিকেরা সওজের সার্কেল মেকানিক্যাল অফিসে গেলে ফারুক তাঁদের দেখে সেখান থেকে চলে যান বলে প্রতিবেদকের দেওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে। ওই সময় তাঁকে পাওয়া না যাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। একই কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক বক্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি।

তবে ফারুকের বক্তব্য পাওয়া না যাওয়াকে অভিযোগের সত্যতা সন্দেহজনক। সম্পত্তির মালিকানা, অর্থের উৎস ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্যও পাওয়া গেলে তা প্রকাশের সুযোগ থাকবে।

 

নতুন বাজারের তিনতলা ভবন, ‘লতিফ ভিলা’ এবং ফিসারি রোডের জমির প্রকৃত মালিক কারা?এসব সম্পত্তি কখন কেনা হয়েছে এবং নিবন্ধিত দলিলে কী মূল্য উল্লেখ রয়েছে?জমি কেনা, ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য ব্যয়ের অর্থের উৎস কী?সম্পত্তিগুলোর সঙ্গে ফারুকের আইনগত বা আর্থিক সম্পর্কের পক্ষে কী নথি রয়েছে?ভান্ডারিয়ার ইকরি এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পত্তির প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানা ও অর্থায়নের উৎস কী?উত্থাপিত তথ্যের বিষয়ে সওজ কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য, যাচাই বা দাপ্তরিক অনুসন্ধান রয়েছে কি না?

তদন্ত ও নথিভিত্তিক যাচাইয়ের দাবি!

বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে জমি ও ভবনসংক্রান্ত যেসব তথ্য সামনে এসেছে, সেগুলোর সত্যতা নির্ধারণে অনুমান বা জনশ্রুতির পরিবর্তে নথিভিত্তিক অনুসন্ধান জরুরি। সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দলিল, ভূমি রেকর্ড, নির্মাণব্যয়ের হিসাব এবং প্রযোজ্য আর্থিক নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

প্রকাশিত তথ্য ও মূল্যসংক্রান্ত হিসাবগুলো এখনো স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ যাচাই করা হয়নি। ফারুকের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে,এমন তথ্যও এই প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত নয়। তাঁর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বরিশালে সওজের কম্পিউটার অপারেটর ফারুককে ঘিরে সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন, একাধিক জমি-ভবনের তথ্য সামনে

আপডেট সময় : ০৮:১২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

 

নতুন বাজারে তিনতলা ভবন, ওসমান খান সড়কে ‘লতিফ ভিলা’, ফিসারি রোডে কোটি টাকার জমির দাবি,সম্পত্তির মালিকানা, অর্থের উৎস ও আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের দাবি!

 

 

বরিশাল প্রতিনিধি।।বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমি ও ভবনের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) সার্কেল মেকানিক্যাল অফিসের কম্পিউটার অপারেটর ফারুককে ঘিরে। নতুন বাজার, বগুড়া আলেকান্দা মৌজার ওসমান খান সড়ক এবং ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফিসারি রোড এলাকায় তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা একাধিক মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তির তথ্য সামনে এসেছে। পাশাপাশি ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকরি এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তি থাকার তথ্যও দেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত বিবরণে উল্লিখিত জমি ও ভবনের আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এসব সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের সময়, দলিলমূল্য, নির্মাণব্যয় এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথিপত্র এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি ঘিরে মূল প্রশ্ন,সম্পদের পরিমাণ কত, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এসব সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধ আয় ও আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে তার সামঞ্জস্য রয়েছে কি না।

 

অভিযোগ ও তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে ভূমি রেকর্ড, দলিল, নির্মাণসংক্রান্ত নথি, আয়কর বিবরণী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার পক্ষের ব্যক্তিরা।

 

নতুন বাজারে তিনতলা ভবন-জমির দামই প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা?

 

তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল নগরীর নতুন বাজার শঙ্কর মাঠের বিপরীতে একটি পেট্রোল পাম্পের পেছনে প্রায় আট শতাংশ জমির ওপর তিনতলা একটি ভবন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

স্থানীয় বাজারদরের ভিত্তিতে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ওই এলাকায় প্রতি শতাংশ জমির আনুমানিক মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে আট শতাংশ জমির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখ থেকে দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা।

 

এর সঙ্গে ভবনটির নির্মাণব্যয় দুই কোটি টাকার বেশি এবং আসবাবপত্রের মূল্য ৫০ লাখ টাকার বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। এসব হিসাব সঠিক হলে জমি, ভবন ও আসবাবপত্র মিলিয়ে সম্পত্তিটির আনুমানিক মূল্য পাঁচ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে।

 

তবে এখানে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি। জমিটির প্রকৃত পরিমাণ কত? দলিলে কার নাম রয়েছে? ভবন নির্মাণে প্রকৃত ব্যয় কত হয়েছে? আসবাবপত্রের মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি কী? আর সম্পত্তিটির সঙ্গে ফারুকের সম্পর্ক বা মালিকানার দাবির পক্ষে কী ধরনের নথি রয়েছে?

 

 

 

বাজারদরের অনুমানকে চূড়ান্ত সম্পদমূল্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর মিলতে পারে দলিল, ভূমি রেকর্ড, নির্মাণব্যয়ের হিসাব এবং মালিকানাসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে।

 

ওসমান খান সড়কে ‘লতিফ ভিলা’- জমি ও নির্মাণব্যয় নিয়ে যাচাই প্রয়োজন!

 

বরিশাল নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বগুড়া আলেকান্দা মৌজার ওসমান খান সড়কে ‘লতিফ ভিলা’ নামে আরেকটি ভবনের তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত বিবরণে বলা হয়েছে, ভবনটির তিনতলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং চতুর্থ তলার নির্মাণকাজ চলছে। জমির পরিমাণ আনুমানিক আট থেকে দশ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ৩৫ লাখ টাকা ধরে হিসাব করলে জমিটির আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় দুই কোটি ৮০ লাখ থেকে তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ভবন নির্মাণে দুই কোটি টাকার বেশি ব্যয় এবং আসবাবপত্রের আনুমানিক এক কোটি টাকা যোগ করলে সম্পত্তিটির মোট মূল্য আরও বেশি হতে পারে।

 

কিন্তু এই হিসাবের প্রতিটি উপাদানই যাচাইসাপেক্ষ। জমির প্রকৃত পরিমাণ, অবস্থানভেদে বাজারদর, ভবনের আয়তন, নির্মাণের মান এবং আসবাবপত্রের মূল্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য নথি ছাড়া চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ সম্ভব নয়।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘লতিফ ভিলা’র প্রকৃত মালিক কে, কখন জমি কেনা হয়েছে, ভবন নির্মাণে অর্থের জোগান কোথা থেকে এসেছে এবং সম্পত্তিটির সঙ্গে ফারুকের আইনগত বা আর্থিক সম্পর্ক কী,এসব প্রশ্নের নথিভিত্তিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

 

ফিসারি রোডে ১২–১৫ শতাংশ জমি! আনুমানিক মূল্য সাড়ে চার কোটি টাকা পর্যন্ত!

নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফিসারি রোডের প্রথম লেনে ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ জমি থাকার তথ্যও দেওয়া হয়েছে।প্রতি শতাংশ জমির আনুমানিক মূল্য ২৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা ধরে হিসাব করলে ১২ শতাংশ জমির মূল্য দাঁড়ায় তিন কোটি ৩৬ লাখ থেকে তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর ১৫ শতাংশ জমির ক্ষেত্রে আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় চার কোটি ২০ লাখ থেকে চার কোটি ৫০ লাখ টাকা।

অর্থাৎ প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, শুধু এই জমির সম্ভাব্য বাজারমূল্যই কয়েক কোটি টাকা হতে পারে।

তবে জমিটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান, পরিমাণ, দাগ-খতিয়ান, দলিল এবং প্রকৃত মালিকানা যাচাই করা হয়নি। জমিটি ফারুকের নিজের নামে, নাকি অন্য কারও নামে,এমনকি তাঁর সঙ্গে সম্পত্তিটির সম্পর্ক কী, সেটিও নথি দিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ভান্ডারিয়ার ইকরি এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তির তথ্য!

 

বরিশাল নগরীর বাইরেও ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকরি এলাকায় ফারুকের স্ত্রী, শ্যালিকা ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নামে সম্পত্তি থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছে।

 

তবে এসব সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট অবস্থান, জমির পরিমাণ, দলিল, ক্রয়ের সময়, মূল্য এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পত্তিগুলোর প্রকৃত মূল্য বা মালিকানা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

 

পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তি থাকা নিজে থেকেই অনিয়মের প্রমাণ নয়। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যদি সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস বা অর্থায়নের ধরন নিয়ে অসংগতি দেখা যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

 

সম্পদের হিসাব নয়, বড় প্রশ্ন অর্থের উৎস ও বৈধতা!

 

প্রাপ্ত বিবরণে উল্লিখিত জমি ও ভবনের মূল্যসংক্রান্ত দাবিগুলো সত্য হলে সেগুলো উল্লেখযোগ্য সম্পদের ইঙ্গিত দিতে পারে। কিন্তু অনুমাননির্ভর বাজারমূল্য যোগ করে কারও মোট সম্পদ নির্ধারণ করা কিংবা শুধু সম্পদের পরিমাণ দেখে অনিয়মের সিদ্ধান্ত টানা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এখানে অনুসন্ধানের মূল বিষয় হওয়া উচিত,সম্পত্তিগুলো কবে কেনা হয়েছে, দলিলে কত মূল্য দেখানো হয়েছে, জমি ও ভবন নির্মাণে প্রকৃত ব্যয় কত, অর্থের উৎস কী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধ আয় ও আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে এসব ব্যয়ের কোনো অসংগতি রয়েছে কি না।

প্রয়োজনে যাচাই করা যেতে পারে আয়কর বিবরণী, ব্যাংক লেনদেন, ঋণের নথি, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদের কাগজপত্র এবং সম্পত্তি ক্রয় ও নির্মাণের সময়কার আর্থিক নথি। তবে এসব তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করতে হবে আইনসম্মত পদ্ধতিতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জবাব দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে।

একই সঙ্গে সওজের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া যেতে পারে, ফারুকের পদ, চাকরিতে যোগদানের সময়, প্রযোজ্য বেতন-ভাতা এবং সম্পত্তিসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ বা দাপ্তরিক অনুসন্ধান রয়েছে কি না। অভিযোগের ভিত্তি ও প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী তদন্তের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।

 

বক্তব্য চাইতে যোগাযোগ, অফিসে গিয়েও মেলেনি ব্যাখ্যা!

 

সম্পত্তিসংক্রান্ত তথ্য ও উত্থাপিত প্রশ্নের বিষয়ে ফারুকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপেও প্রশ্ন লিখে পাঠিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদকের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বার্তা দেখার পর যোগাযোগের মাধ্যমটি ব্লক করে দেওয়া হয়। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিকেরা সওজের সার্কেল মেকানিক্যাল অফিসে গেলে ফারুক তাঁদের দেখে সেখান থেকে চলে যান বলে প্রতিবেদকের দেওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে। ওই সময় তাঁকে পাওয়া না যাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। একই কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক বক্তব্য সংগ্রহ করা যায়নি।

তবে ফারুকের বক্তব্য পাওয়া না যাওয়াকে অভিযোগের সত্যতা সন্দেহজনক। সম্পত্তির মালিকানা, অর্থের উৎস ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্যও পাওয়া গেলে তা প্রকাশের সুযোগ থাকবে।

 

নতুন বাজারের তিনতলা ভবন, ‘লতিফ ভিলা’ এবং ফিসারি রোডের জমির প্রকৃত মালিক কারা?এসব সম্পত্তি কখন কেনা হয়েছে এবং নিবন্ধিত দলিলে কী মূল্য উল্লেখ রয়েছে?জমি কেনা, ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য ব্যয়ের অর্থের উৎস কী?সম্পত্তিগুলোর সঙ্গে ফারুকের আইনগত বা আর্থিক সম্পর্কের পক্ষে কী নথি রয়েছে?ভান্ডারিয়ার ইকরি এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পত্তির প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানা ও অর্থায়নের উৎস কী?উত্থাপিত তথ্যের বিষয়ে সওজ কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য, যাচাই বা দাপ্তরিক অনুসন্ধান রয়েছে কি না?

তদন্ত ও নথিভিত্তিক যাচাইয়ের দাবি!

বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে জমি ও ভবনসংক্রান্ত যেসব তথ্য সামনে এসেছে, সেগুলোর সত্যতা নির্ধারণে অনুমান বা জনশ্রুতির পরিবর্তে নথিভিত্তিক অনুসন্ধান জরুরি। সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দলিল, ভূমি রেকর্ড, নির্মাণব্যয়ের হিসাব এবং প্রযোজ্য আর্থিক নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

প্রকাশিত তথ্য ও মূল্যসংক্রান্ত হিসাবগুলো এখনো স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ যাচাই করা হয়নি। ফারুকের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে,এমন তথ্যও এই প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত নয়। তাঁর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।