০৫:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জনগণই আন্দোলনই ক্ষমতার চাবিকাঠি- বাংলাদেশি রাজনীতির নতুন পাঠ! নেত্রকোনায় সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জেজেইউ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ ঠিকাদারি কাজ, কথিত কমিশন ও সাংবাদিকদের ভূমিকা! বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলে কারা প্রভাব বিস্তার করছে? নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়নে ‘লটারি’ নিয়ে প্রশ্ন! স্বজনপ্রীতি, গ্রুপিং ও ঘুষের অভিযোগ,নীরব কেন কর্তৃপক্ষ? বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে আইনজীবীর ওপর হামলা! ভূমিদস্যু ও ফ্যাসিস্ট নিকুঞ্জ বালা পলাশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন! প্রতারণার মামলায় কর পরিদর্শক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কারখানার প্রবেশপথ বন্ধের অভিযোগ, ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি! জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে জেজেইউর তীব্র নিন্দা! সর্বস্তরে ইসলামের আদর্শের দাওয়াত পৌঁছানোর আহ্বান মুয়াযযম হোসাইন হেলালের! চাকরি ছাড়ার পরও বেতন তোলার তদবিরের অভিযোগ, চরফ্যাশনের মাদ্রাসায় তোলপাড়!

জনগণই আন্দোলনই ক্ষমতার চাবিকাঠি- বাংলাদেশি রাজনীতির নতুন পাঠ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকাল এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ভিন্নধর্মী মডেলের জন্ম দিয়েছে। এই সময়কালে ক্ষমতার কেন্দ্রে যেমন ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশ্নহীন ও দৃঢ় কর্তৃত্ব, তেমনি বিপরীত মেরুতে দৃশ্যমান ছিল প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সুনির্দিষ্ট রণকৌশলগত দুর্বলতা। এই দ্বিবিধ মেরুকরণ দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের চিত্রকে দীর্ঘকাল একতরফা ও স্থবির করে রেখেছিল।

 

বিএনপির ১৫ বছরের কৌশলগত ভ্রান্তি ও ক্ষমতার অবরুদ্ধতা!

 

দীর্ঘ দেড় দশকের এই দীর্ঘ সময়ে, বিএনপি জনগণের প্রাত্যহিক ও মৌলিক সমস্যাগুলোকে রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে সামনে এনে একটি কার্যকর ‘জনসম্পৃক্ত আন্দোলন‘ তৈরি করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়। তাদের আন্দোলন কৌশল মূলত সীমাবদ্ধ ছিল দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথ দখল এবং স্রেফ ক্ষমতার পালাবদলের সনাতনী চেষ্টার মধ্যে।

 

একটি রাষ্ট্রযন্ত্রের বিপরীতে এই ধরনের দল-আশ্রিত আন্দোলনকে ক্ষমতাসীন সরকার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও নিজস্ব দলীয় ক্যাডারদের মাধ্যমে সহজেই দমন করতে সক্ষম হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায়, আওয়ামী লীগ পরপর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন সম্পন্ন করে দেশ পরিচালনা করতে পেরেছিল; কারণ বিরোধী শিবির এর বিপরীতে কোনো গণ-আঙ্গিনা বা অপ্রতিরোধ্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারেনি। এই কৌশলগত ব্যর্থতাই বিএনপিকে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতার বাইরে রাখে এবং আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ আধিপত্যকে সুসংহত করে।

 

‘জুলাই বিপ্লব’- ক্ষমতার পালাবদলে জনসম্পৃক্ততার অমোঘ শক্তি!

 

তবে, রাজনীতির চেনা সমীকরণ সম্পূর্ণ উল্টে দেয় ২০২৩ সালের শেষ ভাগ থেকে শুরু হওয়া এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ে চূড়ান্ত রূপ পাওয়া ‘জুলাই বিপ্লব’ বা গণ-আন্দোলন। এটি ছিল দল-নির্ভর রাজপথ দখলের ব্যর্থ চেষ্টার বিপরীতে দেশের আপামর সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সৃষ্ট একটি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান। এই অভূতপূর্ব জনসম্পৃক্ত আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয় এবং তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে।এই মহাজাগরণের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব এককভাবে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়। এটি ছিল দেশের অন্তর্নিহিত অর্থনৈতিক সংকট, তীব্র নাগরিক অসন্তোষ এবং দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভের এক সম্মিলিত ও বিস্ফোরক বহিঃপ্রকাশ। তবে এই বিপ্লব-উত্তর বাস্তবতায় বিএনপি নিঃসন্দেহে একটি সুবিধাজনক রাজনৈতিক অবস্থানে চলে এসেছে। জনগণের অবদমিত আকাঙ্ক্ষার অবিকল্প প্রতিধ্বনি হিসেবে তারা এখন পরবর্তী সরকার গঠনের অন্যতম প্রধান দাবিদার।

 

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি- আওয়ামী লীগের বিপরীতমুখী পদস্খলন!

 

 

ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায়টি রচিত হচ্ছে বর্তমানে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এখন ঠিক সেই পুরোনো ও ব্যর্থ বিএনপির পথেই হাঁটতে শুরু করেছে। তারা এখন জনগণকে সম্পৃক্ত করে কোনো বৃহত্তর ও টেকসই আন্দোলন গড়ে তোলার পরিবর্তে, তাদের অবশিষ্ট দলীয় নেতাকর্মীদের গোপনে বা প্রকাশ্যে সংগঠিত করে রাজপথ দখলের মাধ্যমে রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছে। এটি একটি আত্মঘাতী এবং ভুল কৌশল, যা প্রমাণ করে,আওয়ামী লীগ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

 

দূরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য ফলাফল!

 

আওয়ামী লীগের এই জনবিচ্ছিন্ন জেদের ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিএনপিই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে। আওয়ামী লীগ যদি জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলোকে (যেমন, সুশাসন, সংস্কার ও অর্থনৈতিক সংকট) উপেক্ষা করে শুধুমাত্র তার দলীয় শক্তি প্রদর্শনে মনোযোগ দেয়, তবে তা সাধারণ মানুষের সাথে তাদের দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এই পরিস্থিতি বিএনপিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য একচ্ছত্র দেশ পরিচালনার ঐতিহাসিক সুযোগ করে দিতে পারে।

রাজনীতিবিদদের জন্য শেষ বার্তা!

 

এদেশের রাজনীতিবিদদের এখন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করা জরুরি: শুধুমাত্র দলীয় কর্মীদের পেশীশক্তি দিয়ে রাজপথ দখলে রেখে ক্ষমতার পরিবর্তন বা নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা দীর্ঘস্থায়ী করা যায় না। ক্ষমতা অর্জন এবং রাজনৈতিক বৈধতার একমাত্র মোক্ষম হাতিয়ার হলো জনগণকে আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করা।একটি রাজনৈতিক দল তখনই জনগণের হৃদয়ে স্থান পায়, যখন তারা দেশের অন্তর্নিহিত সমস্যা,যেমন: দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব ও নাগরিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলে। এই পথেই কেবল রাজনৈতিক দলগুলো পরবর্তীতে সম্মানের সাথে ক্ষমতার আসনে বসতে পারে এবং দীর্ঘকাল জনগণের অটুট আস্থা ধরে রাখতে পারে।

লেখক পরিচিতি,আরিফ রহমান, লেখক ও গবেষক, আজীবন সদস্য, জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট,যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম। প্রয়োজনে – ০১৭১১৭৮৩৬৭৮

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনগণই আন্দোলনই ক্ষমতার চাবিকাঠি- বাংলাদেশি রাজনীতির নতুন পাঠ!

আপডেট সময় : ০২:০২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকাল এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ভিন্নধর্মী মডেলের জন্ম দিয়েছে। এই সময়কালে ক্ষমতার কেন্দ্রে যেমন ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশ্নহীন ও দৃঢ় কর্তৃত্ব, তেমনি বিপরীত মেরুতে দৃশ্যমান ছিল প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সুনির্দিষ্ট রণকৌশলগত দুর্বলতা। এই দ্বিবিধ মেরুকরণ দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের চিত্রকে দীর্ঘকাল একতরফা ও স্থবির করে রেখেছিল।

 

বিএনপির ১৫ বছরের কৌশলগত ভ্রান্তি ও ক্ষমতার অবরুদ্ধতা!

 

দীর্ঘ দেড় দশকের এই দীর্ঘ সময়ে, বিএনপি জনগণের প্রাত্যহিক ও মৌলিক সমস্যাগুলোকে রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে সামনে এনে একটি কার্যকর ‘জনসম্পৃক্ত আন্দোলন‘ তৈরি করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়। তাদের আন্দোলন কৌশল মূলত সীমাবদ্ধ ছিল দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথ দখল এবং স্রেফ ক্ষমতার পালাবদলের সনাতনী চেষ্টার মধ্যে।

 

একটি রাষ্ট্রযন্ত্রের বিপরীতে এই ধরনের দল-আশ্রিত আন্দোলনকে ক্ষমতাসীন সরকার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও নিজস্ব দলীয় ক্যাডারদের মাধ্যমে সহজেই দমন করতে সক্ষম হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায়, আওয়ামী লীগ পরপর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন সম্পন্ন করে দেশ পরিচালনা করতে পেরেছিল; কারণ বিরোধী শিবির এর বিপরীতে কোনো গণ-আঙ্গিনা বা অপ্রতিরোধ্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারেনি। এই কৌশলগত ব্যর্থতাই বিএনপিকে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতার বাইরে রাখে এবং আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ আধিপত্যকে সুসংহত করে।

 

‘জুলাই বিপ্লব’- ক্ষমতার পালাবদলে জনসম্পৃক্ততার অমোঘ শক্তি!

 

তবে, রাজনীতির চেনা সমীকরণ সম্পূর্ণ উল্টে দেয় ২০২৩ সালের শেষ ভাগ থেকে শুরু হওয়া এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ে চূড়ান্ত রূপ পাওয়া ‘জুলাই বিপ্লব’ বা গণ-আন্দোলন। এটি ছিল দল-নির্ভর রাজপথ দখলের ব্যর্থ চেষ্টার বিপরীতে দেশের আপামর সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সৃষ্ট একটি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান। এই অভূতপূর্ব জনসম্পৃক্ত আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয় এবং তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে।এই মহাজাগরণের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব এককভাবে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়। এটি ছিল দেশের অন্তর্নিহিত অর্থনৈতিক সংকট, তীব্র নাগরিক অসন্তোষ এবং দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভের এক সম্মিলিত ও বিস্ফোরক বহিঃপ্রকাশ। তবে এই বিপ্লব-উত্তর বাস্তবতায় বিএনপি নিঃসন্দেহে একটি সুবিধাজনক রাজনৈতিক অবস্থানে চলে এসেছে। জনগণের অবদমিত আকাঙ্ক্ষার অবিকল্প প্রতিধ্বনি হিসেবে তারা এখন পরবর্তী সরকার গঠনের অন্যতম প্রধান দাবিদার।

 

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি- আওয়ামী লীগের বিপরীতমুখী পদস্খলন!

 

 

ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায়টি রচিত হচ্ছে বর্তমানে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এখন ঠিক সেই পুরোনো ও ব্যর্থ বিএনপির পথেই হাঁটতে শুরু করেছে। তারা এখন জনগণকে সম্পৃক্ত করে কোনো বৃহত্তর ও টেকসই আন্দোলন গড়ে তোলার পরিবর্তে, তাদের অবশিষ্ট দলীয় নেতাকর্মীদের গোপনে বা প্রকাশ্যে সংগঠিত করে রাজপথ দখলের মাধ্যমে রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছে। এটি একটি আত্মঘাতী এবং ভুল কৌশল, যা প্রমাণ করে,আওয়ামী লীগ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

 

দূরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য ফলাফল!

 

আওয়ামী লীগের এই জনবিচ্ছিন্ন জেদের ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিএনপিই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে। আওয়ামী লীগ যদি জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলোকে (যেমন, সুশাসন, সংস্কার ও অর্থনৈতিক সংকট) উপেক্ষা করে শুধুমাত্র তার দলীয় শক্তি প্রদর্শনে মনোযোগ দেয়, তবে তা সাধারণ মানুষের সাথে তাদের দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এই পরিস্থিতি বিএনপিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য একচ্ছত্র দেশ পরিচালনার ঐতিহাসিক সুযোগ করে দিতে পারে।

রাজনীতিবিদদের জন্য শেষ বার্তা!

 

এদেশের রাজনীতিবিদদের এখন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করা জরুরি: শুধুমাত্র দলীয় কর্মীদের পেশীশক্তি দিয়ে রাজপথ দখলে রেখে ক্ষমতার পরিবর্তন বা নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা দীর্ঘস্থায়ী করা যায় না। ক্ষমতা অর্জন এবং রাজনৈতিক বৈধতার একমাত্র মোক্ষম হাতিয়ার হলো জনগণকে আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করা।একটি রাজনৈতিক দল তখনই জনগণের হৃদয়ে স্থান পায়, যখন তারা দেশের অন্তর্নিহিত সমস্যা,যেমন: দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব ও নাগরিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলে। এই পথেই কেবল রাজনৈতিক দলগুলো পরবর্তীতে সম্মানের সাথে ক্ষমতার আসনে বসতে পারে এবং দীর্ঘকাল জনগণের অটুট আস্থা ধরে রাখতে পারে।

লেখক পরিচিতি,আরিফ রহমান, লেখক ও গবেষক, আজীবন সদস্য, জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট,যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম। প্রয়োজনে – ০১৭১১৭৮৩৬৭৮