সিলভার রঙের গাড়িতে তুলে নেওয়া, অস্ত্রের ভয় দেখানোর অভিযোগ-আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে!
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এক নারীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় দায়ের করা এজাহারে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী সুরমা আক্তার দাবি করেছেন, অভিযুক্তরা তার স্বামীর পূর্বপরিচিত। গত ২০ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ৯টা ৫০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন,মোহাম্মদ আব্দুল বায়েছ চৌধুরী (৪৫), আবুল কালাম (৩৯) ও কাজী রাজীব (৪২)। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
গাড়িতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ!
এজাহারে সুরমা আক্তার অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন আসামিরা তার স্বামীর বাড়িতে একটি সিলভার রঙের গাড়ি নিয়ে আসে। পরে তারা এলাকা ঘুরে সন্ধ্যার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যায়। কিছু সময় পর তিনি দোকানে যাওয়ার পথে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ওই গাড়িটি দেখতে পান।অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়িতে থাকা একজন তাকে ডাক দিলে তিনি কাছে যান। এ সময় অন্য দুই ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়। এ সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চিৎকার না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ!
ভুক্তভোগীর দাবি, তাকে চোখ বেঁধে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।পরে অভিযুক্তদের কয়েকজন তাকে একটি কক্ষে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারে ওই নারী আরও অভিযোগ করেন, সেখানে তার ওপর যৌন নির্যাতন করা হয় এবং একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে কী ঘটেছে সে বিষয়ে তার স্পষ্ট স্মৃতি নেই বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
অসুস্থ থাকায় এজাহারে বিলম্ব!
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর স্বামী তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি দুই দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।এজাহারে আরও বলা হয়, অসুস্থ থাকার কারণে অভিযোগ দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।ঘটনার বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। তাদের বক্তব্য বা পুলিশের তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এজাহারে সংযুক্ত নথিতে পাওয়া যায়নি