চেয়ার নিয়ে দুই নেতার পদ স্থগিত, অথচ আ’লীগ নেতাদের বিএনপি নেতাদের চেয়ারে বসানোর ঘটনায় ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে আপ্যায়ন ও দলীয় নেতাদের নির্ধারিত চেয়ারে বসিয়ে আড্ডা দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে ওই কার্যালয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্ধারিত চেয়ারে বসার অভিযোগে দুই বিএনপি নেতার সাংগঠনিক পদ সাময়িক স্থগিত হওয়ায় ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের’ অভিযোগ তুলেছেন নেতাকর্মীরা।
উপজেলা বিএনপির ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের একটি চিঠি সূত্রে জানা যায়, গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন এবং ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আবু বক্করের সাংগঠনিক পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্ধারিত চেয়ারে বসার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে একই কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের গুঠিয়া ইউনিয়ন কমিটির সহ-সভাপতি জগলু মাস্টার ও মিজানুর রহমানকে ওই চেয়ারে বসিয়ে আপ্যায়ন ও খোশমেজাজে আড্ডা দেওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয় নেতাকর্মীদের। ছবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি টাঙানো কার্যালয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে বসে থাকতে দেখা যায়।নেতাকর্মীদের প্রশ্ন,দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির কর্মীরা নির্ধারিত চেয়ারে বসলেই যদি সাংগঠনিক শাস্তির মুখে পড়তে হয়, তাহলে একই চেয়ারে আওয়ামী লীগের নেতাদের বসিয়ে আপ্যায়ন করার ক্ষেত্রে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?অভিযোগ উঠেছে, গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শাহীন হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক লাবলু চাপরাশির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তৃণমূলের একাংশের।
ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, কৃষক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা চেয়ারে বসলেই যদি অপরাধ হয়, তাহলে দলীয় নেতাদের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতাদের একই চেয়ারে বসিয়ে আপ্যায়ন করা কীভাবে অপরাধের বাইরে থাকে? এটি স্পষ্ট বৈষম্য।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, দলীয় শৃঙ্খলার কথা বলে তৃণমূলের কর্মীদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে,এমন অভিযোগে জড়িত প্রভাবশালী নেতাদের ক্ষেত্রে নীরবতা দেখা যাচ্ছে।
তাদের ভাষ্য,শৃঙ্খলা সবার জন্য সমান না হলে তৃণমূলের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়বে।এ বিষয়ে গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শাহীন হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক লাবলু চাপরাশির বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে!অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা বিএনপির বক্তব্যও জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।