নিজস্ব প্রতিবেদক।। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে বিপুল অঙ্কের মর্টগেজ সম্পত্তি বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের মর্টগেজ সম্পত্তি সম্প্রতি বেচাকেনার মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী চক্র বিপুল আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

 

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাসেল মজুমদার,যিনি চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সৈয়দ আহমেদ মজুমদারের ছেলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আততীয় সজন, হোসেন, নুর ইসলাম, জনাব কালাম কাজি, রাজিবসহ আরও ১০-১৫ জনের একটি চক্র জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয়দের দাবি, কথিত এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে রাসেল মজুমদারের নাম ব্যবহার করে কথিত চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীর একাংশ।এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাসেল মজুমদার বিএনপির নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন,এমন অভিযোগও স্থানীয়দের কেউ কেউ করছেন। তিনি চিওড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ ও মালিকানা পরিবর্তনের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে কথিত মর্টগেজ সম্পত্তির বেচাকেনা যদি নিয়মবহির্ভূত হয়ে থাকে, তাহলে তা তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও ব্যাংকের স্বার্থ সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

এলাকাবাসীর দাবি,কথিত মর্টগেজ সম্পত্তির লেনদেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিষয়গুলো প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করুক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।