কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারীর ত্যাগ, সাহস ও পেশাগত সম্মান যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।
বিশেষ প্রতিবেদন।।সাইরেন বাজিয়ে যখন লাল রঙের ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি রাজপথে ছুটে চলে, তখন আতঙ্কের পাশাপাশি মানুষের মনে এক ধরনের স্বস্তিও তৈরি হয়। কারণ আগুন, সড়ক দুর্ঘটনা, ভবনধস, নৌদুর্ঘটনা কিংবা যেকোনো দুর্যোগে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে সবার আগে ছুটে যাওয়ার অন্যতম দায়িত্ব এই বাহিনীর।নিজের জীবনের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে আগুনের লেলিহান শিখার মধ্যে প্রবেশ করা, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ভবনে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করা, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহতদের বের করে আনা কিংবা দুর্ঘটনাকবলিত মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া,এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ প্রতিদিনই করে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুরো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে নিয়ে যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে, সেখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে, কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই কি পুরো প্রতিষ্ঠানের হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ন্যায়সংগত?
উত্তর হওয়া উচিত,না।
কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে, প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা হবে। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিগ্রস্ত বা প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে চিত্রিত করা ন্যায়বিচার, প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা এবং মাঠপর্যায়ের সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি সুবিচারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ,সেটিই এখন বিবেচনার বিষয়।
অভিযোগ আর প্রমাণ,এক বিষয় নয়।
দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো অভিযোগ নিঃসন্দেহে গুরুতর। এসব অভিযোগ সামনে এলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি।তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখা দরকার,অভিযোগ ওঠা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতেই পারে। কিন্তু তদন্ত, নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই না করে কাউকে চূড়ান্তভাবে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বা ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।আর একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে পুরো প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একই অভিযোগের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা আরও বড় অন্যায়।
কালবেলার প্রতি মানুষের আস্থা আছে, তাই দায়িত্বও বেশি!
দেশের গণমাধ্যমে কালবেলা ইতোমধ্যে একটি পরিচিত ও প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হিসেবে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের প্রত্যাশা,গুরুত্বপূর্ণ কোনো অভিযোগ সামনে এলে তারা তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে সত্য তুলে ধরবে।
সেই জায়গা থেকেই একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়,কোনো ক্যাডার কর্মকর্তা সম্পর্কে মন্তব্য বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কি আরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল না?দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরে শুধু প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা নন, বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি কাঠামোয় পদায়ন, দায়িত্ব বণ্টন, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের বিষয়গুলো নির্দিষ্ট বিধি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।
কোনো কর্মকর্তা পদোন্নতি পেলে তাকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্যই তো কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানে পদায়ন করতে হয়। সে ক্ষেত্রে কোনো ক্যাডার কর্মকর্তার কোনো অধিদপ্তরে পদায়ন হয়েছে,এটিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ হয়ে যেতে পারে না।প্রশ্ন থাকলে প্রশ্ন উঠুক, তদন্ত হোক,কিন্তু প্রশাসনিক পদায়নকে সরাসরি অপরাধের সঙ্গে এক করে দেখা কি যথাযথ?
নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ,তদন্ত হোক, সত্য বেরিয়ে আসুক!
সরকারি চাকরির নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কেউ যদি সত্যিই চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণ করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।কিন্তু একই সঙ্গে অভিযোগটির সত্যতা যাচাই করাও জরুরি।ব্যাংক লেনদেন, চেক, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের তথ্য, কল রেকর্ডের আইনসঙ্গত যাচাই, অডিও-ভিডিও, লিখিত যোগাযোগ, সরকারি নথি, নিয়োগ পরীক্ষার রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য,সবকিছু মিলিয়ে তদন্ত করতে হবে।
অভিযোগ সত্য হলে দায়ী ব্যক্তি শাস্তি পাবেন,এটাই স্বাভাবিক।আবার অভিযোগের পেছনে যদি ব্যক্তিগত বিরোধ, আর্থিক দ্বন্দ্ব, প্রতিহিংসা কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা থাকে, সেটিও তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।কারণ সংবাদে অভিযোগ প্রকাশের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো,অভিযোগের সত্যতা নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা।
সম্পদের অভিযোগেও দরকার নথিভিত্তিক যাচাই!
কোনো কর্মকর্তার নামে বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি, গাড়ি কিংবা অন্য কোনো সম্পদের তথ্য সামনে এলেই প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু শুধু সম্পদের পরিমাণ দেখিয়ে কাউকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত করা যথেষ্ট নয়।দেখতে হবে,সম্পদটি কখন কেনা হয়েছে?অর্থের উৎস কী?ব্যাংক ঋণ আছে কি না?আয়কর নথিতে তার উল্লেখ আছে কি না?সম্পদটি নিজের নামে নাকি পরিবারের অন্য সদস্যের নামে?ব্যক্তির ঘোষিত আয় ও সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না?যদি নথিপত্রে অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
কিন্তু বৈধ আয়ে অর্জিত সম্পদকে শুধুমাত্র অনুমান বা প্রশ্নের ভিত্তিতে অবৈধ হিসেবে উপস্থাপন করাও সমানভাবে অনুচিত।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে আবেগ নয়,প্রমাণই হতে হবে মূল ভিত্তি।
বদলি নিয়ে অভিযোগ-প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতাও দেখতে হবে!
সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি ও পদায়ন নিয়ে নানা সময়ে নানা অভিযোগ ওঠে। ফায়ার সার্ভিসও তার বাইরে নয়।কিন্তু কোনো কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একটি এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন,শুধু এই তথ্যই তাকে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়।পদায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রয়োজন, বিশেষায়িত দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, দায়িত্বের ধরন, জনবল সংকট, দাপ্তরিক আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত,এসব বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়।
যদি কেউ নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রভাব খাটিয়ে বদলি ঠেকিয়ে থাকেন বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদায়ন নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত।কিন্তু প্রতিটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে দুর্নীতি হিসেবে দেখার প্রবণতাও বন্ধ হওয়া দরকার।
ফায়ার ফাইটারদের আত্মত্যাগ কি আমরা ভুলে যাব?
একজন ফায়ার ফাইটার যখন আগুনের সামনে দাঁড়ান, তখন তিনি প্রথমে দেখেন একজন বিপদগ্রস্ত মানুষকে।সেখানে তার সামনে থাকে না রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক মর্যাদা কিংবা ব্যক্তিগত সুবিধার হিসাব।আগুনের তীব্রতা, ধোঁয়া, বিস্ফোরণের আশঙ্কা, ভবন ধসের ঝুঁকি,সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে একজন মানুষকে বাঁচাতে এগিয়ে যান তারা।দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত অনেক সদস্য রাতের পর রাত জরুরি কলের অপেক্ষায় থাকেন। কোনো উৎসব, রাতের ঘুম কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করেন।
তাই কোনো একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেই অভিযোগের তদন্ত অবশ্যই হোক। কিন্তু সেই অভিযোগের দায় মাঠপর্যায়ের হাজারো সৎ, পরিশ্রমী ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী সদস্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আত্মহত্যার ঘটনা-অভিযোগ নয়, সত্য উদঘাটন জরুরি!
কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর আত্মহত্যার ঘটনা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও সংবেদনশীল।পরিবারের পক্ষ থেকে যদি চাকরি, আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে অভিযোগ করা হয়, তাহলে তদন্তকারী সংস্থার উচিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা।তবে একই সঙ্গে আত্মহত্যার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় চূড়ান্ত তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে দায়ী করে দেওয়া থেকেও বিরত থাকা প্রয়োজন।কারণ সত্য উদঘাটনের জন্য প্রয়োজন সব পক্ষের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেনের তথ্য, নথিপত্র, যোগাযোগের প্রমাণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় যাচাই।চুড়ান্ত সত্য বেরিয়ে আসুক,কিন্তু তদন্তের আগেই যেন রায় হয়ে না যায়।
একজনের দায় পুরো বাহিনীর নয়!
একজন চিকিৎসক অপরাধ করলে পুরো চিকিৎসক সমাজ অপরাধী হয় না।একজন পুলিশ সদস্য অনিয়ম করলে পুরো পুলিশ বাহিনী অপরাধী হয় না।একজন সরকারি কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়ালে পুরো সরকারি প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে যায় না।তাহলে ফায়ার সার্ভিসের কোনো একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পুরো ফায়ার সার্ভিসকে কেন একই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে?ব্যক্তির দায় ব্যক্তির। প্রতিষ্ঠানের দায় প্রতিষ্ঠানের।এই মৌলিক পার্থক্যটিই আমাদের বুঝতে হবে।
মহাপরিচালকের বক্তব্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন!
অভিযোগের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক তদন্তের কথা জানিয়েছেন এবং তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন,এ ধরনের বক্তব্য থাকলে সেটিও সংবাদে যথাযথ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।কারণ এতে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট,অভিযোগকে সরাসরি অস্বীকার করে তদন্তের পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে না।বরং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্যতা যাচাইয়ের কথা বলা হচ্ছে।তাহলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত করার প্রয়োজন কোথায়?তদন্ত হোক। প্রমাণ বের হোক। দায়ী ব্যক্তি চিহ্নিত হোক। তারপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হোক।এটাই হতে পারে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন জরুরি, ভারসাম্যও তেমন জরুরি!
দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অপরিহার্য।সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম থাকলে গণমাধ্যম তা তুলে ধরবে,এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার শক্তি শুধু অভিযোগ প্রকাশে নয়; বরং প্রমাণ যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং সত্যের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরার মধ্যেই।অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য কী?তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে?অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে?অভিযোগের বিপরীতে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে?সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী বলছে?এসব প্রশ্নের উত্তরও পাঠকের সামনে থাকা প্রয়োজন।কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে একটি অভিযোগ মুহূর্তের মধ্যে হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। পরে অভিযোগ মিথ্যা, আংশিক সত্য কিংবা অতিরঞ্জিত প্রমাণিত হলেও যে সামাজিক ও পেশাগত ক্ষতি হয়, তা সবসময় সহজে পূরণ করা সম্ভব হয় না।
ফায়ার সার্ভিসকে দুর্নীতিমুক্ত করতে কী করা প্রয়োজন?
ফায়ার সার্ভিসের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা আরও শক্তিশালী করতে হলে কয়েকটি বিষয়ে কঠোরভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন,প্রথমত: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা আরও বাড়াতে হবে।দ্বিতীয়ত: নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন সংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।তৃতীয়ত: অভিযোগকারীর বক্তব্যের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্যও যথাযথভাবে গ্রহণ করতে হবে।চতুর্থত: সম্পদের অভিযোগ হলে সরকারি নথি, আয়কর তথ্য ও বৈধ আয়ের উৎস যাচাই করতে হবে।পঞ্চমত: অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত ও দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।ষষ্ঠত: অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।সপ্তমত: প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কোনো গ্রুপিং, ক্ষমতার অপব্যবহার বা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ থাকলে সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।
শেষ কথা,দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোরতা, নির্দোষের প্রতি ন্যায়!
ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক,এটাই প্রত্যাশা।কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিদিন নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে রেখে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
একজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কারণে তাদের ত্যাগ, সাহস, সততা ও পেশাগত মর্যাদা যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।দুর্নীতিবাজ থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানও চাই।অভিযোগের তদন্ত চাই।কিন্তু তদন্তের আগেই রায় চাই না।ফায়ার সার্ভিসের লাল পোশাক শুধু একটি ইউনিফর্ম নয়,বিপদের মুহূর্তে এটি সাধারণ মানুষের কাছে ভরসার প্রতীক।সেই প্রতীকের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে একদিকে যেমন দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে তেমনি কয়েকজনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুরো বাহিনীকে কালিমালিপ্ত করার প্রবণতাও বন্ধ করতে হবে।
সত্য বেরিয়ে আসুক,প্রমাণের ভিত্তিতে।দায়ী ব্যক্তি শাস্তি পাক,আইনের ভিত্তিতে।আর নির্দোষ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সম্মান নিয়ে কাজ করার অধিকার ফিরে পান,ন্যায়ের ভিত্তিতে।
ব্যক্তির দায় ব্যক্তির,পুরো প্রতিষ্ঠানের নয়।অভিযোগ উঠুক, তদন্ত হোক, সত্য প্রকাশ হোক,কিন্তু অভিযোগকে প্রমাণ এবং তদন্তকে রায়ের সঙ্গে এক করে দেখা হোক না।