বিশেষ প্রতিনিধি।।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স,যেখানে মানুষের জীবন বাঁচানোই প্রধান দায়িত্ব, সেখানে যদি নিয়োগ-বদলি আর প্রভাব বিস্তারের খেলা চলে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই,আগুন নেভাবে কে, আর দুর্নীতির আগুন নেভাবে কে?সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিনকে ঘিরে উঠেছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইলসহ নানা কর্মকাণ্ডে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
অভিযোগ আরও গুরুতর,২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩,৫০০ ফায়ার ফাইটার ও ড্রাইভার নিয়োগকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের নেপথ্যে মহিউদ্দিনকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে দেখছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণ।
একসময় ক্ষমতাধর মহলের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ থাকলেও সময় বদলেছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বদলির মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগকারীদের দাবি, এখন পুরনো পরিচয় ঝেড়ে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে আবারও গুরুত্বপূর্ণ পদে ফেরার জন্য চলছে জোর তদবির।
অর্থাৎ, চেয়ার বদলালেও কি খেলা বদলায়নি?,প্রশ্নটা এখন সংশ্লিষ্টদের।আরও অভিযোগ রয়েছে, নারীঘটিত একটি ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিসের বর্তমান প্রশাসন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভিত্তিহীন সংবাদ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসবের পেছনে মহিউদ্দিন ও তার অনুসারীদের ভূমিকা রয়েছে।তাদের অভিযোগ, ভয়ভীতি, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমান প্রশাসনের স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কথিত ‘বাণিজ্যের রাস্তা’ বন্ধ হওয়াতেই একটি মহল প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মরিয়া,এমন দাবিও করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-অভিযোগগুলো কি শুধুই অভিযোগ, নাকি এর পেছনে রয়েছে সত্যিকারের কালো খাতা?
তার উত্তর দিতে প্রয়োজন প্রশাসনিক নয়,মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।কারণ ফায়ার সার্ভিসে আগুন নেভানোর দায়িত্ব যাদের,তাদের প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই যদি দুর্নীতির আগুন জ্বলে, তাহলে সেই আগুন নেভাবে কে?
প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ও দাবি হিসেবে উপস্থাপিত। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়াই সমীচীন।