২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে রোববার ফুটবল বিশ্বের সব নজর থাকবে নিউ ইয়র্কে। আর এর মাঝেই চার বছর পরের বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায় হবে- তা নিয়েও শুরু হয়ে গেছে নেপথ্যের লড়াই।
২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। এছাড়া বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতেও হবে কিছু ম্যাচ। টুর্নামেন্টের ফাইনাল কোন স্টেডিয়ামে হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনও জানায়নি ফিফা।
মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম ছবি: সংগৃহীত
আর সেই সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে আনার জন্য এরই মধ্যে শুরু হয়েছে স্পেন ও মরক্কোর কূটনৈতিক ও ক্রীড়া-রাজনীতির লড়াই।
স্পেনের দাবি, ফাইনাল হবে তাদের দেশের মাঠেই। অন্যদিকে মরক্কোও জোরালোভাবে চাইছে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আয়োজন করতে। সেই লক্ষ্যেই কাসাব্লাঙ্কার বাইরে তারা নির্মাণ করছে ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার হাসান-২ স্টেডিয়াম।
প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি) ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই স্টেডিয়াম তৈরি হলে সেটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়াম। আগামী বছরের শেষ দিকে এর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা।
আর স্পেনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য দুটি ভেন্যু হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ও বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু। সংস্কারের পর বার্নাব্যুর ধারণক্ষমতা এখন ৮৩ হাজার। সংস্কারকাজ চলমান ক্যাম্প ন্যুর ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে করা হবে ১ লাখ ৫ হাজার।
শুরু হয়ে গেছে লবিং
বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের লড়াইয়ের প্রথম প্রকাশ্য বার্তা আসে গত জানুয়ারিতে। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) সভাপতি রাফায়েল লুসান দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল স্পেনেই হবে।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘বহু বছর ধরেই বড় টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজনের অভিজ্ঞতা রয়েছে স্পেনের। তাই ২০৩০ বিশ্বকাপের নেতৃত্বও দেবে স্পেন এবং ফাইনালও হবে এখানেই।’
একই সঙ্গে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের কিছু বিশৃঙ্খল ঘটনার প্রসঙ্গও টেনে আনেন লুসান। তার মতে, ওই টুর্নামেন্টের কয়েকটি ঘটনা শুধু আফ্রিকা কাপ নয়, বিশ্ব ফুটবলের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাবাতে আফ্রিকা কাপের এক ম্যাচে সেনেগালের কাছে মরক্কোর হারের পর গ্যালারিতে সহিংসতা, বলবয়দের আচরণ নিয়ে বিতর্কেরর পাশাপাশি ম্যাচ চলাকালে সাময়িক ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে।
ম্যাচটি হয়েছিল সদ্য নির্মিত ৬৯ হাজার ৫০০ আসনের প্রিন্স মৌলে আবদাল্লাহ স্টেডিয়ামে।
প্রকাশ্যে নীরব, নেপথ্যে তৎপর মরক্কো
মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের প্রভাবশালী সভাপতি ফাউজি লেকজা অবশ্য প্রকাশ্যে এ নিয়ে মন্তব্য করেননি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি বলেছেন, ‘এখনও কোন ম্যাচ কোথায় হবে, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিন আয়োজক দেশ ও ফিফার আলোচনার মাধ্যমেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মরক্কোর নির্মাণাধীন হাসান-২ স্টেডিয়াম। ছবি: সংগৃহীত
তবে আফ্রিকান ফুটবলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কাসাব্লাঙ্কায় ফাইনাল আয়োজনের জন্য নেপথ্যে জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মরক্কো। আগামী মাসগুলোতে এই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
শেষ পর্যন্ত কাসাব্লাঙ্কা ফাইনালের ভেন্যু হলে, ২০১০ সালে জোহানেসবার্গের পর দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকার কোনো শহরে বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। সেই বিশ্বকাপেই জোহানেসবার্গে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন।
এর আগে ১৯৮২ সালে স্পেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়েছিল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। সেই ম্যাচে পশ্চিম জার্মানিকে ৩–১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ইতালি।