রফিকুল ইসলাম রাসেল।। ডা. অমিতাভ সরকার,যাঁর চিকিৎসাসেবায় আস্থাশীল দক্ষিণাঞ্চলের অসংখ্য মানুষ।বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য একজন দক্ষ নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ডা. অমিতাভ সরকার নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ একজন চিকিৎসক। স্ট্রোকসহ জটিল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীরা ভোলা, চরফ্যাশন, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালীসহ প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বরিশালে এসে তাঁর চিকিৎসা নিচ্ছেন,এ দৃশ্যই একজন চিকিৎসকের প্রতি মানুষের আস্থার বড় প্রমাণ।
কিন্তু সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে যেসব অভিযোগ, গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই না করে কাউকে বিভ্রান্ত করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না।সমালোচনা হতেই পারে, অভিযোগ থাকতেই পারে,কিন্তু অভিযোগ আর প্রমাণ এক জিনিস নয়।আর সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়,একজন চিকিৎসককে কেন্দ্র করে বরিশালের সাংবাদিক সমাজও যেন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত ও বিরক্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।সাংবাদিকতার কাজ কারও পক্ষে বা বিপক্ষে দাঁড়ানো নয়; সাংবাদিকতার কাজ হলো সত্য উদঘাটন করা।
কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক। তথ্য-প্রমাণ যাচাই হোক। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হোক। সত্যতা থাকলে তা প্রকাশিত হোক, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে অপপ্রচারের বিরুদ্ধেও সত্যটা তুলে ধরা হোক।কারণ একজন চিকিৎসকের সুনাম ক্ষুণ্ন করার প্রভাব শুধু ওই চিকিৎসকের ওপর পড়ে না,এর প্রভাব পড়ে তাঁর ওপর আস্থাশীল অসংখ্য রোগীর ওপরও।আজ আপনি হয়তো একটি ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করে বিষয়টি নিয়ে হাস্যরস করছেন,কিন্তু আগামীকাল আপনার বাবা-মা, স্বজন কিংবা প্রিয় কেউ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে আপনাকেই একজন দক্ষ চিকিৎসকের দরজায় ছুটতে হবে। তখন মনে রাখবেন,মিথ্যা অপপ্রচার কখনো চিকিৎসা দেয় না, চিকিৎসা দেয় দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও মানবিকতা।তাই আবেগ নয়, গুজব নয়, পক্ষ-বিপক্ষের প্রচারণাও নয়,দাবি একটাই,সত্যটা সামনে আসুক।ডা. অমিতাভ সরকার যদি কোনো অনিয়ম করে থাকেন, তথ্য-প্রমাণসহ তা প্রকাশ করা হোক।
আর যদি তাঁর বিরুদ্ধে ছড়ানো অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, তাহলে অপপ্রচারকারীদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।কোনো চিকিৎসকই আইনের ঊর্ধ্বে নন, আবার কোনো চিকিৎসককে প্রমাণ ছাড়া অপমান করার অধিকারও কারও নেই।বরিশালের সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান।
বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধান হোক, সব পক্ষের বক্তব্য প্রকাশিত হোক, সত্য উন্মোচিত হোক।গুজবের নয়,সত্যের জয় হোক।অপপ্রচারের নয়,বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জয় হোক।
মানবিক চিকিৎসকদের পথচলা নির্বিঘ্ন হোক।